রায়পুরায় ১০ সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীর নববর্ষের শুভেচ্ছা পোস্টার, তোরণ, বিলবোর্ড ছেয়ে গেছে

সারাবাংলা

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি : নরসিংদীর রায়পুরা পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ, বিএনপি সহ অন্যান্য দলের সম্ভাব্য ১০ মেয়র ও প্রার্থীর নববর্ষের শুভেচ্ছা পোস্টার, তোরণ, বিলবোর্ড পৌর এলাকার রাস্তার অলিগলি ছেয়ে গেছে। ২০২১ ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষ্যে আসন্ন রায়পুরা পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অন্তত ১০ পৌর মেয়র প্রার্থীর নববর্ষের শুভেচ্ছা পোস্টার, তোরণ, বিলবোর্ড পৌর এলাকার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে নির্বাচনী আমেজে এলাকায় সরগরম হয়ে উঠেছে। পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানার, তোরণ, বিলর্বোড রায়পুরার বড় বড় রাস্তা সহ অলি-গলিতে কয়েক শতাধিক তোরণে নির্বাচনী হওয়া বইছে। নতুন ইংরেজি বছর বরণের শুভেচ্ছা বিনিময় সহ নির্বাচনী প্রার্থীতা জানান দিচ্ছেন সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। শুধু তাই নয় স্ব-স্ব দলীয় মনোনয়ন পেতে রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন পেতে লবিং করছেন তৃণমূল থেকে হাইকমান্ড পর্যন্ত। প্রার্থীদের সমর্থকরা তাদের পছন্দের নেতাকে বিভিন্ন সভা সমাবেশে সামাজিক কর্মকান্ড অতিথি হিসেবে অংশগ্রহন করে এলাকার মসজিদ-মাদ্রাসা, স্কুল-কলেজ ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড অবদান রাখতে সাহায্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করার কথা শোনা যাচ্ছে।

জানা যায়, রায়পুরা পৌরসভায় এখনও নির্বাচনী তফসিল ঘোষনা হয়নি। আসন্ন পৌর নির্বাচন ঘিরে দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌড় ঝাপ করছেন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা। তারা হলেন, রায়পুরা পৌর আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত সাধারন সম্পাদক, বর্তমান মেয়র মো: জামাল মোল্লা,রায়পুরা পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ মাহবুব আলম শাহীন, উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি মিলন মাস্টার, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক ক্রিড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক এ কে এম মহিউদ্দিন, পৌর আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, আয়ারল্যান্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি রায়পুরা কলেজ এর সাবেক ভিপি মোনায়েম খন্দকার রানা,উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মহিলা লীগ নেত্রী তাজ তাহমিনা মানিক মোল্লা। বিএনপি থেকে রায়াপুরা পৌরসভার ২ বারের সাবেক মেয়র হাজী আব্দুল কুদ্দুস মিয়া, পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ ইদ্রীস আলী মুন্সি ও বিএনপি নেতা ওয়াহিদুজ্জামান অহিদ। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর মোঃ শামীম মোল্লা। রায়পুরা পৌর এলাকার সর্বত্র এখন পৌর নির্বাচনের আড়ালে নববর্ষের শুভ্চ্ছোয় নানান রংয়ের পোস্টার ছাটানো হয়েছে। এরুপ প্রচারনায় থেমে নেই কাউন্সিলর প্রার্থীরাও। তবে শেষ পর্যন্ত কে পাচ্ছেন? আওয়ামীলীগের নৌকা ও বিএনপির ধানের শীষ। সেই প্রত্যাশায় এখন দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের। দলীয় মমোনয়ন না পেলেও স্ব-স্ব জনপ্রিয়তায় যাচাই করতে মাঠে থাকতে পারে প্রার্থীদের সমর্থকরা জানান, মো: জামাল মোল্লা, আনোয়ার হোসেন। অপর দিকে ওয়াহিদুজ্জামান অহিদ। রায়পুরা পৌর এলাকার ১ নং ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে বীরমুক্তিযোদ্ধার সন্তান শারিরিক প্রতিবন্ধি এ কে এম মহিবুন হক খোকা মাঠে প্রচার প্রচারনা করছে। রায়পুরা পৌর আ’লীগের সভাপতির পদত্যাগ,সম্পাদকের বহিষ্কার/পদত্যাগপত্র অস্বীকার গৃহীত হয়নি-সভাপতি, নির্বাচনের ৪ বছর পর সাধারন সম্পাদক, মেয়র রহস্য জনক কারনে বহিস্কার দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রির পর থেকে পৌর আওয়ামীলীগ সভাপতি হাজী মাহবুব আলম ও সাধারন সম্পাদক পৌর মেয়র মো: জামাল মোল্লার বহিস্কার নিয়ে সভা সমাবেশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক উঠেছে। রায়পুরা পৌর-আওয়ামীলীগের সভাপতি হাজী মাহবুব আলম শাহীন এর পদত্যাগ নিজেই ব্যক্তিগত কারন দেখিয়ে সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। অপরদিকে গত পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নৌকার বিরুদ্ধে নির্বাচনে অংশগ্রহন করে মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় সাধারন সম্পাদক পদ থেকে পৌর মেয়র জামাল মোল্লা দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের কারণে বহিস্কার করেন উপজেলা আওয়ামীলীগ। এ ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও এলাকায় ব্যাপক ঝড় উঠেছে। এ নিয়ে একজন অপর জনের বিরোদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে পাল্টাপাল্টি লেখালেখিও করছেন। এ ব্যাপারে রায়পুরা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বীরমুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসাইন উপজেলা আওয়ামীলীগের একটি পেইডে লিখিত ভাবে জানান, মো: মাহবুব আলম শাহীন গত ১ নভেম্বর ২০১৯ইং রায়পুরা উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক এর বরাবর উপজেলা আওয়ামীলীগের নির্বাহী সদস্য ও পৌর আওয়ামীলীগ সভাপতি পদ থেকে ব্যক্তিগত কারন দেখিয়ে লিখিত ভাবে পদত্যাগ দেন তা আমরা গ্রহন করিনি। অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র জামাল মোল্লা দলীয় সিদ্ধান্তের বিরোদ্ধে বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী হিসেবে গত রায়পুরা পৌরসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় উপরের কেন্দ্রীয় নির্দেশে পৌর আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক পদ হইতে বহিস্কার করা হয়। গত ১৪ মে ২০২০ইং পৌর আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভায় সর্ব সম্মতি ক্রমে এ বহিস্কার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। পরে পৌর মেয়র মো: জামাল মোল্লাকে পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ হইতে বহিস্কার করে ১ নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক গোলাপকে ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। যা রীতিমতো যোগাযোগ মাধ্যমে এ ঘটনাটি ভাইরাল।

এ বিষয়ে হাজী মোঃ মাহবুব আলম শাহীনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমার নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভূয়া পদত্যাগ পত্র পোষ্ট দেয়া হয়েছে। পদত্যাগপত্রে নিবেদকের স্বাক্ষর আমার নয়। তৎকালীন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস ছাদেক এর স্বাক্ষর জাল এবং ইহা তার নয় এবং উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আফজাল হোসাইন এর স্বাক্ষর জাল বলে দাবি করেন তিনি । যদি আমি ১ নভেম্বর ২০১৯ সালে আমি দলীয় পদ হতে পদত্যাগ করতাম তাহলে উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় উত্থাপিত হতো এবং সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হতো বলেও দাবি করেন। এছাড়া হাজী মাহবুব আলম শাহীন তার নিজস্ব ফেইজবুক আইডিতে পোষ্ট করেন, আমি রায়পুরা পৌরসভা আওয়ামী-লীগের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক পরবর্তীতে সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচিত পৌরসভা আওয়ামী-লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং সদস্য কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়। রায়পুরা উপজেলা আওয়ামী-লীগ অদ্যাবদি সংগঠনকে গতিশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষে দায়িত্ব পালন করছি । এ সমস্ত মিথ্যা-ভূয়া প্রপাগান্ডা চালিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে । রাজনৈতিক হীন স্বার্থ হাসিলে উদ্দেশ্যে মিথ্যা প্রপাগান্ডার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসাইন বলেন, নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর সভাপতি নির্বাচন করতে শাহীন এর দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করা হলেও তা পদ ত্যাগপত্র গ্রহন করিনি। অপরদিকে কেন্দ্রীয় নির্দেশে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী পৌর মেয়র মোঃ জামাল মোল্লাকে বহিস্কার করা হয়।

রায়পুরা পৌর মেয়র মোঃ জামাল মোল্লা বলেন, নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর সভাপতি নির্বাচন করতে হাজী মাহবুব আলম শাহীন উপজেলা আওয়ামীলীগের নির্বাহী সদস্য ও পৌর আওয়ামীলীগ সভাপতি এর দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেন। শাহীন এর পদ ত্যাগ এর ঘটনা রায়পুরা থানা ও নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর অফিসে সঠিক প্রমান রয়েছে। একটি চক্র এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে ষড়যন্ত্র করছে। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সভানেত্রী প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা গত পৌর নির্বাচনে ১৪০টি মেয়র প্রার্থী বিদ্রোহি হিসেবে বিজয় হয়েছিল তাদেরকে ক্ষমা ঘোষনা করা হয়েছিল। পৌরসভা নির্বাচনের ৪ বছর পর সাধারন সম্পাদক পদ থেকে আমাকে রহস্য জনক কারনে বহিস্কার করা হয়েছে। আমার নাম কেন্দ্রে পাঠানো থেকে বাদ দেওয়ার জন্য তড়িঘরি করে আমাকে দলীয় পদ থেকে বহিস্কার করেছেন। আমার জনপ্রিয়তা দেখে তারা আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থেকে বঞ্চিত করতে এ উদ্যোগ নিয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *