রাজ পরিবারের বিরুদ্ধে বর্ণবৈষেম্যের অভিযোগে উদ্বিগ্ন রানি এলিজাবেথ

আন্তর্জাতিক

ডেস্ক রিপোর্ট: সম্প্রতি ব্রিটিশ রাজ পরিবারের বিরুদ্ধে বর্ণবৈষম্যসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী ডাচেস অব সাসেক্স মেগান মারকেল। এসবের অভিযোগের পর উদ্বিগ্ন রানি এলিজাবেথ।

এক আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় এ তথ্য জানিয়েছে বাকিংহ্যাম প্যালেস।

সেই সঙ্গে মেগান মার্কেল ও প্রিন্স হ্যারির অভিযোগকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

বাকিংহ্যাম প্যালেসের বিবৃতির বরাত দিয়ে মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, ওই সাক্ষাৎকারের পর বোঝা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রিন্স হ্যারি এবং তার স্ত্রী মেগান ঝড়ের মধ্য দিয়ে গেছেন। বিষয়টি পুরো রাজ পরিবারকে ব্যথিত করেছে।

হ্যারি-মেগানের ছেলে অর্চির গায়ের রঙ নিয়ে রাজ পরিবারে উদ্বেগ ছিল বলে যে অভিযোগ মেগান তুলেছেন তা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে রাজপরিবার। তবে এক্ষেত্রে ডিউক অব সাসেক্স হ্যারি ও ডাচেস অব সাসেক্স মেগানের বোঝার ভুলও হয়ে থাকতে পারে বলে বিশ্বাস রাজপরিবারের। পারিবারিকভাবে এই ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে ফেলতে আহ্বান জানিয়েছেন রানি এলিজাবেথ। কারণ তারা (হ্যারি, মেগান এবং তাদের ছেলে অর্চি) সবসময়ই রাজপরিবারের ভালবাসা নিয়ে থাকবে।

উল্লেখ্য, গত রবিবার সিবিএস টেলিভিশনে অপরাহ উইনফ্রেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্রিটিশ রাজপরিবারে ওপর বর্ণবাদের অভিযোগ আনেন মেগান।

অর্চি যখন গর্ভে আসার পর তার গায়ের রঙ কতটা কালো হতে পারে তা নিয়ে নাকি উদ্বেগে ছিলেন রাজ পরিবারের সদস্যরা।

এমন পরিস্থিতিতে তিনি এতটাই অসহায় বোধ করছিলেন যে, আত্মহত্যার কথাও ভাবতে শুরু করেছিলেন।

সাক্ষাৎকারে মেগান বলেন, “আমি যখন অন্তঃসত্ত্বা, আমার দিনগুলো একই রকম ছিল, বারবার ওই কথাগুলো ঘুরেফিরে আসছিল—তুমি নিরাপত্তা পাবে না, কোনও খেতাবও পাবে না। আর যখন ওর জন্ম হবে, ওর গায়ের রঙ কতটা কালো হতে পারে সেসব নিয়ে তাদের আলাপ আর উদ্বেগও তো ছিলই।”

তবে রাজপরিবারের কে বা কারা গায়ের রঙ নিয়ে ওই উদ্বেগের কথা বলেছিল, তা প্রকাশ করতে চাননি মেগান।

প্রসঙ্গত, রাজপরিবার ছেড়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস করছেন মেগান ও হ্যারি।

২০২০ সালের জানুয়ারিতে হ্যারি-মেগান দম্পতি ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রতিনিধিত্ব আর না করার সিদ্ধান্তের কথা জানান তারা। স্বাধীন জীবনযাপন করতে তারা রাজপরিবার থেকে বেরিয়ে যান।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *