রাশিয়ার গ্যাস পাইপলাইনের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলো যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক

ডেস্ক রিপোর্ট: রাশিয়া ও জার্মানির মধ্যকার গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণকারী কোম্পানি নর্ড স্ট্রিম ২ এজির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন । দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন বুধবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে ব্লিনকেন জানান, নর্ড স্ট্রিম ২ এর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পাশাপাশি কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ম্যাথিয়াস ওয়ারিং এবং পাইপলাইনটি নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত চারটি রাশিয়ান জাহাজের ওপর থেকেও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

রাশিয়া থেকে জার্মানিতে গ্যাস সরবরাহ করতে বাল্টিক সাগরের তলদেশ দিয়ে এই পাইপলাইন তৈরির কাজ চলছিল। চলতি বছরের গোড়ার দিকে যখন এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, তখন পাইপলাইনের ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে গিয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় ২০২১ সাল শেষ হওয়ার আগেই জার্মানিতে গ্যাস সরবরাহ করতে পারবে রাশিয়া।

বুধবারের বিবৃতিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিনকেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থেই কোম্পানিটি ও এর প্রধান নির্বাহীকে ছাড় দেওয়া প্রয়োজন ছিল।

জার্মানি ও রাশিয়া বাইডেন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে, তবে বাইডেন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান একাধিক সদস্য। তাদের অভিযোগ, এই পাইপালাইন সচল হলে ইউরোপে রাশিয়ার প্রভাব বাড়বে।

কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এর রিপাবলিকানপন্থি সদস্য মাইকেল ম্যাককাউল বলেন, ‘জ্বালানি সম্পদের জন্য ইউরোপকে রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল করে তুলতেই এই প্রকল্প নিয়েছে মস্কো। পুতিনের পরিকল্পনা হলো, পাইপলাইন চালু হলে একদিকে ইউরোপে রাশিয়ার প্রভাব বাড়বে, অন্যদিকে ইউক্রেনকেও চাপে রাখা যাবে।’

চলতি বছরের গোড়ায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছিলেন, তিনি এই এক হাজার ১০০ কোটি ডলারের প্রকল্পের বিরোধী। সিনেটে নিজের নিয়োগ নিয়ে হওয়া শুনানিতে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পররাষ্ট্র মন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেনও বলেছিলেন, ‘নর্ড স্ট্রিম ২ এর কাজ থামাতে যা যা করা সম্ভব, তা করার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকবে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন।’

তবে বুধবারের বিবৃতিতে ব্লিনকেন বলেছেন, জার্মানির সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে বাইডেন প্রশাসন।

প্রেসিডেন্ট ‍জো বাইডেনের ঘনিষ্ট একাধিক ডেমোক্র্যাট সদস্য বিবিসিকে জানিয়েছেন, সামনের মাসে ইউরোপ সফর ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গ বৈঠকের শিডিউল আছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের। সে বিষয়ে যেন কোনো জটিলতা না আসে, সে কারণেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *