রূপপুর প্রকল্পে আবারো অস্বাভাবিক দামে আসবাব ক্রয়

অর্থ-বাণিজ্য

অর্থনীতি ডেস্ক: রূপপুরে বালিশ কাণ্ড এবং ফরিদপুরের পর্দা কাণ্ডের পর আবার অস্বাভাবিক দামে আসবাবপত্র কেনা হচ্ছে রূপপুর গ্রীন সিটির জন্য। অনিয়ম যেন কোনো ভাবেই পিছু ছাড়ছে না দেশের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আবাসিক প্রকল্পের কেনাকাটায়।

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চীনা কর্মকর্তাদের জন্য বসবাসের জন্য নির্মাণাধীন গ্রীন সিটি আবাসিক প্রকল্পের আসবাবপত্র ক্রয়ে দরপত্র আহবান করা হলেও সর্বনিম্ন দরদাতাকে কার্যাদেশ না দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছ থেকে পণ্য কেনা হচ্ছে। এতে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১১ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, পাবনা গণপূর্ত বিভাগ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মকর্তাদের বসবাসের জন্য আবাসিক প্রকল্প গ্রীন সিটির দশটি ১৬ তলা ভবনের জন্য আসবাবপত্র ক্রয়ের দরপত্র আহবান করা চলতি বছরের ১৯ জুলাই থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত। আসবাবপত্র প্রস্তুতকারী ছয়টি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ গ্রহণ করে।

এতে প্রথম সর্বনিম্ন দরদাতা পারটেক্স ফার্নিচার ৪৪ কোটি ৯২ লাখ ৪৭ হাজার, দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা ৫৪ কোটি ৮৮ লাখ ১২ হাজার এবং তৃতীয় দরদাতা হাতিল দাম দিয়েছে ৫৫ কোটি ৯০ লাখ ৪৫ হাজার ৪১৯ টাকায় ফার্নিচার সরবরাহ করতে চায়। এছাড়াও দরপত্র জমা দিয়েছিল এস রহমান অ্যান্ড ব্রাদাস, ব্রাদার্স ফার্নিচার লিমিটেড ও আকতার ফার্নিচার লিমিটেড।

কিন্তু সর্বনিম্ন দরদাতাকে সরবরাহের কাজ না দিয়ে নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে সর্বোচ্চ দরদাতা হাতিল ফার্নিচারকে কাজ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে সরকারের প্রায় ১১ কোটি টাকার অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। একই মানের পণ্য সরবরাহে সর্বনিম্ন দরদাতার কাছ থেকে সংগ্রহ করার জন্য সরকারি কেনাকাটায় দরপত্র পদ্ধতির প্রচলন থাকলেও রূপপুর গ্রীন সিটির আবাসিক প্রকল্পে অনিয়মই যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক নিজের খেয়াল খুশিমত কোম্পানীকে কাজ দিয়ে দিয়েছেন।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে পাবনা গণপূর্ত বিভাগের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী ও টেন্ডার কমিটির চেয়ারপারসন ও আরিফুজ্জামান খন্দকার বলেন, এই টেন্ডার নিয়মমত সম্পন্ন করা হয়েছে। কোনো ধরণের অনিয়ম হয়নি।

সর্বনিম্ন দরদাতাকে না দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতাকে কাজ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলা মো. আশরাফুল আলম বলেন, আসবাবপত্র ক্রয়ে যদি কোনো ধরণের অনিয়ম করা হয়, তাহলে তদন্ত  করে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকারি কেনাকাটায় অনিয়ম যেন পিছু ছাড়ছে না। রূপপুর গ্রীন সিটির বালিশ কাণ্ডের পর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পর্দা কেনায়ও লুটপাট করা হয়েছে সরকারি অর্থের। কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজশে ঠিকাদারের মাধ্যমে লুটপাট চলছে সরকারি অর্থের

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *