রেলের ৭৮ একর জমি বেদখল

সারাবাংলা

আব্দুল রাশির, গোমস্তাপুর থেকে : চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর রেল স্টেশন ঘিরে ভারতের সিঙ্গাবাদ রেল রুট দিয়ে নেপালকে বাংলাদেশের ট্রানজিট দেওয়ার সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন হলে ত্রিদেশীয় বাণিজ্যের দ্বার খুলে যাবে। এ লক্ষ্যে গত বছর অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেপালের সঙ্গে থাকা ট্রানজিট চুক্তি সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে যাকে নিয়ে এতো কিছু, সেই রহনপুর রেল স্টেশন অবকাঠামোগত উন্নয়ন তেমনতো হয়নি, বরং দিন দিন রেলের জমিগুলো চলে যাচ্ছে দখলদারদের হাতে। দখলদারদের অপতৎপরতায় দখলমুক্ত হচ্ছে না রেলওয়ের জমি। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তা দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদের উদ্যোগ নিলেও অদৃশ্য শক্তির কারণে তা হয়ে উঠছে না।

পশ্চিম রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তির রহনপুর-আমনুরা রেলপথের গোলাবাড়ী থেকে রহনপুর হয়ে ভারত সীমান্তবর্তী শিবরামপুর পর্যন্ত রেলওয়ের মোট ৩৭৮.৮৮ একর সম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে ১৪৭.৮৪ একর জমি রেলের দখলে রয়েছে। এ ছাড়া রেল কর্তৃপক্ষ কৃষি জমি হিসেবে ৮১.২৪ একর, জলাশয় হিসাবে ১২.০১ একর, বিএডিসির সার গুদামের জন্য ৫.০৩ একর, ০.৪৫ একর জায়গা বানিজ্যিক ভিত্তিতে ব্যবহারের জন্য লীজ দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। আর পতিত রয়েছে ৫৪.১৪ একর জমি। এর বাইরে রেলের প্রায় ৭৮.১৬ একর (২৩৪ বিঘা) জমি অবৈধ দখলদারদের হাতে রয়েছে। যে জমির ওপর রেল কর্তৃপক্ষের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।

রহনপুর রেলস্টশনের পশ্চিম দিকের আম বাজার ও পূর্ব দিকের রেলের জায়গা দখল করে দৈনিক বাজার বসিয়ে রহনপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ লাখ লাখ টাকা খাজনা আদায় করছে। বিষয়টি নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষ পৌরসভাকে আইনি নোটিশও দিয়েছে। এদিকে লীজ নেওয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তাদের নির্ধারিত লীজ নেওয়া জায়গার কয়েকগুণ বেশি জায়গা অবৈধ দখলে নিয়ে মার্কেট নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করছে। এতে করে রেলওয়ে বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে। রহনপুর স্টেশন বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি আশরাফুল ইসলাম আশরাফ, মোহাম্মদ হোসেন, সানোয়ার হোসেন ও বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম তুহিন, রহনপুর স্টেশন বাজার এলাকায় রেলওয়ের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে মার্কেট নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া রহনপুর কলেজ মোড় এলাকায় রেলওয়ের জলাশয় দখল করে ওই এলাকার হাবিবুর রহমান হবি ও আশরাফুল ইসলাম মার্কেট নির্মাণ করেছেন। তা ছাড়া হিরুপাড়ায় জাকির হোসেন এমএমফুড নামে একটি বেকারী কারখানা নির্মাণ করেছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত দখলদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা রেলওয়ের জমি অবৈধ দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তারা জানান, রেলওয়ের জমি লীজ নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করছেন। তারা আরও জানান, রেলওয়ের প্রয়োজনে লীজ নেওয়া জমি যেকোনো সময় ছেড়ে দিতে প্রস্তুত তারা।

এ বিষয়ে পশ্চিম রেলওয়ের পাকশী ডিভিশনের ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুজ্জামান জানান, রেলওয়ের জায়গা দখলমুক্ত করতে গেলে স্থানীয় দখলদারদের প্ররোচনায় কিছু লোকজন বাঁধা সৃষ্টি করছে। এ ছাড়া যারা লীজ নিচ্ছেন, তাদের এক বছরের জন্য লীজ দেওয়া হয়। যা প্রতি বছর নবায়ন করার কথা থাকলেও তা না করে বছরের পর বছর অবৈধ দখল করে ব্যবহার করছেন তারা। তবে রেলওয়ের জায়গা দখলমুক্ত করতে সংশ্লিষ্টদের গত বছরের ৮ ডিসেম্বর নোটিশ দেয়া হয়েছে। তারপরও রেলওয়ের জায়গা দখলমুক্ত না হলে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ কাজে এলাকাবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তা কামনা করেন তিনি।

এদিকে ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা রহনপুর রেল স্টেশন এলাকায় রেলওয়ের তত্ত্বাবধায়নে পরিকল্পিতভাবে মার্কেট নির্মাণ করে ব্যবসায়ীদের ব্যবহারের সুবিধা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। আর রেলওয়ের জায়গা দখলমুক্ত করে রহনপুরকে পুর্ণাঙ্গ রেলবন্দরে পরিণত করার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *