লালপুরে রোপা আউশের ভালো ফলন কৃষকের মুখে খুশির ঝিলিক

সারাবাংলা

মোস্তফা বায়েজিদ কাদের, লালপুর থেকে
আগে রোপা আউশ ধানের ফলন খুব একটা হতো না। কিন্তু বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও উন্নত জাতের আউশ ধান চাষ করায় নাটোর জেলার লালপুরে রোপা আউশ ধানের ভালো ফলন হয়েছে। খরচ কমও স্বল্প সময়ে পাকা ধান ঘরে তুলতে পারায় চলতি মৌসুমে রেকর্ড পরিমান জমিতে রোপা আউশ ধানের চাষ করেছে এই অঞ্চলের কৃষকরা। বিঘা প্রতি ১৪-১৫ মণ হারে ধানের ফলন হওয়ায় হাঁসি ফুটেছে এই অঞ্চলের ধান চাষীদের মুখে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৩৯০ হেক্টর জমিতে রোপা আউশ চাষের লক্ষমাত্রা থাকলেও চাষ হয়েছে ৪১০ হেক্টর জমিতে। যা রেকর্ড পরিমান। এই সকল জমি থেকে হেক্টর প্রতি ২.৮ টন ফলন হিসেবে ১৮৪৫ টন ধান ও ১২শ ৩০ মেট্রিক টন চাউল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রায় জমিতেই দেশি জাতের পরিবর্তে উফশি ও হাইব্রিড জাতের উচ্চ ফলনশীল ব্রিধান -৪৮, ৮২ ও ৫০ চাষ হয়েছে।
সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মাঠে মাঠে দুলছে সোনালী রঙএর পাকা ধান। কাক ডাকা ভোর থেকে কৃষকরা মাঠে পাকা ধান কাটছে কেউ বা মাড়াই করছে। কৃষক পরিবারের সদস্যরা মাড়াই করা ধান ঘরে তুলছে। সব মিলিয়ে এই অঞ্চলের কৃষক পরিবার গুলি এখন দারুন ব্যস্ত সময় পার করছে।
এসময় ধান চাষী সুপ্রিয় জানায়, আগে তিনি রোপা আউশের চাষ না করলেও খরচ কম হওয়ায় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা খরচ করে মাত্র ১০০-১১০ দিনে পাকা ধান ঘরে তোলা যায় পাশাপাশি রোপা আউশ ধান কেটে আবার একই জমিতে রোপা আমন ধান রোপন করা যায় জেনে এবার তিনি ২ বিঘা জমিতে রোপা আউশ ধানের চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় বিঘা প্রতি ১৪ মন হারে ধানের ফলন হয়েছে। তার মতে অন্য আবাদের চেয়ে রোপা আউশ ধানের চাষ করা লাভজনক। ধান চাষী রউফ জানান, কৃষি অফিস থেকে শুনে তিনি নতুনই এই ধানের চাষ করেছেন। কম খরচে ধানের ভালো ফলন হওয়ায় তিনি খুশি। আগামীতে এই ধানের চাষা আরো বেশি করবেন বলে তিনি জানান। লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘লালপুরে আগে তেমন রোপা আউশ ধানের চাষ হতো না এবার কৃষি অফিসের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের উদ্বুগ্ধ করায় রেকর্ড পরিমান জমিতে রোপা আউশের চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় রোপা আউশের ভালো ফলন হয়েছে। আগামীতে এই ধানের চাষ আরো বৃদ্ধি পাবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।’

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *