রাণীনগরে আমনের ভালো ফলন ধান কাটার ধুম

সারাবাংলা

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ থেকে :
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় চলতি আমন মৌসুমে ভালো ফলন পাচ্ছেন কৃষকরা। ইতোমধ্যেই উপজেলার প্রায় ৩৫০ হেক্টর জমির আমন ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। বাজারে ধানের দাম ভালো থাকায় কৃষকরা কয়েক দফার বন্যার ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলমি আমন মৌসুমে উপজেলার মোট ১৮ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আমন ধান চাষ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। আমন ধান রোপনের কিছুদিন পরই হানা দেয় ৪ বারের বন্যা। এতে করে কিছুটা ক্ষতি হয় নিম্নাঞ্চলের আমন ধান। কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগিতা যে সব কৃষকরা ব্রি ধান-৮৭ জাতের ধান চাষ করেছিলেন তারা ইতোমধ্যেই ধান কর্তন করা শুরু করেছেন। বিঘা প্রতি কৃষকরা ব্রি ধান-৮৭ এর ফলন পাচ্ছেন ১৮-২০ মণ হারে। কারণ এই জাতটি আগাম পরিপক্ক ধানের জাত। এই জাতের ধানে রোগ বালাইয়ের আক্রমণ অনেক কম, বালাইনাশক প্রয়োগ করতে হয় কম এবং ফলনও অনেক বেশি হয়। যার কারণে কৃষকরা এই জাতের ধান কেটে ওই জমিতে সরিষা, গমসহ অন্যান্য সবজি চাষ করতে পারবেন। তাই আশা করা হচ্ছে কৃষকরা আমন ধানের ভালো ফলন থেকে বন্যার ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে নিতে পারবেন।
রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, আমন ধান রোপণের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কৃষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরামর্শ প্রদানসহ সার্বিক সহযোগিতা ও খোঁজ নিচ্ছে কৃষি অফিসের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। যার কারণে এবার আমন ক্ষেতে কোথাও কোন ক্ষতিকর পোকা ও রোগের আক্রমণ দেখা যায়নি। উপজেলার কৃষকদের ঘরে আমন ধান পুরোপুরি না ওঠা পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে আমাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ইতোমধ্যেই নমুনা শস্য কর্তন করে কৃষকদের ধান কাটতে উদ্বুদ্ধ করেছি। চলতি আমন মৌসুমে কৃষকরা ভালো ফলন পাবেন। এতে করে আমন ধানের লভ্যাংশ থেকে কৃষকরা বন্যার ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে আমি আশাবাদী। কারণ বর্তমানে বাজারে ধানের দামও অনেকটাই ভালো আছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *