রেটুন ফসল উৎপাদনে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের

সারাবাংলা

রফিকুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম থেকে:
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং উপজেলা কৃষি অফিসের সহয়তায় ধানের রেটুন (মুড়ি) ফসল উৎপাদনে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের। বোরো মৌসুমে ধান কাটার পর বিশেষ করে ব্রি ২৮ জাতের ধান কাটার পরে একই জমিতে মুড়ি (নাড়া) থেকে বিশেষ পরিচর্যার মাধ্যমে এই ধান উৎপাদন করা হচ্ছে। উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নে মুসরুত নাখেন্দা গ্রামের কৃষক অশ্বনী কুমার এবং সুব্রত কুমার নামের দুইজন কৃষক প্রায় ১৭ একর জমিতে মুড়ি ধান উৎপাদন করেছেন। এই ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আতাউর রহমান জানান, বোরো ধান কাটার পর পরে থাকার গাছের মুড়ি/নাড়া পুনরায় ধান উৎপাদনে আমরা কৃষকদের উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছি। এর ধারাবাহিকতায় কৃষকরা দিন দিন এই ধানের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে। মূল ফসল কাঠার ৫ থেকে ৭ দিন পর নাড়া থেকে কুশি বেড় হওয়া শুরু হলে বিঘা প্রতি ইউরিয়া ৭ কেজি, ডিএপি ৫ কেজি, এমওপি ৫ কেজি প্রয়োগ করতে হবে। মধ্যম শ্রেনীর জমিতে ২ থেকে ৩ ইঞ্চি জল ধরে রাখতে হবে। গরু ছাগলের বিচরণ এবং আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। তাহলে স্বল্প খরচে আশানরুপ ফলন সম্ভব।
কৃষক অশ্বিনী কুমার বলেন, আমি এবারে এই প্রথম ১২ একর জমিতে মুড়ি ধান উৎপাদনে লক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছি। সুব্রত কুমার বলেন, ৫ একর জমিতে এবারে মুড়ি ধানের আবদা করেছি। তারা বলেন সব মিলে আমাদের ১৫ একর জমিতে ধান কাটা পর্যন্ত ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হবে এবং উৎপাদন প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ মন আশা করছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সম্পা আকতার সরেজমিনে উপস্থিত থেকে মুড়ি ধান কাটার উদ্বোধন কালে বলেন এই উপজেলায় এই প্রথম প্রায় ২৫ একর জমিতে মুড়ি ধানে উৎপাদন লক্ষ মাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। এর মধ্যে ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নে ১৫ একর।
সাধারণত মধ্যম শ্রেণীর জমিতে ধান কাটার সময় ৮ থেকে ১০ ইঞ্চি নাড়া রেখে ধান কাটতে হবে। মুড়ি ধানের আয়ুস্কাল ৬০ দিন নিধার্রন থাকলেও ৪৫ থেকে ৫০ দিনে ধান কাটার উপযোগি হয়। কুশি ছাড়ার পর প্রয়োজনীয় মাত্রায় সার এবং কীটনাশক ব্যবহার করে কৃষক কাঙ্খিত ফলন পেতে পারেন। এ ব্যাপারে সার্বক্ষনিক উৎসাহ এবং পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *