রাঙ্গাবালীতে মান্তা সম্প্রদায়ের মধ্যে কম্বল বিতরণ

সারাবাংলা

রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি :
জলে জন্ম জলেই মৃত্যু, এমনকি মৃত্যুর পর লাশও ভাসিয়ে দেয়া হয় নদীতে। এমন সম্প্রদায়ের নাম মান্তা। দেশের পিছিয়ে পরা সবচেয়ে অবহেলিত এই মান্তা জনগেষ্ঠীর মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান প্রতিষ্ঠিত উত্তরণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে বসবাসরত শতাধিক মান্তা পরিবারের ৪শ জনকে কম্বল দেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মইনুল হাসান। এসময় উপস্থিত ছিলেন উত্তরণ ফাউন্ডেশনের পরিচালক কে.এম মাহফিজুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহম্মেদ আলী, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ফারুক আহম্মেদ, রাঙ্গাবালী থানার ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান ও চরমোন্তাজ ইউপি চেয়ারম্যান হানিফ মিয়া।
শীত বস্ত্র নিতে আসা বৃদ্ধা শেফালী বিবি আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেন, মাগো জীবন কাডে গাঙ্গে আর নৌকায়। গাঙ্গে যে মাছ পাই হেইয়া বেইচ্চা জীবন চলে। কেউ মোগো দিক চায়না। এই শীতে খুব কষ্ট করছি। আইজ ছারেরা আমাগোরে কম্বল দেছে। আমরা খুব খুশি হইছি। এই ঠান্ডায় এহন একটু আরাম পামু। এইডা আমাগো ধারে অনেক কিছু। এভাবেই উচ্ছাস প্রকাশ করেন রোকেয়া বেগম (৩৫), মিনারা বেগম (৬০) ইসমাইল সরদার (৪০) আনসারসহ (৫৫) এই সম্প্রদায়ের অনেকে। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মইনুল হাসান জানান, অনেকটা কুসংস্কার এবং শিক্ষার অভাবে পিছিয়ে পরা জনগোষ্ঠী এই দেশের বাসিন্দা হলেও সবার অগোচরেই থেকে যায়। তাদের আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে ঢাকা রেঞ্জেরে ডিআইজি হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় উত্তরণ ফাউন্ডেশন কাজ করছে। এখন প্রাথমিকভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে পর্যায়ক্রমে এ জনগোষ্ঠীর জীবন-মান উন্নয়নে কাজ করবে উত্তরণ ফাউন্ডেশন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *