রংপুরে উপ-নির্বাচন পরবর্তী উত্তেজনা : হরিদেবপুর ইউপিতে পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকরা আতঙ্কে

সারাবাংলা

জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, রংপুর থেকে : পরাজিত প্রার্থীর নৌকা প্রতিক ভাঙচুর করায়, হরিদেবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগে অসন্তোষ বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থকদের দাপটে সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা কোনঠাসা। যে কোন মুহূর্তে সংঘর্ষের আশঙ্কায় ভীতি কাজ করছে। রংপুরের ৩ ইউনিয়নে সদ্য-সমাপ্ত নির্বাচনে বিজয়ী চেয়ারম্যান প্রার্থীদের সমর্থকরা আনন্দ উল্লাশ প্রকাশের এক পর্যায়ে পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে নানা ভয়ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। প্রায় প্রতিটি এলাকাতেই নির্বাচন পরবর্তী উত্তেজনা বিরাজ করলেও হরিদেবপুর ইউনিয়নে ইতিমধ্যে পরাজিত প্রার্থী একরামুল হকের নৌকা প্রতিক ভেঙে ফেলেছে নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেনের সমর্থকরা। নির্বাচনে সরকার দলীয় পরাজিত প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা পর্ষদের প্রধানের দেওয়া এক লিখিত অভিযোগে জানা যায়, বিজয়ী চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদে ও নির্দেশনায় উত্তর হরিদেবপুর এলাকার মৃত বাচান উদ্দিনের ছেলে আইয়ুব আলী, ওপাজ উদ্দিনের ছেলে জাহিদুল, মৃত কপিল উদ্দিনের ছেলে আনারুল, মৃত মনছুর আলীর ছেলে আবেজুল, মৃত আজিজার রহমানের ছেলে নুরুল আমিন চৌধুরী ও সোনা মিয়ার ছেলে ওহিদুল (ডাকাত) সহ আরও কতিপয় সাঙ্গ পাঙ্গরা একত্রিত হয়ে ২০ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে সদর কোতয়ালী থানাধীন মাষ্টার পাড়া গ্রামের জনৈক মনিরের মুদি দোকানের সামনে টাঙ্গানো, কাঠ বাঁশ ও কাপড় দিয়ে তৈরী বৃহৎ আকারের নৌকা প্রতিক ভেঙে তছনছ করে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের নৌকা প্রতিক ভেঙে ফেলার ঘটনা এবং নির্বাচনকালীন দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচার প্রচারণায় অংশ নেওয়া স্থানীয় নেতাকর্মীদের জানে মেরে ফেলার হুমকি ও তাদের পরিবার নিয়ে গালাগালী করার ঘটনায় ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে নৌকা প্রতিকের পক্ষে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া অনেকেই বিজয়ী প্রার্থী ও তার সমর্থকদের ভয়ে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন। সম্প্রতি নির্বাচিত এলাকাগুলোয় বসবাসরত ভোটারদের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক) ও বিভিন্ন ব্যক্তির মৌখিক অভিযোগে প্রাপ্ত তথ্যেও একই অবস্থার প্রতিফলন ঘটে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ৩টি ইউনিয়ন যথাক্রমেÑ হরিদেবপুর, চন্দনপাট ও সদ্যপুস্করনি যার ২টিতে সরকার দলীয় প্রার্থীর পরাজয় হলেও একটিতে নৌকা সমর্থীত আমিনুর রহমান বিজয়ী হয়। অপর দুইটি পরাজিত সরকার সমর্থীত প্রার্থীর সাধারণ ভোটাররা রয়েছেন আতঙ্কে। বিভিন্ন মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, সব চাইতে বেশী সংঘর্ষের আশংঙ্কা বিরাজ করছে, হরিদেবপুর ইউনিয়নে। এই ইউনিয়নের বিজয়ী প্রার্থী বিএনপি ও জামাত সমর্থিত ইকবাল হোসেন ইতিপূর্বেও ওই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান থাকায় এলাকায় তার প্রভাব বেশী। তার বিপরীতে নির্বাচনে অংশ নেওয়া একরামুল হক ভোটে পরাজিত হওয়ার পর থেকে তার সমর্থকরা রয়েছেন চরম আতঙ্কে। ইতোমধ্যে হরিদেবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়ি ছাড়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছে। ওই নেতাদের অনেকেরই জবানবন্দি একাধিক সংবাদিকের কাছে ভিডিও ফুটেজ আকারে রয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী ঘটনাবলি ছাড়াও হরিদেবপুর ইউনিয়নে নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়েরও নানা অভিযোগ উঠে এসেছে এসব অভিযোগকারী ভোটারদের জবানবন্দিতে। অনেকেই বলেন, নির্বাচনে ইকবাল চেয়ারম্যান অসংখ্যবার নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন, তিনিই একমাত্র প্রার্থী যিনি প্রকাশ্যে কালো টাকা ছড়িয়েছেন। টাকার বিনিময়ে রংপুর মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকবল ভাড়ায় এনে নিজ ইউনিয়নের সাধারণ ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজের প্রভাব বিস্তার করেন। অভিজ্ঞ মহলের মতে সদ্য-সমাপ্ত তিনটি ইউনিয়নের মধ্যে হরিদেবপুর ইউনিয়নে যে কোন মুহূর্তে বড় ধরনের সহিংসতা ঘটেতে পারে। উল্লেখিত প্রধান অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *