লকডাউনের খবরে হতাশ তরমুজ চাষি

সারাবাংলা

আমতলী : সরকারের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তরমুজ বিক্রির দাবি
এইচ এম কাওসার মাদবার, আমতলী থেকে:
লকডাউনের খবরে হতাশ আমতলী উপজেলার তরমুজ চাষিরা। তরমুজের ভালো ফলনে চাষিদের মুখে স্বপ্নের হাসি ফুটলেও লকডাউনের খবরে তা অম্লান হতে চলেছে। বিগত বছরের লোকসান কাটাতে ঘুড়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখলেও লকডাউনের কারণে সে আশার গুড়ে বালি বলে ধারনা করছে তরমুজ চাষি ও ব্যবসায়ীরা। লকডাউনের কারনে গত বছর তরমুজ কম দামে বিক্রি হওয়ায় অনেক লোকসান গুনতে হয়েছে তাদের। অনেক চাষি তরমুজ বিক্রি করতে না পারায় ক্ষেতেই নষ্ট হয়েছে। এ বছর একই অবস্থা হলে সরকারের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তরমুজ বিক্রির দাবী জানান তারা। আমতলী কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর আমতলীতে তরমুজের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৯৯০ হেক্টর। ওই লক্ষমাত্রা অর্জিত হয়েছে। গত বছর তরমুজ চাষ হয়েছিল এক হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ৪৯০ হেক্টর জমিতে তারমুজ চাষ বেশী হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারনে বিগত কয়েক বছর ধরে তরমুজ চাষিরা বেশ লোকসান গুনতে হয়েছে। ফলে তরমুজ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন তারা। এ বছর তরমুজের ভালো ফলন হয়েছে। বাজারে ভালো দাম থাকায় বিগত বছরের লোকসান কাটিয়ে উঠার স্বপ্ন বুনছিল চাষিরা। কিন্তু প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আগামী সোমবার থেকে দেশব্যাপী সাত দিনের লকডাউন ঘোষণা দিয়েছেন সরকার। এ লকডাউনের ঘোষণায় চাষিরা হতাশ হয়ে পরেছেন। গত বছর ভালো ফলন হলেও লকডাউনের কারনে অনেক চাষি কম মূল্যে তরমুজ বিক্রি করতে হয়েছে। আবার অনেক চাষির তরমুজ বিক্রি করতে পারেনি। ফলে খেতেই নষ্ট হয়েছে। এ বছরও একই অবস্থা হবে বলে ধারনা করছেন তারা। এ ছাড়া লকডাউনের কারণে এ অঞ্চলের তরমুজ ঢাকা, গাজীপুর, বগুড়া, কুমিল্লা, গাইবান্দা, টাঙ্গাইল ও খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রপ্তানী বন্ধ হয়ে যাবে ধারনা করছেন চাষি ও পাইকারী ব্যবসায়ীরা। এতে আরও লোকসানে পড়বে চাষিরা।
আমতলীর আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাখালী গ্রামের তরমুজ চাষি আলমগীর আকন, কামাল হাওলাদার, শহীদুল গাজী, মাহবুব মাতুব্বর, লিমন গাজী ও মাহাতুল মল্লিক বলেন, আবার লকডাউন এসেছে। কি হয় আল্লাই জানে। এ বছর আশা করেছিলাম ভালো দামে তরমুজ বিক্রি করবো কিন্তু তা হয় কিনা জানিনা। তারা আরও বলেন, লকডাউনের কারনে গত বছর তরমুজ কম দামে বিক্রি করেছি। বিক্রি করতে না পারায় অনেক তরমুজ ক্ষেতেই নষ্ট হয়েছে। এ বছর এমন অবস্থা হলে সরকারের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তরমুজ বিক্রির দাবী জানান তারা। কুকুয়া ইউনিয়নের চুনাখালী গ্রামের ওহাব মৃধা, বাহাউদ্দিন হাওলাদার ও রাজ্জাক মৃধা বলেন, গত বছর লকডাউনের কারনে পাইকার এসেও তরমুজ ক্রয় করেনি। তাই কম দামে বিক্রি করতে হয়েছে। এ বছরও লকডাউন থাকলে তরমুজ নিয়ে বিপাকে পরতে হবে।
আমতলী গাজীপুর বন্দরের তরমুজ ব্যবসায়ী মোঃ সোহেল রানা বলেন, লকডাউন থাকলে পরিবহন সমস্যায় দুর-দুরান্ত থেকে ব্যাপারীরা তরমুজ কিনতে আসবে না। এতে স্থানীয় বাজারে তরমুজের চাহিদা কমে যাবে। ফলে দামও কমবে। সব মিলিয়ে তরমুজ নিয়ে চাষিরা মারাত্মক সমস্যায় পরবে। লকডাউনের খবর শুনে ক্ষেত থেকে তরমুজ কাটা বন্ধ করে দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, লকডাউনের মধ্যে তরমুজ পরিবহনে যাতে সমস্যা না হয় সেই দিকে প্রশাসনকে নজর দেওয়ার দাবী জানাই। আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিএম রেজাউল করিম বলেন, লকডাউনের কারনে তরমুজ পরিবহন ও বিক্রিতে সমস্যা হলে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আমতলীর তরমুজ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হবে। কৃষকদের যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেই দিকে যথাযথ খেয়াল রাখা হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *