রহস্যে ঘেরা দীঘি

সারাবাংলা

বাউফল (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা:
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ১ নম্বর কাছিপাড়া ইউনিয়নে ঐতিহ্যবাহী কানাই-বলাই দীঘি অবস্থিত। শত বছর আগে এই এলাকার লোকজনের বিশুদ্ধ জলের ব্যবস্থা করার জন্য এই দীঘিটি খনন করা হয়েছিল। দীঘির আনুমানিক দৈর্ঘ্য প্রায় ২০০ মিটার ও প্রস্থ ১৪০ মিটার। সংস্কার অভাবে অস্তিত্ব বিলীনের পথে এই কানাই-বলাই দীঘি। কথিত আছে, শতাধিক বছর আগে কাছিপাড়া গ্রামে কানাই-বলাই নামে দুই ভাই থাকতো। একদিন কানাই ও বলাই এই দীঘিতে গোসল করার সময় দুটি বড় গজার মাছ তাদের নিয়ে দীঘির গভীরে চলে যায়। এরপর আর কোনোদিন দুই ভাইয়ের দেখা মেলেনি। তারপর থেকেই এই দীঘিটি কানাই-বলাই দীঘি নামে পরিচিতি লাভ করে। সরেজমিনে দেখা যায়, কানাই-বলাই দীঘি আজ জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। সংস্কারের অভাবে অস্তিত্ব বিলীনের পথে কানাই-বলাই দীঘি। দীঘি সংস্কারের জন্য সরকারিভাবে কিছু আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে। দীঘির পাশে ছোট একটি পাকা ঘর রয়েছে। সেই ঘরে নারীরা গোসল করে জামা কাপড় পরিবর্তন করেন। দীঘিতে গোসল করার জন্য ছোট একটি ঘাটলা তৈরি করা হয়েছে।
এছাড়া স্থানীয় লোকজনের মনে এই দীঘি ঘিরে রয়েছে নানা রহস্যজনক কথা। দীঘির গভীরতা কেউ বলতে পারেন না। কেউ মনে করেন এই দীঘির কোনো তলদেশ নেই। কেউ কেউ মনে করেন এই দীঘির পানিতে রয়েছে সোনার হাড়ি পাতিলের রহস্যের ইতিহাস।
নারী দর্শনার্থী কাজল রাণী দাস বলেন, এই কানাই-বলাই দীঘি আমাদের কাছে একটি তীর্থস্থান। প্রতি বছর পহেলা বৈশাখে এখানে আসি।
স্থানীয় বাসিন্দা মরিয়ম আক্তার বলেন, এখানে যারা ভালো মন নিয়ে আসে তাদের ইচ্ছে পূরণ হয়। প্রায় বিশ বছর আগে তৎকালীন কাছিপাড়া বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে তার বিদ্যালয়ের ছাত্রদের নিয়ে এসে কানাই-বলাই দীঘি তল্লাশি করার সময় এক ছাত্র পানির নিচে অনেক ঘর বাড়ি দেখতে পায় এবং সেটা পানির নিচ থেকে কারো কাছে বলতে বারণ করেন। দীঘির পার্শ্ববর্তী বাসিন্দা মাসুদ গাজী বলেন, আমার বাপ-চাচাদের কাছ থেকে কানাই-বলাই দীঘির সম্পর্কে অনেক ঘটনা শুনেছি। কানাই-বলাই দীঘি সত্য না মিথ্যা এটা পরীক্ষা করার জন্য আসে উপজেলার মাধবপুরা গ্রামের এক নারী। তিনি পানির নিচে কি আছে সেটা দেখার জন্য দীঘির জলে ডুব দেয়, সেই নারী ডুব দেয়ার পর দীঘির পানিতে তলিয়ে যায় এবং চার দিন পরে তার মরদেহ ভেসে উঠে।
যুগ যুগ ধরে এই পুকুরের সুবিধা ভোগ করে আসছে দেশ-বিদেশের হাজার হাজার মানুষ ও এই এলাকার লোকজন। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসে কানাই-বলাই দীঘিতে। করোনা ভাইরাসের কারণে আগের চাইতে কানাই-বলাই দীঘিতে দর্শনার্থী সংখ্যা কম।
পটুয়াখালী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান মোহন মিয়া বলেন, কিছুদিন আগে কানাই-বলাই দীঘি পরিদর্শন করেছি। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা করেছি। দীঘিতে ঘাটলা ও নারীরা যাতে গোসল করে জামা কাপড় পাল্টাতে পারে তার জন্য একটি ছোট পাকা ঘর করে দিয়েছি। ভবিষ্যতে কানাই-বলাই দীঘির উন্নয়নে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সাহায্য সহযোগীতা করা হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *