যৌন নিপীড়ন অবজ্ঞা করা শিখে নিয়েছেন ভারতের দরিদ্র নারীরা: এইচআরডব্লিউ

আন্তর্জাতিক

ভারতের অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত বিপুল সংখ্যক নারী খুব কম সময়ই যৌন নিপীড়নের কথা প্রকাশ করে। অশ্লীল মন্তব্য থেকে শুরু করে যৌনতার প্রস্তাব পর্যন্ত প্রতিনিয়ত নানা ধরণের নিপীড়নের শিকার হতে হয় এসব নারীদের। বুধবার (১৪ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এর এক প্রতিবেদনে ভারতীয় নারীদের এই চিত্র উঠে এসেছে। এইচআরডব্লিউ বলছে, মি টু আন্দোলন শুরুর তিন বছর পরও ভারতীয় নারীদের এই চিত্র বদলায়নি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

ভারতের ৯৫ শতাংশ নারী অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত। রাস্তায় হকারি থেকে শুরু করে, কারখানার শ্রমিক, বাসাবাড়িতে কাজসহ নানা খাতে নিয়োজিত থাকা এসব নারী প্রতিনিয়ত নিপীড়নের শিকার হয়ে থাকে। কর্মক্ষেত্রে যৌন নিপীড়ন ঠেকাতে কমিটি গঠনের আইনি বাধ্যবাধকতা থাকার পরও এ অবস্থা চলছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

এইচআরডব্লিউ’র প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে সাড়া দেয়নি ভারতের নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রণালয়। ২০১৭ সালে মন্ত্রণালয়টি নিপীড়নের অভিযোগ নিতে একটি অনলাইন অভিযোগ বক্স স্থাপন করে। প্রথম দুই বছরে এতে ছয়শ’টি অভিযোগ জমা পড়ে।

রাজধানী দিল্লির বাইরে একটি আবাসিক ভবনে গৃহকর্মীর কাজ করতেন শালিনি নামে এক নারী। ওই ভবনের এক নিরাপত্তা রক্ষক মাসের পর মাস ধরে তাকে যৌন নিপীড়ন করেছে। ওই নারী জানান কথা বলার মতো অবস্থানে তিনি ছিলেনই না।

শালিনি নামের ওই নারী বলেন, ‘কোনও কোনও পরিবার নারীকেই দোষারোপ করে আর তাকে মারধর শুরু করে। নিয়োগকারীকে যদি বলা হয় তাহলে তারা কাজ থেকে ছাড়িয়ে দেয় পুলিশ তো আরও খারাপ। তারা সত্যিকার অর্থে জঘন্য প্রশ্ন করে।’ তিনি বলেন, ‘কেউ পাশে দাঁড়ায় না, বেশিরভাগ নারীই যেন বোতলে আটকা। তারা এগুলো অবজ্ঞা কিংবা স্বাভাবিক ভাবে নিতে শিখে গেছে।’

মি টু আন্দোলন শুরুর পর ভারতের প্রখ্যাত সাংবাদিক, চলচ্চিত্র তারকা এবং নির্বাহী পদে থাকা নারীরা যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে দেয়। তবে ভারতের প্রান্তিক এলাকায় এর প্রভাব খুবই সামান্য।

এইচআরডব্লিউ’র দক্ষিণ এশিয়া পরিচালক মিনাক্ষি গাঙ্গুলি বলেন, ‘মি টু আন্দোলন কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা ও হয়রানির ওপর আলো ফেলতে সাহায্য করেছে তবে ভারতের অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত লাখ লাখ নারীর অভিজ্ঞতা এখনও অদৃশ্য থেকে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘বস, সহকর্মী ও ক্লায়েন্টদের নিপীড়ন থেকে সুরক্ষায় ভারতের প্রগতিশীল আইন রয়েছে কিন্তু এসব আইন প্রয়োগের মৌলিক পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।’

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *