রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ছেড়ে পালাচ্ছে

সারাবাংলা

মোহাম্মদ ইব্রাহিম, উখিয়া থেকে:
কক্সবাজার জেলার উখিয়া, টেকনাফ ও ভাসানচরে আশ্রিত রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ছেড়ে পালাচ্ছে। সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারীর খপ্পরে পড়ে অশিক্ষা কুশিক্ষায় জর্জরিত রোহিঙ্গারা সোনার হরিণ ধরার আশায় বুক বেধে ঝুঁকি নিয়ে সাগর পথে পাড়ি জমালেও গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছে। ভূমধ্যসাগরে উপূর্যপুরি নৌকা ডুবির ফলে মৃত্যুর সারি দিন দিন বাড়ছে। মানব পাচার নিয়ে খোদ পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
১৯৯১ সনে সীমান্তের নাফ নদী পার হয়ে কুতুপালং বনভূমির পাহাড়ে আশ্রয় নেওয়ায় রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চেয়ারম্যান হাফেজ জালাল আহমদ জানান, স্থানীয় ও রোহিঙ্গাদের সমন্বয়ে গঠিত একদল মানবপাচারকারী চক্র ক্যাম্পে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তারা মধ্যপ্রাচ্যের যে কোন দেশে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বস্ত করায় রোহিঙ্গারা বিদেশ যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ক্যাম্প ছাড়ছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যম ও স্থানীয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, গত ২ আগস্ট ৩৯৪ জন অভিবাসন প্রত্যাশী লিবিয়া হয়ে তিউনিসিয়া যাওয়ার পথিমধ্যে নৌকাটি বিকল হয়ে ভাসতে ভাসতে ডুবে যায়। এদের মধ্যে অধিকাংশ রোহিঙ্গা নাগরিক ছিল বলে সেদেশের সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গত ২২ জুলাই লিবিয়া হয়ে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে অভিবাসন প্রত্যাশী বোঝাই নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়। ইতালি পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ১৭ জন রোহিঙ্গা নাগরিককে জীবিতাবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও বাকিদের কোনো হদিস পায়নি। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেন, শত চেষ্টা করেও রোহিঙ্গাদের অবৈধ উপায়ে বিদেশ পাড়ি জমানো থেকে নিভৃত করা যাচ্ছে না।
গত ১১ জুলাই সাগর পাড়ি দিয়ে লিবিয়া থেকে রওনা হয়ে তিউনিসিয়ায় যাওয়ার পথে অতিরিক্ত মানব বোঝাই নৌকাটি ডুবে গেলে কোষ্টগার্ডের সদস্যরা ৪৯ জন রোহিঙ্গা নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃতদের বয়স ১৬-৪৫ বলে সংশ্লিষ্টরা প্রেস মিডিয়াকে জানিয়েছেন। এর আগে সিলেট মৌলভীবাজার থানা পুলিশ নারী, পুরুষ, শিশুসহ ১১ জনকে উদ্ধার করে ভাসানচরে স্থানান্তর করেছে বলে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হেলাল উদ্দিন স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
এদিকে ২৪ জুলাই মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর পুলিশ একটি অনুষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ২৫ জন রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করেছে। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহমেদ সনজুর মোরশেদ বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে পালাতে না পারে সে ব্যাপারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। তথাপিও বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা দিয়ে বেশ কিছু রোহিঙ্গা পালাচ্ছে। যাদের অধিকাংশ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ছে। এ বিষয়ে কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শাহ রেজোয়ান হায়াত বলেন, রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প পালানোর পথ রুদ্ধ করার জন্য সেনাবাহিনী ক্যাম্পের চারপাশে ঢল সড়ক নির্মাণ করছে। সড়ক নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে রোহিঙ্গাদের অযথা চলাচলের উপর আরো কড়াকড়ি আরোপ করা হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *