রহনপুর ইউপি চেয়ারম্যান অপশাসন চালাচ্ছে

সারাবাংলা

আব্দুল বাশির, গোমস্তাপুর থেকে : ক্ষমতার দাপট সারা জীবন থাকে না। অহংকার আর দাম্ভিকতা বিলীন হতে ক্ষনিক সময় লাগে মাত্র। একজন শাসক হয়ে অপশাসন চালিয়ে যাচ্ছে রহনপুর ইউপি চেয়ারম্যান শফি আনসারী। চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফি আনসারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে অনাস্থা দিয়েছেন ১০ জন ইউপি সদস্য। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নানা স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর জমা দেওয়া হয়। গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। ইউপি সদস্যরা রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালককেও অনাস্থার অনুলিপি দিয়েছেন। রহনপুর ইউপি সদস্যরা চেয়ারম্যান শফি আনসারীর বিরুদ্ধে ১০টি সুনির্দিষ্ট অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন। বারোজনের মধ্যে ১১ ইউপি সদস্যই অনাস্থা দিলেও পরে একজন প্রত্যাহার করে নেন। অন্য ইউপি সদস্যদের অনাস্থা প্রত্যাহার করতে চেয়ারম্যান শফি আনসারী বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনাস্থা দিয়েছেন ৭নং ওয়ার্ড সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান বাইরুল ইসলাম, ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান, সানাউল ইসলাম, তজিবুর রহমান,বাবর আলী, সোহরাব হোসেন, ইসমাইল হোসেন, সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য রুলিয়ারা বেগম, কোহিনূর ও জোসনা বেগম। এ ছাড়া ৩নং ওয়ার্ড সদস্য আলাউদ্দিন অনাস্থা দিলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেন।

ইউপি সদস্যরা অভিযোগ করেন- চেয়ারম্যান শফি আনসারী ইউপি সদস্যদের নিয়ে নিয়মিত মাসিক সভা করেন না। টিআর, কাবিখা, এডিপি খাত থেকে আসা প্রকল্পের পদাধিকার বলে সভাপতিকে কাজ বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হয় না। কৃষি প্রণোদনা পেতে সভা না করে সার, বীজ সঠিক সময়ে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করেননি। এতে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে আমেরিকা প্রবাসী স্ত্রী-সন্তানের কাছে যাওয়া-আসার কারণে নাগরিক সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে ইউনিয়নবাসীরা। ইউপি সদস্যরা অনাস্থাপত্রে উল্লেখ করেন, অতিদরিদ্রের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইউজিপি) তালিকা সভায় চ‚ড়ান্ত করার পরও চেয়ারম্যান আবারও তার ইচ্ছামতো পরিবর্তন করেন। একইভাবে ২০২০-২১ অর্থবছরে ভিজিডি যাচাই-বাছাই করার পরে পুনরায় পরিবর্তন করেন শফি আনসারী। এমনকি সভা চলাকালীন সময়ে ইউপি সদস্যদের অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের এলজিএসপি-৩ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলেও চাঁদার দাবিতে ফাইলে স্বাক্ষর না করা ও বিল না দেওয়ার অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, রাজস্ব তহবিলের অর্থ ব্যাংকে জমা না করে আত্মসাৎ করেন চেয়ারম্যান শফি আনসারী। রহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য ইসমাইল হোসেন বলেন, গত রোববার অনাস্থা দেওয়ায় বিভিন্নভাবে চেয়ারম্যান তা প্রত্যাহার করতে চাপ দিয়েছেন। এটি না করলে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে নিরুপায় অবস্থায় আমরা অনাস্থা দিয়েছি। ইউনিয়ন পরিষদকে তিনি তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করেন বলেও অভিযোগ ওই সদস্যের। ৪নং ওয়ার্ড সদস্য সানাউল ইসলাম জানান, গত কয়েকদিন থেকে ৪০ দিনের কর্মসূচির বিলে স্বাক্ষর করতে অনীহা দেখাচ্ছেন চেয়ারম্যান। তার কাছে ঘুরে ঘুরে না পেয়ে ইউএনওকে বিষয়টি জানালে গত সোমবার দুপুরে উপজেলা পরিষদে স্বাক্ষর করেছেন। ইউনিয়ন পরিষদের জন্য বরাদ্দ ৩০০টি কম্বলের মধ্যে ৪নং ওয়ার্ডের জন্য দেওয়া হয় ১০টি। কিন্তু এই ১০টি কম্বলের মধ্যে এখনও ৪টি কম্বল পাননি তিনি। সব অভিযোগ অস্বীকার করে রহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফি আনসারী বলেন, আমি আওয়ামী লীগ করি। তার পরিষদের সব ইউপি সদস্যই বিএনপি ঘরানার। তাই রাজনৈতিক মদদে এসব অভিযোগ ও অনাস্থা দেওয়া হয়েছে। গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *