রাজাপুরে প্রবাহমান খাল উদ্ধার ও খননের দাবিতে মানববন্ধন

সারাবাংলা

রাজাপুর (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি : ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা সদরের ভেতর থেকে প্রবাহমান খালগুলো প্রভাবশালীদের দ্বারা দখলের প্রতিবাদ, এসএ নকশা অনুযায়ী খালের সীমানা নির্ধারণ ও খালের জমি দখল মুক্ত করার পর খালের পাশ থেকে এলজিইডির প্রস্তাবিত রাস্তাটি করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। উপজেলা পরিষদ চত্বরে দুর্নীতি প্রতিরোধ মঞ্চের আয়োজনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোক্তার হোসেনের কাছে স্বারক লিপি প্রদান করেন আন্দোলনকারীরা।

জানা যায়, উপজেলা সদরের ভেতর থেকে প্রবাহিত তিনটি খাল জাঙ্গালিয়া নদীর সাথে সংযুক্ত হয়েছে। উপজেলা সদরের বাজারের পশ্চিম পাশ হয়ে বাইপাস অংশের মধ্যদিয়ে জাঙ্গালিয়া নদীতে মিলিত হয়েছে একটি খাল। উপজেলা সদরের গোরোস্থান সড়ক হয়ে উপজেলা পরিষদের পেছন থেকে দ্বিতীয় খালটি সাউথপুর সেতু এলাকায় জাঙ্গালিয়া নদীর সাথে যুক্ত হয়েছে। এছাড়াও উপজেলা সদরের সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে থেকে প্রবাহিত হয়ে আর একটি খাল সংযুক্ত হয়েছে বাঘড়ি সেতু এলাকার একই জাঙ্গালিয়া নদীতে। এই তিনটি খালই বর্ষা মৌসুমে উপজেলা সদরের বাসিন্দাদের জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা করে। অথচ উপজেলা সদরের ভেতর থেকে প্রবাহিত খালগুলোর অধিকাংশ জায়গাই প্রভাবশালীরা যে যার মতো করে দখল করে নিয়েছেন।এসএ নকশা অনুযায়ী এ খালের প্রস্ততা প্রায় পঞ্চাশ ফুট হলেও বর্তমানে কোন কোন অংশে খালের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। তাই বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা থেকে বাঁচতে দির্ঘদীন ধরে এই খালগুলো দখলমুক্ত করে তা খননের দাবি করে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন শুক্তাগড় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মুজিবুল হক মৃধা, রাজাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. পাভেজ বাবু,বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) রাজাপুর শাখার চেয়ারম্যান আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ সুমন,জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি দুলাল তেওয়ারী, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আহসান হাবীব রুবেল, রাজাপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মঈনুল হক লিপু, সাবেক অধ্যক্ষ শাহজাহান মোল্লা ও রাজাপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিত্য নন্দন সাহা,আমির খসরু বাবুলসহ আরও অনেকে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সম্প্রতি সময়ে উপজেলা সদরের বাজার ও বাইপাস মোড় হয়ে যে খালটি জাঙ্গলিয়া নদীতে মিশেছে সেই খালের দখল হয়ে যাওয়া জমিতেই সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। খালের জায়গায় সড়ক নির্মাণ করা হলে তা স্থায়ী রূপ নেবে। তাই সড়ক নির্মাণে আগে উপজেলা সদরের ভেতর থেকে প্রবাহমান খালগুলো দ্রæত সময়ের মধ্যে দখলমুক্ত করে খালের সীমানা নির্ধারণ করার পর তা খনন করে খালের বাইরে রাস্তাটি করার দাবি জানানো হয়। তা না হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দেন বক্তারা। মানববন্ধনে উপজেলা সদরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় পাঁচ শতাধিক বাসিন্দা অংশ নেয়।

মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা প্রশাসক মহোদয় বরারর স্মারকলিপি দেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *