রংপুর : ১৮ ইউপিতে ভোট নৌকার সম্ভাব্য প্রার্থী ১৩০

সারাবাংলা

জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, রংপুর ব্যুরো
দ্বিতীয় ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা সম্প্রতি করা হয়েছে। এতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নড়েচড়ে বসেছেন। এতে করে ইউনিয়নে ইউনিয়নে চলছে উঠান বৈঠক, গণসংযোগ আর মোটরসাইকেলের শোডাউন। বিশেষ করে সরকার দলীয় প্রার্থীদের দৌঁড়ঝাঁপ বেড়েছে। নৌকা প্রতীক পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন সম্ভাব্য ইউপি প্রার্থীরা। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী দ্বিতীয় ধাপে রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার আটটি এবং পীরগঞ্জ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই দুই উপজেলার ১৮ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেতে ১৩০ জন প্রার্থী দৌঁড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। দলীয় মনোনয়ন পেতে অনেক প্রার্থী প্রকাশ্যে, আবার কেউ কেউ গোপনে আবেদনও করেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতকাল রোববার পীরগাছার আট ইউনিয়ন থেকে ৩৩ জন চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদকের কাছে আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে উপজেলার পারুল ইউনিয়নের তিন, ইটাকুমারীতে চার, অন্নদানগরে তিন, ছাওলায় ছয়, তাম্বুলপুরে আট, পীরগাছা সদরে একজন, কৈকুড়ীতে চারজন এবং কান্দি ইউনিয়নের চারজন রয়েছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশি সবাই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। পীরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ মিলন জানান, আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই করে জেলা কমিটির কাছে পাঠানো হবে। তারা সুপারিশ করে প্রতীক বরাদ্দের জন্য কেন্দ্রে পাঠাবেন। এদিকে প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারের এলাকাখ্যাত পীরগঞ্জে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তফসিল ঘোষণার পর তারা নানাভাবে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। কেউ কেউ দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শোডাউন করে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। হাট- বাজারে, পাড়া-মহল্লা ও চায়ের দোকানে চলছে জনসংযোগ। যেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নির্বাচন জমে উঠেছে। পীরগঞ্জের ১৫ ইউনিয়নের মধ্যে দ্বিতীয় ধাপে ১০টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পেতে এ পর্যন্ত ৯৬ সম্ভাব্য প্রার্থীকে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীক না পেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন। তবে দলের সমর্থন পেলে নির্বাচনে অংশ নেওয়া সহজ হবে বলে মনে করছেন তারা। বড়দরগাহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মাফিয়া আক্তার শিলা গতবারের মতো এবারও নির্বাচনে লড়বেন বলে জানিয়েছেন। তিনি গত নির্বাচনে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন। এবারও চেয়ারম্যান হিসেবে এলাকাবাসী তাকে দেখতে চায়। কাবিলপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, দলীয় নির্দেশ পাওয়ার পরই আমরা বিশেষ বর্ধিত সভা করছি। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নের জন্য ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর আবেদন করছেন। জানা যায়, পীরগঞ্জের চৈত্রকোল ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের ১৬ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশির তালিকায় রয়েছে। একই অবস্থা ভেন্ডাবাড়ি ইউপিতে। সেখানেও সম্ভাব্য প্রার্থী ১৬ জন। এ ছাড়া পাঁচগাছি ইউপিতে ১১, চতরাতে ১১, কুমেদপুরে ১০, শানেরহাটে আট, বড়দরগাহতে সাতজনসহ মদনখালি, টুকুরিয়া এবং কাবিলপুর ইউপিতে ছয়জন করে মনোনয়ন প্রত্যাশি রয়েছেন। উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১১ নভেম্বর দেশে দ্বিতীয় ধাপে ৮৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে পীরগঞ্জের ১০টি এবং পীরগাছার আটটি ইউনিয়ন রয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *