লকডাউনবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল ইউরোপ

আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউরোপে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ মহামারি থেকে দেশকে রক্ষার জন্য ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারকরা আবারও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন। কিন্তু এসব বিধিনিষেধ মানতে নারাজ সাধারণ মানুষ। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। নতুন বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়তে থাকায় ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া, ক্রোয়েশিয়া, ইতালি ও নেদারল্যান্ডসসহ ইউরোপের বিভিন্ন অংশে বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।

খবরে বলা হয়েছে, হেগে’তে শনিবারও দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বাজি নিক্ষেপ ও বাইসাইকেল জ্বালিয়ে দেয়। এর একদিন আগেই রটেরড্যামে চলা বিক্ষোভ সহিংস হয়ে উঠলে পুলিশ গুলি চালায়।
অন্যদিকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে করোনার নতুন ঢেউ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিএইচও)।

ডব্লিউএইচও’র আঞ্চলিক পরিচালক ড. হ্যানস ক্লুজ বলেছেন, ইউরোপে কঠিন পদক্ষেপ না নিলে আগামী বসন্ত নাগাদ আরও প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের মৃত্যু হতে পারে। আমাদের অঞ্চলে আবারও মৃত্যুর এক নম্বর কারণ হয়ে উঠেছে কোভিড-১৯।
তিনি আরও বলেন, ‘ভাইরাস মোকাবিলায় কী করা প্রয়োজন তা আমরা জানি- যেমন ভ্যাকসিন গ্রহণ, মাস্ক পরা এবং কোভিড পাস ব্যবহার করা।’

অস্ট্রিয়ায় লকডাউন ঘোষণার পর হাজার হাজার মানুষ রাজধানী ভিয়েনায় বিক্ষোভ করেছে। সোমবার থেকে দেশটিতে ২০ দিনের লকডাউন শুরু হয়েছে। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য ছাড়া সব ধরণের দোকান বন্ধের পাশাপাশি মানুষকে বাড়ি থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে।ক্রোয়েশিয়ায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য টিকা বাধ্যতামূলক করার পর রাজধানী জাগরিবে হাজার হাজার মানুষ মিছিল করেছে। ইতালিতেও বহু মানুষের বিক্ষোভ হয়েছে।

করোনা সংক্রমণ রোধে বেলজিয়ামেও মাস্ক ব্যবহারের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আগে থেকেই রেস্তোরাঁর মতো জায়গায় গেলে করোনা পাস লাগতো। এ ছাড়া ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত অধিকাংশ বেলজিয়ানিদের সপ্তাহে চার দিন বাসায় থেকে অফিসের কাজ করতে বলা হয়েছে। রোববার (২১ নভেম্বর) করোনার বিধিনিষেধ আরোপের প্রতিবাদে রাজধানী ব্রাসেলসে হাজার হাজার মানুষ এক পদযাত্রায় অংশ নেয়। এসময় পুলিশ তাদের প্রতিহত করতে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। ফলে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

ফ্রান্সের ক্যারিবিয়ান দ্বীপ গুয়াদেলুপে রোববারও (২১ নভেম্বর) করোনা বিধিনিষেধ বিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। সেখানে দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। ফ্রান্স সরকার রেস্তোরাঁ, ক্যাফে, সাংস্কৃতিক ও খেলাধুলার স্থান এবং ভ্রমণে কোভিড পাসের বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। মূলত এই কোভিড পাসের প্রতিবাদের গুয়াদেলুপে বিক্ষোভের সূচনা হয়।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *