রেলওয়ে ষ্টেশন এখন অপরাধের প্রাণকেন্দ্র

সারাবাংলা

জাহিদ হোসেন, দিনাজপুর থেকে :
দিনাজপুর রেলওয়ে ষ্টেশন চত্ত্বর থেকে শুরু করে টিকিট কাউন্টার, গেস্টহাউস, প্লাটফর্ম, ওভারব্রীজ, রেল কোয়ার্টার সবকিছুতেই সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে শুরু হয়ে যায় বিভিন্ন ধরনের অপরাধী চক্রের অগাধ বিচরণ। রেল ষ্টেশন চত্ত্বরে মোবাইল ফোনে গ্রাহক ডেকে এনে এক শ্রেণির সরকারি রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন পদ-পদবীর ব্যানার ঝুলানো নামধারী নেতাকর্মীর মাধ্যমে ফেন্সিডিল, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মরণনেশা বিক্রয় হয়ে আসছে। ষ্টেশন চত্ত্বর পেরিয়ে টিকিট কাউন্টার চত্ত্বরে একই নামধারীদের নামে বিচরণরত অপরাধীরা টিকিট ব্লাকিং। একজনের আইডি কার্ড দিয়ে আরেকজনকে আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করে দেওয়ার রমরমা টিকিট ব্লাকিং বাণিজ্য এখনও অব্যাহত। টিকিট কাউন্টার চত্ত্বর পেরিয়ে ১নং ও ২নং প্লাট ফরমে পদার্পণ করলেই চোখে পড়বে বিভিন্ন দেহ ব্যবসায়ী-খদ্দেরদের ব্যাপক আনাগোনা। ঠিক যেন ওপেন মার্কেট। এছাড়াও চোখে পড়বে ওভারব্রীজ, ট্রেনের ওয়াশিং ডক এলাকায় ছিনতাইকারী, মাদকসেবনরত অবস্থায় মাদকসেবীদের অবাধ বিচরণ। সবচেয়ে লক্ষণীয় দুই প্লাটফর্মেই স্থানীয় আন্তঃষ্টেশন পকেটমার ও অজ্ঞানপার্টির অবাধ বিচরণ। এ ব্যাপারে দিনাজপুর রেলওয়ে ষ্টেশন মাষ্টার ও সুপারিনটেন্ট-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে মর্মে অহেতুক আশ্বস্ত করে যাত্রীসহ সাধারণ মানুষকে। গভীর রাত পর্যন্ত রেলওয়ে স্টাফ কোয়ার্টার-এর একেক দিন একেক রুমে ভিতরে চলে হাজার হাজার থেকে শুরু করে লক্ষ লক্ষ টাকার জুয়ার আসর এবং সেই সাথে সেখানেই চলতে থাকে মাদক সেবন, দাদন ব্যবসার কারবার। পাশাপাশি স্থানীয় জিআরপি পুলিশের ওসি গোলজার হোসেন ও থানায় কর্তব্যরত অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী সদস্যদের বিচরণ দেখা গেলেও অপরাধীদের বিরুদ্ধে তাদের কোন পদক্ষেপ মোটেই চোখে পড়ে না।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *