লালবাগে মঙ্গলী মেলা ঘিরে করোনা সংক্রমণের শঙ্কা

জাতীয়

এসএম দেলোয়ার হোসেন:
সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার মধ্যেই রাজধানীর পুরান ঢাকার লালবাগের নবাবগঞ্জ বেড়িবাঁধে অবৈধভাবে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। এমনকি ‘হলি ডে’ মার্কেটের নামে ফুটপাতে কয়েক হাজার দোকান বসিয়ে লাখ লাখ টাকার চাঁদা তোলা হচ্ছে। স্থানীয় একটি চক্র ডিএসসিসি, থানা-ফাঁড়ি পুলিশ ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলদের ম্যানেজ করে প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার সকাল-সন্ধা দোকান বসিয়ে হকারদের কাছ থেকে নির্ধারিত হারে চাঁদার টাকা তুলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফুটপাতের এসব দোকান ঘিরে নারী-শিশুসহ লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটছে ব্যস্ততম এই বেড়িবাঁধের সড়কে। এতে একদিকে যেমন লঙ্ঘিত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি, অন্যদিকে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। প্রকাশ্যে এমন মিলনমেলা দেখেও রহস্যজনক কারণে নির্বিকার রয়েছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার এমন পরিস্থিতিতে ব্যস্ততম বেড়িবাঁধে গড়ে ওঠা মঙ্গলী মেলা বা হলি-ডে মার্কেট ঘিরে করোনার সংক্রমণ বাড়তে পারে। এখনই তা বন্ধ না করলে সামনে করোনা ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। এদিকে পুলিশ বলছে, ফুটপাতের হকার বসানো-ওঠানোর বিষয়ে দেখভাল করেন ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ। তারা যদি পুলিশের সহযোগিতা চায়, সেখানে সহযোগিতা করা হবে। তবে করোনার সংক্রমণ রোধে আইজিপি মহোদয়ের নির্দেশে তারা জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করেছেন। জনসমাগম স্থল এড়িয়ে চলতে ও মাস্ক পড়তে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। বেড়িবাঁধ এলাকা সরেজমিন ঘুরে হকারসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় তা প্রতিরোধ নানামুখি কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। ইতোমধ্যেই করোনার সংক্রমণ রোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১১টি নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও করোনা রোধে মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিতকরণসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছে। ওই নির্দেশনা এখনও কেউ মানছে না। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ব্যস্ততম লালবাগের নবাবগঞ্জ বেড়িবাঁধে ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষের যথাযথ অনুমোদন না থাকলেও স্থানীয় সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র দুই সহস্রাধিক হকার বসিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এসব দোকান ঘিরে প্রতিসপ্তাহের মঙ্গলবারসহ প্রতিদিনই নারী ও শিশুসহ লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটছে। এতে একদিকে যেমন লঙ্ঘিত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি, অন্যদিকে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। প্রকাশ্যে এমন মিলনমেলা দেখেও রহস্যজনক কারণে নির্বিকার রয়েছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনসহ জনপ্রতিনিধিরা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন পুরান ঢাকার লালবাগের নবাবগঞ্জ বেড়িবাঁধে সপ্তাহের প্রতি মঙ্গলবার ‘হলি ডে’ মার্কেটের নামে ব্যস্ত এ সড়কের একপাশের ফুটপাতে দোকান বসিয়ে বাণিজ্য করে আসছে স্থানীয় একটি চক্র। ২ থেকে ৫ ফুটের জায়গায় চৌকি বা পলিথিন বিছিয়ে নানা ধরণের নিত্যপণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন হকাররা। দোকান প্রতি শ্রেণিভেদে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করছে ওই চক্রটি।
হকাররা বলছেন, চাঁদা না দিলে এখানে কাউকে দোকান বসতে দেয় না ফুটপাত নিয়ন্ত্রণকারী কথিত নেতা জাকির, রাসেল, মোকলেস, ফেরদৌস, সাগের, শাকিল, অটোশাহীন, বাসেদ ও সাগরসহ তাদের অনুসারিরা। তারা আরও বলছেন, ফুটপাতের চাঁদার টাকায় জাকির লালবাগে দু’টি বহুতল ভবন তৈরি করেছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী বিএনপি নেতা শাকিল ও সিরাজ তালুকদার গড়ে তুলেছেন বিশাল অট্টালিকা। স্থানীয়রা বলছেন, পুলিশ ও ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অবগত থাকলেও অজ্ঞাত কারণেই ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফুটপাতের দোকান বসানোর নেপথ্যে লাখ লাখ টাকার চাঁদা উত্তোলন আর ভাগ-বাটোয়ারা হচ্ছে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনসহ ডিএসসিসি-পাউবো কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবকেই দায়ী করছেন স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক হকার জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নাম ভাঙিয়ে কথিত ‘হলি ডে’ মার্কেট খুলে বেড়িবাঁধের ফুটপাতে সপ্তাহের প্রতি মঙ্গলবার বসানো হয় বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দুই সহস্রাধিক দোকান। এই মার্কেটটি ক্রেতা-বিক্রেতা সবার কাছে মঙ্গলী মার্কেট বা মঙ্গলী মেলা নামেই বেশি পরিচিত। এই মার্কেটটি নিয়ন্ত্রণ করেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিমের অনুসারি ও স্থানীয় ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মুকবুল হোসেনের আস্থাভাজন নবাবগঞ্জ পার্ক সংলগ্ন সেকেন্ড লেনের বাসিন্দা ক্ষমতাসীন দলের নেতা পরিচয় দানকারী জাকির। তিনিই ফুটপাতে কাকে বসাবেন, আর কাকে বসাবেন না, তা নির্ধারণ করে দেন। ২ থেকে ৫ ফিট দোকান বসালে দোকান প্রতি শ্রেণিভেদে ৫শ থেকে ৮শ টাকা হারে চাঁদা দিতে হয়। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বসতে দেওয়া হয় না। বেড়িবাঁধের মঙ্গলী এ মার্কেটে প্রতি সপ্তাহে ১৫শ থেকে ২ সহস্রাধিক হকার বসে বেচাকেনা করেন। দোকান চলে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। বেচাবিক্রি হোক আর না হোক দুপুরের দিকেই প্রতি দোকান থেকে দৈনিক চাঁদার টাকা তুলে নেয় জাকির, রাসেল, বাসেদ, মোকলেস, মাহাবুব, শাকিল, সিরাজ তালুকদার, সাগের ও ফেরদৌসসহ স্থানীয় আরও বেশকিছু নেতাকর্মী। চাঁদার এ টাকা উত্তোলন শেষে মঙ্গলবার রাতেই নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে নেন তারা। চাঁদার একটি অংশ পৌঁছে দেওয়া হয় লালবাগ বিভাগের ডিসি’র কার্যালয়ে, লালবাগ থানায় এবং নবাবগঞ্জ সেকশন পুলিশ ফাঁড়িতে। এছাড়াও চাঁদাবাজিতে রয়েছে টহল পুলিশ ও আনসার সদস্যদের অপতৎপরতা। এদিকে নবাবগঞ্জ ক্লাববাড়ির মদনার ক্ষেত বেড়িবাঁধ সংলগ্ন ঢালে ত্রিপল ও তাবু টাঙিয়ে বাঁশ-খুঁটির ঘর তৈরি করে গড়ে তোলা হয়েছে ফার্ণিচার মার্কেট। এ মার্কেটে রয়েছে শতাধিক দোকানপাট। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিত্যক্ত এ জমিতে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল এসব দোকান ঘর তুলে ব্যবসায়ীদের কাছে মাসিক গড়ে দোকান প্রতি ১০ হাজার থেকে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ভাড়ায় দিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানায়, ইতোপূর্বে পানি উন্নয়ন বোর্ড তাদের সম্পত্তি দখলমুক্ত করতে অবৈধ দখলদারদের নামের তালিকা করে প্রথমে নোটিশ প্রদান করেন। ওই নোটিশেও দোকান না সরানোয় গত বছরে দু’দফা উচ্ছেদ কার্যক্রম চালিয়েছে সংস্থাটি। এরপর সীমানা নির্ধারণ করে পিলার স্থাপন করলেও কয়েকদিন না যেতেই রাতের আধারে সেই সীমানা পিলার সরিয়ে রং তুলির দাগ মুছে আগের জায়গায় ফিরে এসেছে অবৈধ দখলদাররা। অপরদিকে পুরান ঢাকার লালবাগবাসীর পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণে ডিএসসিসি-পাউবোর যৌথ উদ্যোগে নবাবগঞ্জ বাজার সংলগ্ন বেড়িবাঁধের সøুইচ গেট সচল ও দখল-দূষণমুক্ত রাখতে চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম দিকেই সীমানা পিলার বসিয়ে তাঁরকাটার বেড়া দেওয়া হয়। কিন্তু অবৈধ দখলদারদের দখল পাকাপোক্ত করতে ক্রেতা ও মালামাল আনা নেওয়ার প্রবেশমুখ খোলা রেখে যায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। জানা গেছে, ওই তাঁরকাটার বাউন্ডারির ভেতর থাকা বিএনপি নেতা শাকিল ও অটোশাহীনের প্রায় ২০টি ফার্নিচার দোকান রয়েছে। এর বিপরীতে রয়েছে কামরাঙ্গীরচরের ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কথিত নেতা মো. সিরাজ তালুকদারের রিকশা-ভ্যান রাখার দুটি গ্যারেজ। এসব গ্যারেজ ও ফার্ণিচার দোকান থেকে প্রতি মাসে লাখ টাকার ওপরে ভাড়া তুলে নেয় শাকিল, সাগর, শাহীন ও সিরাজ তালুকদার। এর উপর এখন নতুন করে চাঁদার ভাগ আদায়ে তৎপরতা শুরু করেছেন থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সাগের ও তার অনুসারি ফেরদৌস। ক্ষতি এড়াতে তারা ৪টি প্রবেশমুখ রেখে চারপাশে তাঁরকাটার বেড়া নির্মাণে ঠিকাদারকে ঘুষ দেন ৬০ হাজার টাকা। আর এতেই অবৈধ দখলদার শাহীন, শাকিল, সাগর ও সিরাজের নিয়ন্ত্রণে থাকা ফার্ণিচার মার্কেট ও রিকশা-ভ্যান গ্যারেজগুলো উচ্ছেদের পরিবর্তে পুরোপুরিই সুরক্ষিত হয়ে রয়েছে।
ফার্নিচার ব্যবসায়ীরা জানান, তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা জামানত দিয়ে দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক ভাড়ায় এসব দোকান চালাচ্ছেন। মাঝেমধ্যে থানা ও ফাঁড়ি পুলিশ ঝামেলা করে। কিন্তু থানা ও ফাঁড়ি পুলিশের ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে প্রতিমাসে মোটা অংকের চাঁদা দিতে হয়। পুলিশের ঝামেলার বিষয়টি দেখেন ফার্ণিচার ব্যবসায়ী স্থানীয় প্রভাবশালী সাগর। তারা জানায়, প্রতি দোকান থেকে সাগরই চাঁদার টাকা তুলে লালবাগ থানা ও ফাঁড়ি পুলিশের নিকট পৌঁছে দেন। এখানে মাসিক ভাড়া ১ লাখ টাকা মূল্যমানের জায়গায় সাগরের দু’টি ফানিচারের দোকান রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফার্নিচার মার্কেট থেকে আদায়কৃত অর্থের মধ্যে লালবাগ থানায় ৩০ হাজার টাকা ও নবাবগঞ্জ সেকশন পুলিশ ফাঁড়িতে ১৫ হাজার টাকা মাশোহারা দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সাগের ও ফেরদৌস ফার্ণিচার মার্কেটটি ডিএসসিসি থেকে লিজ আনার কথা বলে ব্যবসায়ীদের চাপে রেখে লাখ লাখ টাকার চাঁদা তুলছেন বলে অভিযোগ করেছেন ফার্ণিচার ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয়রা ঢাকা প্রতিদিনকে জানান, পুরান ঢাকার লালবাগের বেড়িবাঁধটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ঝুঁকি নিয়েই প্রতিনিয়ত লালবাগ-কামরাঙ্গীরচর, কেরানীগঞ্জসহ আশপাশের লোকজন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। সপ্তাহের প্রতিদিন যেমন-তেমন। কিন্তু মঙ্গলবার এলেই নবাবগঞ্জ বেড়িবাঁধ পশুর হাটে পরিণত হয়। ব্যস্ত এ সড়কে নিত্যপণ্যের হাজারো দোকানপাট বসানোয় প্রতি মঙ্গলবারই হাজারো নারী-শিশু পণ্য কিনতে ভিড় করছে এই সড়কে। এতে অনেকসময় রাস্তা পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ছে কেউ, খোঁয়াচ্ছে টাকা-কড়ি, মোবাইল সেট। একই সঙ্গে কেউ স্বাস্থ্যবিধি না মানায় এই জনপদে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এর আগেও ঢাকা প্রতিদিন ও নিউজ মেইলসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফুটপাত দখল-চাঁদাবাজির বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণেই নির্বিকার রয়েছে পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পুলিশ ও ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অবগত থাকলেও অজ্ঞাত কারণেই ফুটপাত উচ্ছেদে এবং স্বাস্থ্যবিধি মানাতে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বিধি অনুযায়ী ফুটপাতে দোকান বসালে মামলা দেওয়ার কার্যাদেশ রয়েছে। অথচ থানা বা ফাঁড়ি পুলিশও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। মূলত ফুটপাতের দোকান বসানোর নেপথ্যে লাখ লাখ টাকার চাঁদা উত্তোলন আর ভাগ-বাটোয়ারাই দোকান বসাতে উৎসাহ দিচ্ছে অবৈধ দখলদার ও ফুটপাত নিয়ন্ত্রণকারীসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনসহ ডিএসসিসি-পাউবো কর্তৃপক্ষের তদারকি না থাকায় করোনার এ অবস্থা আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। অচিরেই ব্যস্ততম এ সড়ক থেকে ফুট দোকান অন্যত্র সরিয়ে নিতে আইনের যথাযথ প্রয়োগের বিকল্প নেই বলে জানান স্থানীয়রা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, করোনার এমন পরিস্থিতিতে লালবাগের ব্যস্ততম বেড়িবাঁধে গড়ে ওঠা মঙ্গলী মেলা বা হলি-ডে মার্কেট ঘিরে জনসমাগম ঘটায় করোনার সংক্রমণ বাড়তে পারে। এখনই তা বন্ধ না করলে সামনে করোনা ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে।
এ ব্যাপারে বেড়িবাঁধের ফুটপাত নিয়ন্ত্রণকারী নেতা জাকির বলেন, এখানে ফুটপাতে দোকান বসানোর জন্য ডিএসসিসি’র মেয়রসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এবং লালবাগের ডিসি অফিস ও থানার অফিসার ইনচার্জসহ ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছ থেকে অনুমোদন নিয়েছি। তাই সিটি করপোরেশনের নামেই প্রতি দোকান থেকে নির্ধারিত চাঁদা তোলা হয়।
এদিকে ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মকবুল হোসেন ঢাকা প্রতিদিনকে বলেন, কে বা কারা বেড়িবাঁধে দোকান বসানোর জন্য ডিএসসিসি থেকে অনুমোদন এনেছে এবং দোকান থেকে চাঁদা তুলছে, তা তিনি জানেন না। এর সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত নন বলেও দাবি করেন কাউন্সিলর মকবুল হোসেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, করোনা রোধে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছি। সরকার যদি লকডাউন দেয়, তাহলে এমনিতেই এসব বন্ধ হয়ে যাবে। এরপরও বিষয়টি ডিএসসিসিসহ উপর মহলে জানানো হবে। নির্দেশনা পেলে অবশ্যই এসব দোকান বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লালবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে এম আশরাফ উদ্দিনের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কেউ দোকান বসালে বা চাঁদাবাজির অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. রাসেল সাবরিন বলেন, লালবাগের নবাবগঞ্জ বেড়িবাঁধে ২০টি দোকান বসানোর জন্য অনুমোদন চেয়ে ডিএসসিসি কার্যালয়ে একটি আবেদন জমা পড়েছিল। সেখানে শর্তসাপেক্ষে কয়েকটি দোকান বসানোর অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে জনগণের সমস্যার সৃষ্টি হলে এবং বিধি ভঙ্গ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এ ব্যাপারে লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব বিজয় তালুকদার ঢাকা প্রতিদিনকে বলেন, ফুটপাতের হকার বসানো-ওঠানোর বিষয়ে দেখভাল করেন ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। তারা যদি পুলিশের সহযোগিতা চায়, সেখানে সহযোগিতা করা হবে। তবে করোনার সংক্রমণ রোধে আইজিপি মহোদয়ের নির্দেশে তারা জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করেছেন। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে ও মাস্ক পড়তে অনুরোধ জানান পুলিশের লালবাগ বিভাগের শীর্ষ এই কর্মকর্তা।

 

 

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *