রায়হানের মৃত্যু নিয়ে ফুঁসছে সচেতন মহল

সারাবাংলা

স্ত্রীর হত্যা মামলা দায়ের :সিসিটিভি ফুটেজে নেই গণপিটুনির প্রমাণ
সাদিক চৌধুরী, সিলেট ব্যুরো
সিলেটে ছিনতাইয়ের অভিযোগে রায়হান উদ্দিন (৩০) নামে এক যুবককে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে পুলিশ দাবি করলেও সিসিটিভি (ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশন) ফুটেজে এর প্রমাণ নেই। এদিকে পুলিশ নির্যাতনে হত্যার অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করেছেন স্ত্রী। প্রথমে পুলিশের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছিল। গত রোববার ভোরে রায়হানকে নগরের কাষ্টঘরে ছিনতাইকালে গণপিটুনি দেওয়ার পর গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তির পর তার মৃত্যু হয়েছে। নিহত যুবকের স্বজনদের দাবি, দশ হাজার টাকা চাঁদা না পেয়ে রায়হানকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে।
সুরতহালের বরাত দিয়ে হাসপাতাল সূত্র জানায়, নিহতের হাতের নখ টেনে তোলার চেষ্টা করা হয়। তার হাতের মধ্যে সেলাই করা রয়েছে। হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তাতেই বোঝা যায় তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এদিকে নগরের কাষ্টঘর এলাকায় এ দিন সকালে কোন ছিনতাইয়ের গণপিটুনির ঘটনা ঘটেনি বলেও জানান স্থানীয়রা। ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে গণপিটুনির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও জানিয়েছেন স্বানীয় ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মুনিম। অন্যদিকে রায়হান হত্যার প্রতিবাদে নগরীর আখালিয়া এলাকায় সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। এলাকাবাসীরও অভিযোগ, পুলিশ হেফাজতে খুন হয়েছেন রায়হান। হত্যা করার অভিযোগে থানায় মামলা করেছেন নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি (২২)। গতকাল সোমবার ভোররাত তিনটার দিকে সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানায় এ মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি উল্লেখ করেন, প্রতিদিনের মতো গত শনিবার বিকাল ৩টার দিকে তার স্বামী রায়হান আহমদ নিজ কর্মস্থল নগরীর স্টেডিয়াম মার্কেটস্থ ডা. গোলাম কিবরিয়া ও ডা. শান্তা রাণীর চেম্বারে যান। পরদিন রোববার ভোর ৪টা ৩৩ মিনিটে ০১৭৮৩৫৬১১১১ মোবাইল নম্বর থেকে শ্বাশুড়ি (রায়হানের মা সালমা বেগম)-এর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর (০১৭৮৭৫৭০৯৪৯)-এ কল দিলে সেটি রিসিভ করেন রায়হানের চাচা হাবিবুল্লাহ। এসময় রায়হান আর্তনাদ করে বলেন, তিনি বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে আছেন। তাকে বাঁচাতে দ্রুত টাকা নিয়ে বন্দর ফাঁড়িতে যেতে বলেন রায়হান। এ কথা শুনে রায়হানের চাচা ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে রায়হান কোথায় জানতে চাইলে দায়িত্বরত একজন পুলিশ বলেন, সে ঘুমিয়ে গেছে। আর যে পুলিশ রায়হানকে ধরে নিয়ে এসেছেন তিনিও চলে গেছেন। এসময় হাবিবুল্লাহকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফাঁড়িতে আসার কথা বলেন ওই পুলিশ। পুলিশের কথামতো হাবিবুল্লাহ আবারও সকাল পৌনে ১০টার দিকে ফাঁড়িতে গেলে দায়িত্বরত পুলিশ জানান, রায়হান অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে রায়হানের চাচা ওসমানী হাসপাতালে গিয়ে জরুরি বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, রায়হানকে সকাল ৬ টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে তিনি মারা যান। এসময় হাবিবুল্লাহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনকে সংবাদ দিলে তারা গিয়ে ওসমানীর মর্গে রায়হানের ক্ষত-বিক্ষত লাশ দেখতে পান। তানিয়া আক্তার তান্নি মামলায় আরও বলেন, আমার স্বামীকে কে বা কারা বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে গিয়ে পুলিশি হেফাজতে রেখে হাত-পায়ে আঘাত করে এবং হাতের নখ উপড়ে ফেলে। পুলিশ ফাঁড়িতে রাতভর নির্যাতনের ফলে আমার স্বামী মৃত্যুবরণ করেন। এঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার দাবি জানান রায়হানের স্ত্রী।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *