লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে বোরো

সারাবাংলা

এম. পলাশ শরীফ, মোরেলগঞ্জ থেকে:
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে বোরো মৌসুমে ব্রি-৬৭ ধানে ভালো ফলনে সম্ভাবনা। কৃষকের মুখে হাসি। নতুন প্রজাতের এ ফসলে ৫ হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমিতে উৎপাদন করেছে কৃষক। সমগ্র মাঠ জুড়ে এখন সবুজের সমরোহ। লক্ষ্যমাত্রা ৫ হাজার ২৫ হেক্টর থাকলেও ছাড়িয়ে অর্জিত হয়েছে ৫ হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমিতে। প্রয়োজনীয় কৃষি যন্ত্রাংশের সেচ ব্যবস্থার অভাব থাকলেও। দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে নতুন নতুন এ প্রজাতের ফসল উৎপাদনে। সরকারিভাবে পর্যাপ্ত সেচ মেশিনের ব্যবস্থার জন্য জোর দাবী করেন সাধারণ কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বারে উপজেলার রামচন্দ্রপুর, বনগ্রাম, চিংড়াখালী, হোগলাপাশা, দৈবজ্ঞহাটী ও তেলিগাতি ইউনিয়নে বোরো মৌসুমে ৫ হাজার ৪শ’ ৭৫ হেক্টর জমিতে ব্রি-৬৭, বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ৫ হাজার ২৫ থাকলেও অর্জিত হয়েছে ৫ হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমিতে। সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, উপজেলার চিংড়াখালী ইউনিয়নের এবারে বোরো মৌসুমে আমন কাটার পরবর্তীতে ৪৩০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছেন সাধারণ কৃষকরা। এর মধ্যে বীজ উৎপাদনে ৫ একর জমিতে ১৫ জন চাষি মিলে প্রদর্শনী বীজতলা তৈরি করেছেন। এ প্রদর্শনীর বীজ থেকে বীজ উৎপাদন করে অন্য চাষিদের চাহিদা মিটাবে তারা। এ ফসলে প্রতি কৃষক ৬৬ শতক জমিতে ৫৫ থেকে ৬০ মন ধান ঘরে তুলতে পারবেন বলে আশা করছেন। কথা হয় ওই গ্রামের কৃষক পলাশ রায়, মিঠুন রায়, রিপন রায়, গৌতম মিন্ত্রী, তপন রায় সহ একাধিক কৃষকরা জানান, এক সময় তারা এ ফসলী জমিতে দেশী আমন ধান উৎপাদনের পরবর্তীতে পতিত অবস্থায় পড়ে থাকতো শত শত বিঘা ফসলী জমি। যেখানে আমন ফসল উৎপাদন হতো বিঘা প্রতি ৩০ মন। একই জমিতে এখন স্বল্প সময়ে মাত্র ৫ মাসের ব্যবধানে অধিক লাভবান হচ্ছে। এপ্রিল ও মে মাসের প্রথম দিকে এ প্রজাতের ধান তারা ঘরে তুলতে পারবেন। বাজারে দামও রয়েছে বেশী। প্রতিমন ধান বিক্রি হচ্ছে ১১শ টাকা দরে। সমগ্র মাঠ জুড়ে এখন সবুজের সমরোহ। ধানের শীষগুলোতে এখন কুশি কাস্তরা পর্যায় রয়েছে। এ বিষয়ে ইউনিয়ন উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মইনুল ইসলাম বলেন, কৃষি অফিসের মাধ্যেমে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে সার বীজ ও সঠিক পরামর্শের মাধ্যমে নতুন নতুন প্রজাতের ফসল উৎপাদনে আগ্রহ বাড়ানো হয়েছে কৃষকদের। এ সম্পর্কে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. সিফাত আল মারুফ জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কোন পতিত জমি অনাবাদি থাকবে না। সে ক্ষেত্রে কৃষকদেরকে আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিনামূল্যে সার বীজ বিতরণ, সঠিক সময়ে ফসল উৎপাদনে কৃষকদেরকে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। যে কারনেই ব্রি-৬৭ উৎপাদনে অতিরিক্ত অর্জিত হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *