রংপুর মহানগরী দশ ঘণ্টার বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে

সারাবাংলা

জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, রংপুর ব্যুরো
টানা দশ ঘণ্টার বৃষ্টিতে রংপুর মহানগরীসহ জেলার অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া তলিয়ে গেছে অসংখ্য পুকুর ও মৎস্য খামার। নগরীর মহাসড়ক থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার অলিগলি সবখানেই পানিতে একাকার হয়ে পড়েছে। বাদ পড়েনি বাড়িঘরও। কোথাও কোমর পানি, আবার কোথাও হাঁটু পানি রয়ে গেছে। বাড়ি-ঘরে পানি প্রবেশ করায় নগরীর প্রায় ৩০হাজার মানুষ এখনও পানিবন্দি রয়েছে। এছাড়া অধিকাংশ নলকূপ পানি নিচে থাকায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পানিবন্দি এলাকায় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলরা মুড়ি, চিড়া গুরসহ শুকনো খাবার বিতরণ করছেন। রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানিয়েছে, শনিবার রাত ১০টা থেকে রোববার সকাল ১০টা পর্যন্ত ৪৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত একশ বছরেও হয়নি। এমন বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাত আরও দু’একদিন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে, রাতভর অবিরাম বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের একমাত্র অবলম্বন শ্যামা সুন্দরী ও কেডি ক্যানেল। ভেঙে পড়েছে নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থা। নিষ্কাশন সুবিধা না থাকায় পানিতেই চলছে যাতায়াত। নগরবাসী বলছেন ২৫-৩০ বছরেও এমন বৃষ্টিপাত দেখেননি। ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যাতেও রংপুরে এমন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি। পানিবন্দি মানুষদের উদ্ধার ও সড়কে উপড়েপড়া গাছ অপসরণে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাজ করছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, মহানগরীর নিচু এলাকাগুলোতে সবেচেয়ে বেশি পানি প্রবেশ করেছে। নগরীর শাপলা চত্বর, খলিফাপাড়া, হাজীপাড়া, চামড়াপট্টি, করণজাই রোড, সেনপাড়া, নিউ সেনপাড়া, আদর্শপাড়া, বাবুখাঁ, কামার পাড়া, জুম্মাপাড়া, কেরানীপাড়া, আলমনগর, হনুমান তলা, মুন্সিপাড়া, মুলাটোল আমতলা, গণেশপুর, বাবুপাড়া, লালবাগ কেডিসি রোড, রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, শালবন, মিস্ত্রিপাড়া, কামাল কাছনা, মাহিগঞ্জ, কলাবাড়ি দর্শনা, মর্ডান মোড়, মেডিকেল পাকার মাথা, জলকর, নিউ জুম্মাপাড়া, খটখটিয়াসহ শতাধিক পাড়া-মহল্লার মানুষজন জলাবদ্ধতায় রয়েছে। নিচু এলাকার বাড়িতে পানি প্রবেশ করায় হাজার হাজার পরিবার বাড়ি ঘর ছেড়ে বিভিন্ন উঁচুস্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। নিজ বাড়িতে রান্না করতে না পারায় দুর্ভোগে পড়েছেন মানুষজন। এদিকে, নতুন করে জেলার তিস্তা, করতোয়া, ঘাঘট, যমুনেশ্বরী নদীর নিম্নাঞ্চলে আবারও দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। এখনও তিস্তার ডালিয়া ও কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ভারি বর্ষণ ও আর বজ্রপাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কৃষি জমি, ফসল আর পুকুর-বিল তলিয়েছে পানিতে। অন্যদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্র জানিয়েছে, নগরীর পানি নিষ্কাশনের অন্যতম শ্যামা সুন্দরী ক্যানেল বৃষ্টিতে পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মানুষজন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তবে ক্যানেলের পানি কমে আসলে ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে পানিবন্দি এলাকাগুলো থেকে পানি নেমে যাবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *