রংপুরে তিন ইউপি নির্বাচন তুমুল প্রচারণা

সারাবাংলা

জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, রংপুর ব্যুরো
রংপুরে জমে উঠেছে তিন ইউপি নির্বাচন। ভোট চাইতে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ছুটছেন প্রার্থীরা। নির্বাচনকে সামনে রেখে ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকার জনপদ সরগরম হয়ে উঠেছে। পোস্টার আর ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে প্রার্থীদের তৎপরতা ও ব্যস্ততা ততই বেড়ে চলছে। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি। ব্যাপক গণসংযোগ আর ভোট কেন্দ্রিক আলোচনা চলছে উপজেলার হাটবাজার, চা-দোকান এবং উঠান বৈঠকে। প্রতীক বরাদ্দের পরই চেয়ারম্যান-ইউপি সদস্য প্রার্থীরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তাদের সমর্থকরাও থেমে নেই। গানের ছন্দে, হাততালি দিয়ে মাইকে চলছে নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা। প্রার্থীর পক্ষে পোস্টারিং ও হ্যান্ডবিল বিতরণ করেছেন। সব মিলিয়ে তুমুল প্রচারণা করছেন প্রার্থীরা। অপরদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হোটেল ও চা দোকানিদের বাণিজ্যও বেশ জমে উঠেছে। এলাকায় অনেক ভ্রাম্যমাণ চা-দোকান গড়ে উঠেছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হোটেল-রেস্তোরাঁগুলো মানুষজন থাকে কানায় কানায় পরিপূর্ণ। চায়ের কাপেও ঝড় তুলছেন সাধারণ ভোটাররা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সর্বত্র গুঞ্জন, কারা হচ্ছেন ৩ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য? কাকে ভোট দিলে সাধারণ মানুষের উপকার হবে, এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হবে। এ নিয়ে চলছে বেশ আলাপ-আলোচনা। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে মোটরসাইকেল, অটোরিক্সা ও ভ্যানে মাইকসহ সদ্যপুস্করনী অলিতেগলিতে জাতীয় পার্টির মনোনিত লাঙ্গল প্রতীকের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ফজলুল হক ফুলবাবুর সমর্থকরা ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্য প্রার্থী আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোকছেদুর রহমান দুলু, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মন স্বাধীন থেমে নেই। চন্দনপাটের আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের আমিনুর রহমান, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের রুহুল আমিন লিটন ও বিএনপি মনোনীত মাহাফুজুল হক রুবেল নিজ নিজ কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। একই চিত্র ২নং হরিদেবপুর ইউনিয়নের নৌকা প্রতিক নিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. একরামুল হক এলাকা। দলীয় লোকজন মিলে জমিয়ে তুললেন ইউনিয়নবাসীকে। সেখানে চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন, নৌকা প্রতীকের একরামুল হক ও লাঙল প্রতীকের মফিজুল ইসলাম সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ডের সদস্য পদের চলছে তুমুল প্রচারণা। রংপুর সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, সদর উপজেলার হরিদেবপুর, চন্দনপাট ও সদ্যপুস্করনী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিন ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ১৬ জন, সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ৪৮ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ১২৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকলেও শুধুমাত্র একটি ইউনিয়নে বিএনপি, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন। এই নির্বাচনে ৩টি ইউনিয়নের ৩৯টি কেন্দ্রে ৮১ হাজার ৫৬১ জন ভোটার ভোট দেবেন। আগামী ২০ অক্টোবর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। হরিদেবপুর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ইকবাল হোসেন বলেন, পুনরায় নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের জলাবদ্ধতা নিরসন, বেকারত্ব দূরকরণ, কলকারখানা স্থাপন, প্রতিটি রাস্তাঘাটে বাতি স্থাপনের মাধ্যমে আলোকিত করা, বর্জ্য অপসারণের সমস্যাগুলো নিরসনে মাধ্যমে মডেল ইউনিয়নে রূপান্তরিত করা। চন্দনপাট ইউনিয়নের লাঙ্গল প্রতীকের জাতীয় পার্টির প্রার্থী রুহুল আমিন লিটন বলেন, এবার চন্দনপাট ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির জন্য খুবই উর্বর। চন্দনপাটের আমজনতা আমার সঙ্গে রয়েছে। অবশ্যই লাঙ্গল মার্কার বিজয় হবে। এদিকে আমজনতার দাবি যদি কালো টাকার খেলা না হয়, তাহলে সঠিক প্রার্থী নির্বাচন করতে পারবে। রংপুর সদর কোতোয়ালি থানার (ওসির দায়িত্বপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা বাবলু মিয়া জানান, নির্বাচন একটি উৎসব। এই উৎসব যেন সংঘাতে পরিণত না হয়। যদি কেউ নির্বাচনী বিধি-নিষেধ ভঙ্গ করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *