https://www.dhakaprotidin.com/wp-content/uploads/2021/01/raipura.jpg

রায়পুরায় ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন

সারাবাংলা

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি : নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে মুক্তিযোদ্ধের অন্যতম সংগঠক এ কে এম বজলুর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মুক্ত স্বদেশে জাতির পিতা বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী, কুইজ প্রতিযোগিতা, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। তৎকালীন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, মুক্তিযোদ্ধের সংগঠক ভাষা সৈনিক, এস এস এফ প্রধান মেজর জেনারেল মুজিবুর রহমান এর পিতা এ কে এম বজলুর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আওয়ামী লীগসহ কয়েক শতাধিক নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। গতকাল সোমবার বিকালে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা পাড়াতলী ইউনিয়নের আলীনগর বাজারে এর আয়োজন করা হয়।

মুক্তিযোদ্ধের সংগঠক এ কে এম বজলুর রহমান ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও আওয়ামী লীগ নেতা আগামী দিনের অহংকার আলহাজ্ব ফেরদৌস কামাল জুয়েলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম। প্রভাষক আমজাদ হোসেনের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধের সংগঠক এ কে এম বজলুর রহমান ফাউন্ডেশনের পরিচালক হাজী হাসান জামিল বাদল, মুক্তিযোদ্ধা গবেষক নাজমুল ইসলাম, বাঁশগাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল হক।

এসময় উপস্থিত ছিলেন পাড়াতলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কারুজ্জামান কফু, উপজেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম সদস্য হাজী আব্দুল হাসিম ভেন্ডার, উপজেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম সদস্য মো. শহীদ উল্লাহ মেম্বার, চরমধুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নুর আলম ফকির, রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক মো. তোতা মিয়া মেম্বার, একে এম বজলুর রহমান বাজার কমিটির সভাপতি মাইন উদ্দিন, শ্রীনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মো. নজরুল ইসলাম, পাড়াতলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা ইলিয়াছ মিয়া, পাড়াতলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মন্নাফ মেম্বার, পাড়াতলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা সিদ্দিকুর রহমান (সিদ্দিক), পাড়াতলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মো. রবি মিয়া, আওয়ামী লীগ নেতা জমির হোসেন মেম্বার, আওয়ামী লীগ নেতা মো. গোলাপ মেম্বার, সমাজসেবক আবু উসমান, শ্রীনগর ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা বজলুর রহমান, পাড়াতলী ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইকরাম হোসেন, তরুন সমাজসেবক আফতাব উদ্দিন, পাড়াতলী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মো. রতন মিয়া সুমন ও সদস্য মো. নাইম মিয়া প্রমুখ। বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনীতিক সহচর, মুক্তিযোদ্ধের অন্যতম সংগঠক বর্ষিয়ান রাজনীতিবীদ ভাষা সৈনিক প্রয়াত এ.কে.এম বজলুর রহমান সু-বক্তা হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। একজন আলোকিত মানুষ হিসেবে দেশ স্বাধীনতার জন্য মহান মুক্তিযুদ্ধে, রাজনীতিক, সামাজিক বিভিন্ন কর্মকান্ডের বিশেষ অবদান রেখে আমাদের মধ্যে আজীবন অমর হয়ে থাকবে। তার দেশ প্রেমের সাহসিকতা, অনেক ত্যাগ শিকার করে দেশের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে বার বার কারাবরণসহ তার সেই দিনের স্মৃতিগুলো আমরা স্মৃতি চারণ করে আগামী দিনের নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে। এলাকার গুনীজনদের সম্পর্কে সঠিক তথ্য তুলে ধরে হবে। প্রয়াত এ.কে.এম বজলুর রহমানসহ এলাকার গুনীজনরা মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম ও চরাঞ্চল উন্নয়নের জন্য যে অবদান রেখেছিল। তাদের সম্মানিত করে প্রকৃত সম্মান দিয়ে তাদের সব সময় স্বরনীয় করে রাখতে হবে। তাদের ভাল কাজের বিষেশ অবদানের কথাগুলো মনে না রাখলে আগামী দিনের নতুন প্রজন্মরা দেশের জন্য আরও ভাল কিছু করতে প্রচেষ্টা চালাবে। তারা আরও বলেন, তৎকালীন বৃহত্তম নারায়নগঞ্জ মহাকুমা রায়পুরা থানার আলীনগর গ্রামে সাহেব বাড়ীতে ১৯৩৩ সালে মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম মৌলভী আহমেদ ও মাতা মরহুমা খাদেজা বেগম। তিনি রায়পুরায় জন্মগ্রহণ করলেও রাজনৈতিক জীবন শুরু ও শেষ করেন নারায়ণগঞ্জ শহরে। তিনি ১৯৪৮ সালে মেট্রিক, ১৯৪৯ সালে জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয় থেকে আইএ, ১৯৫২ সালে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থেকে বিএ পাশ করেন। ১৯৪৭ সালে ছাত্র অবস্থায় পাকিস্তান আন্দোলনে অংশগ্রণের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে যোগদান করেন। ওই সময় সিলেট গণ ভোটার কার্যের জন্য তিনি সিলেটে যান। ১৯৪৯ সালে তিনি ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক নির্বাচিত হয়ে ছিলেন। ১৯৫০ সালে শ্রমিক আন্দোলনে জড়িত হয়ে সুতাকল, পাটকল ও জাহাজী শ্রমিকদের জন্য ট্রেড ইউনিয়ন গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। তিনি বহুবার বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে অংশ নেন ও কেন্দ্রীয় সংগ্রাম কমিটির নেতা হিসেবে কাজ করেন। তিনি ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট প্রার্থীর পক্ষে প্রচার কার্য পরিচালনা করেন। তিনি ১৯৫৫ সালে নারায়ণগঞ্জ মহকুমা আওয়ামী লীগে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এ দায়িত্ব পালনকালে ১৯৫৬ সালে ৯২’র ক ধারায় গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ করে। পরে ১৯৫৮ সালে র্মাশাল ল জারী হলে পুনরায় গ্রেফতার হয়ে ক্যান্টেনমেন্টে কিছুদিন আটক ছিলেন। ১৯৬৮ সালে আওয়ামী লীগ পুনজীবিত হলে তিনি নারায়ণগঞ্জ শহর ও মহকুমার আহ্বায়ক নির্বাচিত হন। ১৯৬৫ সালে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হন এবং ১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলনে কর্মসূচি বাস্তবায়নকালে গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘ দেড় বছর কারাভোগ করেন। ১৯৬৬ সালে গণআন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ ও ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচার কার্য পরিচালনা করেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে সংগঠক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন মুজিবনগরে জয় বাংলা অফিস প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদান রাখেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে চলাকালীন ১৭টি যুব ক্যাম্প পরিচালনা ও গেরিলা যুদ্ধের তদারকি কাজে বিশেষ ভাবে সহায়তা করেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৮ সালে আওয়ামী লীগের সাত সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে পূর্ব জার্মানী সফর করেন। পরবর্তী পর্যায়ে তিনি আওয়ামী লীগের জেলার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কর্মীদের মধ্যে একজন নিঃস্বার্থ ত্যাগী নেতা সু-বক্তা দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ছিলেন। তার সহধর্মিনী সাহানারা বেগমের আট পুত্র সন্তান রয়েছে। স্বামীর রাজনীতির কারণে ছোট ছোট সন্তান নিয়ে দুঃখ-কষ্টে জীবনের অনেক সময় পাড় করতে হয়েছিল। তার ছেলেরা সবাই উচ্চ শিক্ষিত। তার জৈষ্ঠ্য পুত্র হাসান জামিল বাদল আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবৎ জড়িত রয়েছে। অধ্যাপক সামসুজ্জামান, অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান ও সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল পদে কর্মরত আছে মো. মুজিবুর রহমান। তিনি ১৯৮৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী তার নারায়ণগঞ্জ বাসভবনে দীর্ঘদিন রোগক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রতি বছর তার জন্ম ও শাহাদত বার্ষিকী পালন করা হয়ে থাকে। আলোচনা শেষে দোয়া পরিচালনা করেন আলীনগর মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হযরত মাওলানা সিরাজুল ইসলাম তিনি বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার, জাতীয় ৪ নেতা, প্রয়াত এ.কে.এম বজলুর রহমানসহ মুক্তিযুদ্ধের নিহত বীর সন্তানদের রূহের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়। সাবেক মন্ত্রী রাজি উদ্দিন আহমেদ রাজু এমপি ও এসএসএফ এর প্রধান মেজর জেনারেল মো. মুজিবুর রহমানের সুস্বাস্থ্য র্দীঘায়ু কামনা করেন। তারা আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর রাজনীতিক সহচর, মুক্তিযোদ্ধের অন্যতম সংগঠক বর্ষিয়ান রাজনীতিবীদ ভাষা সৈনিক প্রয়াত এ.কে.এম বজলুর রহমান সু-বক্তা হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন একজন আলোকিত মানুষ হিসেবে দেশ স্বাধীনতার জন্য মহান মুক্তিযুদ্ধে, রাজনীতিক ,সামাজিক বিভিন্ন কর্মকান্ডের বিশেষ অবদান রেখে আমাদের মাঝে আজীবন অমর হয়ে থাকবে। তার দেশ প্রেম এর সাহসিকতা, অনেক ত্যাগ শিকার করে দেশের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর সাথে বার বার কারা বরণ সহ সেই দিনের স্মৃতিগুলো আমরা স্মৃতি চারন করে আগামী দিনের নতুন প্রজন্মরা জানাতে হবে। এলাকার গুনীজনদের সর্ম্পকে সঠিক তথ্য তুলে ধরে হবে, প্রয়াত এ.কে.এম বজলুর রহমান সহ আমাদের এলাকার গুনীজনরা মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম ও চরাঞ্চল উন্নয়নের জন্য যে অবদান রেখেছিল তাদেরকে সম্মানিত করে প্রকৃত সম্মান দিয়ে সব সময় স্বরনীয় করে রাখতে হবে। তাদের ভাল কাজের বিষেশ অবদানের কথা আমরা মনে না রাখলে আগামী দিনের নতুন প্রজন্মরা আমাদের ভাল কাজের অবদানের কথা মনে রাখবে না। বক্তরা আরো বলেন, চরাঞ্চলের কৃতি সন্তান হিসেবে তৎকালিন চরাঞ্চলে থানা স্থাপন প্রতিষ্টা করতে সহ বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডের জন্য নিজের জীবন বাজি রেখে ব্যাপক অবদান রেখেছিলেন তারা হলেন, জাতীক জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর রাজনীতিক সহচর,মুক্তিযোদ্ধের অন্যতম সংগঠক বর্ষিয়ান রাজনীতিবীদ সু-বক্তা ভাষা সৈনিক, এস এস এফ এর প্রধান মেজর জেনারেল মো: মুজিবুর রহমান এর পিতা প্রয়াত এ.কে.এম বজলুর রহমান, আগড়তলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামী মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩ নং সেক্টর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার প্রয়াত এ এন এম নুরুজ্জামান (বীরউত্তম), স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোকলেছুর রহমানের পিতা বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি সহযোগী মুক্তিযোদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রয়াত ছাইদুর রহমান সরকার ছন্দু মিয়া, শ্রীনগর ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধের অন্যতম সংগঠক স্বর্নপদক প্রাপ্ত প্রয়াত আব্দুল বাছেদ চৌধুরী বাচ্চু চেয়ারম্যান, চরমধুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রয়াত আ: আওয়াল তালুকদার,পাড়াতলী ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রয়াত কাজী গোলামুর রহমান মতি চেয়ারম্যান।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *