শরণখোলায় অনুমোদন ছাড়াই ইটভাটা

সারাবাংলা

মেহেদী হাসান, শরণখোলা থেকে:
বাগেরহাটের শরণখোলায় অননুমোদিত ইটভাটার রমরমা ব্যবসা শুরু করেছেন স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র। প্রশাসনের নাকের ডগায় কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ম্যানেজ করে সরকার দলীয় ছত্র-ছায়ায় ওই অবৈধ কারবার চালাচ্ছেন। বনভূমি উজাড় করে উপজেলাজুড়ে প্রায় শতাধিক জায়গায় বসানো এসব ভাটা আগুন দিয়ে জ্বালানোর জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নিজেদের খেয়াল-খুশি মতো আবাসিক জনবসতি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে, সড়কের পাশে, এমনকি কৃষি জমিও রেহাই পায়নি এই তাদের হাত থেকে। ভাটায় দেদারছে পুড়বে দেশিয় বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান বনজ, ফলজ ও ওষুধি গাছ। অগ্নিশিখায় শুকিয়ে যাবে আশেপাশের গাছপালা। কালো ধোয়ায় আকাশ বাতাস দূষিত হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে। ফলে বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে আর মানুষের জীবন রক্ষাকারী অক্সিজেন কমবে। ভাটার বিষাক্ত ধুলাবালি, কালো ধোঁয়া ও আগুনের তাপে ধ্বংস হয়ে যাবে এলাকার সবুজ বনজ সম্পদ এবং মাতৃত্ব হারাবে ফলজ গাছ। অবস্থা এমন হলে ভাটার আগুনের তাপে উর্বরতা হারিয়ে দিন দিন অভিশপ্ত মরুভূমিতে পরিণত হবে ফসলি জমি। অন্যদিকে বিশ্বে মহামারি করোনার মধ্যে শ্বাস কষ্টজনিত রোগে ভুগবে ভাটা এলাকার শিশু সহ সব বয়সের মানুষ। বির্পযয়ের মুখে পড়ছে এলাকার জনস্বাস্থ্য। ভাটাগুলো লোকালয়ের একেবারে কাছে হওয়ায় চরম মূল্য দিতে হবে স্থানীয় বাসিন্দাদের। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অমান্য করে এক শ্রেনির প্রভাবশালীরা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ভাটা নির্মাণ করেছে। সচেতন মহলের দাবি পাঁজার নির্গত ধোঁয়ায় বায়ু দূষিত হয়ে নানা রোগ ব্যাধিসহ কৃষিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়বে। একের পর এক প্রাকৃতিক দূর্যোগে বিপর্যস্ত শরণখোলায় পরিবেশ ধ্বংশকারী এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে অচিরেই এক মহা বিপর্যয় শুরু হতে পারে এমন আশঙ্কায় এলাকাবাসী আতঙ্কিত।
সরেজমিন তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, এমন অবৈধ কর্মযজ্ঞ চালাচ্ছে এলাকার অতি মুনাফালোভী, বৃত্তবান ও প্রভাবশালী হোগলপাতি এলাকার বাসিন্দা মজিবর ফরাজী, কালীবাড়ি এলাকার লিটু হাওলাদার, বকুলতলা এলাকার শামীম ফরাজী, ধানসাগর এলাকার লোকমান, জামাল হওলাদার সহ আরো অনেকে। এছাড়া তাফালবাড়ী, রাজাপুর, বাংলা বাজার ধানসাগর সহ উপজেলা জুড়ে বিভিন্ন এলাকায় ভাটা পোড়ানোর প্রস্তুতি দেখা গেছে। তারা ফসলি জমির মাটি কেটে ইট তৈরি করছে আর ভাটার স্তূপের পাশে হাজার হাজার মন গাছের বিশাল স্তূপ রেখে দিয়েছে।
ভাটা মালিক মজিবর রহমান হাওলাদার বলেন, ইট পোড়ানোর জন্য আমাদের কোন অনুমতি নাই। তবে, ২/৩টি অফিসে কিছু চা-পানির খরচ দিয়ে এই ব্যবসা করছি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে, উপজেলার কয়েক জন সমাজসেবক বলেন, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এমন অনৈতিক কর্মকান্ড কোন ভাবেই চলতে দেওয়া ঠিক হবেনা। এছাড়া আমাদের এ অঞ্চলে ইটভাটার দেদার প্রচলন করে গেছেন সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম মামুনুজ্জামান স্যার। তিনি একটি বে-সরকারী স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে তৎকালীন সময় উপজেলার বিভিন্ন ভাটা হতে হাজার হাজার ইট উপঢৌকন হিসেবে গ্রহন করতেন।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পরিবেশবাদী আইনজীবী অ্যাসোসিয়েশন (বেলা) এর সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইদ আহম্মেদ কবির জানান, ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৩ অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তর এবং জেলা প্রসাশক এর কার্যালয়ের অনুমোতি ছাড়া কোনো ইট-ভাটা, পাঁজা প্রস্তুত করা যাবে না এবং কাঠ বা গাছ জ্বালানী হবে না। এমন কর্মকাণ্ডের কারণে মানুষ রোগাক্রান্ত হবে। মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দেবে। এই অঞ্চলের উদ্ভিদ, ফলজ ও বনজ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা আশা করবো সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর পরই পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। এই প্রসঙ্গে শরণখোলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওয়াসীম উদ্দিন জানান, ভাটার কারনে আমাদের ফসলি জমি নস্ট হচ্ছে পাশাপাশি জমিতে ফসল হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে তাই আমরা এই কাজের বিরোধী। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহীন জানান, ইট পোড়ানোর কোনো অনুমতি দেইনি, তবে কোথায় পোড়ানো হচ্ছে আমাকে বলেন ব্যবস্থা নিচ্ছি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *