লকডাউনে চলে না যান ॥ তবুও ছুটছেন গন্তব্যে

সারাবাংলা

সোহেল রানা, শ্রীপুর থেকে:
সরকারি সিদ্ধান্তে করোনাভাইরাস সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায়  মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, গাজীপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী ও গোপালগঞ্জে লকডাউন দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩০ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত এই নির্দেশনা কার্যকর থাকবে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কও গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকেই অনেকটা ফাঁকা। যাত্রীর সংখ্যা কম থাকার কারণে যানবাহনও কম। গতকাল মঙ্গলবার ভোর থেকেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিতে দেখা গেছে। সড়কে সাধারণ পরিবহন চলাচল কম থাকলেও মানুষের চলাচল ছিল অন্য দিনের মতোই। গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও জেলাজুড়ে অটোরিকশাসহ অন্য যান চলতে দেখা গেছে। সকাল থেকে বৃষ্টি থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে মানুষের চলাচল। শিল্প-কারখানা খোলা থাকায় শ্রমিকদের চলাচল দেখা গেছে। যানবাহন না পেয়ে পায়ে হেঁটেই কর্মস্থলে গেছেন শ্রমিকরা। সড়কে অপেক্ষারত যাত্রীরা উপায় না পেয়ে হেঁটে ছুটছেন গন্তব্যের পানে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কঠোর লকডাউনকে কেন্দ্র করে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জন অফিস। প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা ও মহানগর পুলিশও। এরই মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার ভোর থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয় জেলার সব প্রবেশদ্বার। গাজীপুর জেলার সবগুলো রেল জংশনে বন্ধ রয়েছে যাত্রী ওঠা-নামা। মহাসড়কের মাওনা, গড়গড়িয়া মাস্টার বাড়ী, রাজেন্দ্রপুর গিয়ে দেখা যায়- কড়া অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। চলাচলকারী যানবাহনকে আটকে দিচ্ছে পুলিশ। যাত্রীরা অবশেষে হেঁটেই যাচ্ছেন। যাত্রী মোবারক হোসেন এসেছেন কাপাসিয়া থেকে। লকডাউনের খবর না জেনেই বের হন বাড়ি থেকে। পথিমধ্যে এ লকডাউনের খবর পেয়েছেন বলে তিনি জানান। জয়দেবপুর থানার এসআই আলমগীর হোসেন জানান, ঢাকার দিকে যান চলাচল আটকে দেওয়া হচ্ছে। লকডাউন উপেক্ষা করে গাজীপুর-টাঙ্গাইল সড়কে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। তবে তুলনামূলকভাবে কম। যানবাহন না থাকায় যাত্রীরা দুর্ভোগ মেনেই অবশেষে হেঁটেই ছুটছেন। হাইওয়ে থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক আতিকুল ইসলাম জানান, গাজীপুর ও ময়মনসিংহের সীমান্ত এলাকা জৈনা বাজারে যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। সরকারি নির্দেশে পণ্যবাহী ও অনুমোদিত গাড়ি ছাড়া কোনো গাড়ি গাজীপুরে প্রবেশ ও বের হতে দেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে যোগাযোগ করা হলে জেলা সিভিল সার্জন ডা. খাইরুজ্জামান বলেন, এখন পর্যন্ত গাজীপুরে করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়নি। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আম নিয়ে আসা আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের গাজীপুর জেলার প্রবেশপথগুলোতে করোনার নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। জেলার কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনার চিকিৎসায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে করোনা ইউনিটে ১৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *