লাউয়াছড়া উদ্যান : মাধবপুর লেক পর্যটকের আনাগোনা

সারাবাংলা

সালাহ্উদ্দিন শুভ, কমলগঞ্জ থেকে
করোরা সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনায় মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেকে পর্যটকের প্রবেশ ও ঘোরাঘুরি নিষেধ। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান প্রবেশ ফটক বন্ধ থাকায় ভিতরে প্রবেশ করতে না পারলেও উদ্যাদের প্রবেশ মুখে পর্যটকরা ঘোরাঘোড়ি করছেন। তবে মাধবপুর চা বাগান লেকে সরকারী নির্দেশনা না মেনেই ভিতরে পর্যটকরা ঠিকই প্রবেশ করছেন। তাও আবার করোনা প্রতিরোধে যা যা প্রয়োজন তা না ব্যবহার করে ভেতরে দল বেধে প্রবেশ করছেন। গতকাল রোববার দুপুরে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকা ঘুরে দেখা যায়, উদ্যানের যায় প্রধান ফটক তালাবদ্ধ থাকায় ও নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্কতায় সেখানে কোন পর্যটক প্রবেশ করতে পারেননি। তবে বিভিন্ন স্থান থেকে মোটরসাইকেল, সিএনজি অটোরিক্সা, ব্যক্তিগত কার, মাইক্রোবাস ও পিকআপে করে আসা পর্যটকরা উদ্যানের বাইরে কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়কের পাহাড়ি রাস্তা এলাকায় ঘোরাঘুরি করে ছবি তুলেন। পর্যটকরা লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের প্রধান ফটকের সামনে ছবি তুলছেন। এ সুযোগে কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ দোকানও বসেছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের কার পার্কিং এলাকায়। আগত পর্যটকরা সড়ক ধারের পাহাড়ি টিলার উপর উঠানামা করেন। এসব পর্যটকরা আবার পরবর্তীতে মাধবপুর লেক এলাকায় প্রবেশ করছেন। আবার টাকা দিলে দেখা যায় গাড়ি গেলে ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছে।
মাধবপুর চা বাগান লেক এলাকা গেলে দেখা যায়, লেকে যাবার আগে ২টি স্থানে চা বাগানে ফটক রয়েছে। ফটকে পর্যটকদের ব্যবহৃত যানবাহন আটকিয়ে পায়ে হেটে পর্যটকদের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। মাধবপুর চা বাগান কারখানা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার ভেতরে তিন দিকের উঁচু পাহাড়ি টিলা বেষ্টিত লেকে পর্যটকরা দল বেঁধে যাতায়াত করছেন। লেকের এলাকায় চা গাছ আচ্ছাদিত টিলায় পর্যটকরা উঠে ছবিও তুলছেন। উপর থেকে আবার নিচের লেকের সৌন্দর্য ক্যামেরাবন্দিও করছেন।
আবার মাধবপুর লেকে গেলে দেখা যায়, স্থানীয় শিল্পীরা গান ও বাশি বাজিয়ে পর্যটকদের আর্কষণ করছেন। আবার পর্যটকরা নয়ানাবিরাম পরিবেশে গান শুনে আনন্দ উপভোগ করছেন। এদিকে মাধবপুর লেকে আসা পর্যটক কলেজ ছাত্র শেখ সামি বলেন, দীর্ঘ ৭ মাস ঘরবন্দি থেকেছি আর পারছি না। তাই পরিবারের সবার সঙ্গে কিছুটা আনন্দ উপভোগ করার জন্য মাধবপুর লেকে এসেছি। অন্যদিকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে আশা কয়েকজন পর্যটকরা অভিযোগ করে বলেন, আমার ঢাকা, চিটাগাং, চাঁদপুর থেকে এসেছেন। কিন্তু দেশের মোটামোটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্পটগুলো খুলে দেওয়া হলো, কিন্তু লাউয়াছড়াটা জাতীয় উদ্যান খুলে দিল না কর্তৃপক্ষ। বড় আশা করে আমরা এসেছিলাম, কিন্তু এখন আবার বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিবো আমরা। ইকো ট্যুর গাইড আহাদ মিয়া বলেন, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে গত ১৯ মার্চ থেকে জাতীয় উদ্যানে পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এরপর থেকে জাতীয় উদ্যানে কোন পর্যটক প্রবেশ করতে পারছেন না। লাউয়াছড়া বনরেঞ্জ কর্মকর্তা মোনায়েম হোসেন বলেন, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধের কারণে সরকারি নির্দেশনায় গত ৭ মাস ধরে এ উদ্যানে পর্যটকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এই ৭মাস বন্ধ থাকায় সরকার রাজস্ব হারিয়েছে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা। এখন স্বাস্থ্যবিধি মেনে খুলে দেওয়াটা উচিত মনে করেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *