রংপুরে সব শহীদদের মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতির দাবিতে মানববন্ধন

সারাবাংলা

রংপুর ব্যুরো : ১৯৭১ সালে ২৮ মার্চ ঐতিহাসিক রংপুর ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও স্বাধীনতাকামী নিহত বীর সন্তানদের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতির দাবিতে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে নিহতদের পরিবার। রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় রংপুর প্রেসক্লাব চত্বরে ঐতিহাসিক ২৮মার্চ ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও নিহত পরিবারের সদস্যগণ এ মানববন্ধন অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। রংপুর ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও এর অন্যতম সংগঠক বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সত্তারের সভাপতিত্বে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, বীরমুক্তিযোদ্ধা ডা. মফিজুল ইসলাম নান্টু, রংপুর সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা বলরাম মহন্ত, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও শহীদ পরিবারের সদস্য আকতারুজ্জামান স্যান্ডো, বীরমুক্তিযোদ্ধা ডা. জিকরুল হকের ছেলে মজিবুল হক, বীরমুক্তিযোদ্ধা শেখ আমজাদ হোসেনের ছেলে শেখ খায়রুল আলম। এ সময় দুই শতাধিক শহীদ পরিবারের মা, স্ত্রী, বোন, ভাই এবং সন্তানেরা উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ মুক্তিপাগল, স্বাধীনতাপ্রিয় প্রতিবাদী রংপুরবাসী লাঠিসোঁটা, তীর-ধনুক নিয়ে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও করে জন্ম দিয়েছিল এক অনন্য ইতিহাসের। সেই দিন স্বাধীনতাকামী বীর সন্তানরা তীর-ধনুক, লাঠি, দা, কুড়াল নিয়ে ঐতিহাসিক ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও করেছিল। সেদিন সবার মুখে ছিল গগনবিদারী স্লোগান, এস ভাই অস্ত্র ধর, ক্যান্টনমেন্ট দখল কর। অসম সেই লড়াইয়ে পাক বাহিনীর ছোঁড়া মেশিন গানের গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছিলেন প্রায় দুই শতাধিক মুক্তিকামী বীর সন্তান। সেই দিন বীর সন্তানদের রক্তে রঞ্জিত হয়ে ছিলো রংপুরের মাটি। তারা বলেন, ১৯৭১ এর ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশে হানাদার মুক্ত হলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭৩ সালে প্রত্যেক শহীদ পরিবারকে দুই হাজার টাকার চেক ও শোক সম্মামনা পত্র প্রেরণ করে। ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকান্ডের পরবর্তীতে কোন সরকারেই শহীদ পরিবারের খোঁজ নেয়নি। মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, রংপুরের মুক্তিযোদ্ধকালীন ইতিহাস রক্ষায় সকল বধ্যভূমি, স্মৃতি সৌধ নির্মাণ করা হলেও ঐতিহাসিক বালারখালে জমি অধিগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়নি। তারা অতিবিলম্বে বালারখালে শহীদ স্মৃতি সৌধ নিমার্ণের দাবি জানান। মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি শেষে শহীদ পরিবারের সদস্যরা রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *