শরৎ এলেই ফোটে সাদা কাঁশফুল

সারাবাংলা

ফারুকুল ইসলাম, সোনারগাঁও থেকে : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় মেঘনা নদীর পাড়ে শত শত বিঘা জমির উপর কাঁশফুল যেন সৌন্দর্যের আরেক নীলাভূমি। প্রাকৃতিক নিয়মেই সেখানে জন্মেছে কাঁশফুল। আর এই নজরকাড়া কাঁশফুলের সৌন্দর্যের কাছে ছুটে যাচ্ছেন স্থানীয় মানুষ এবং পর্যটকরা রাজধানী ঢাকা থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা পয়েন্ট ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ২.০ কিলোমিটার পূর্ব দিকে সোনারগাঁও থানার নিকটতম ভবনাথপুর গ্রামে পর্যটকদের মন মাতাচ্ছে কাঁশফুল।
বর্ষাকে বিদায় দিয়ে প্রকৃতিতে এখন চলছে শরতের দাপট। শরতকে বলা হয় শুভ্রতার প্রতীক। শিউলি ফুল, স্বচ্ছ আকাশ। আর শরতকে স্বাগত জানাতে সবুজের মধ্যে মেতে উঠেছে কাঁশবন। উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ভবনাথপুর গ্রাম বালু ভরাট জমিকে প্রকৃতি সাঁজিয়েছে কাঁশফুলে। শরৎ এলেই সাদা ফুলে গোটা এলাকা ছেঁয়ে যায়। ভিড় জমে যায় কাঁশবনে কিশোর-তরুণসহ সব বয়সী মানুষদের।
চারদিকে শুভ্র কাঁশফুল, শরীর মন জুড়িয়ে দেয় বাতাস। কেউ বসে গল্প করছেন। পুরো এলাকা যেন রূপ নেয় গ্রামীণ মেলায়। কেউ বা ফুলের সঙ্গে ছবি তুলছেন। কেউ পায়ে হেঁটে বেড়াচ্ছেন। কেউ আপন মনে গুনগুন করে গাইছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই আসছেন এই কাঁশবনে। সূর্য অস্ত যাওয়ার আগে ওইসব স্থানে প্রকৃতি প্রেমীদের দেখা যায়। কেউ কেউ ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করছেন। কাঁশফুলের শুভ্র আভা ও দৃষ্টিনন্দন রূপ যে কারও নজর কাড়বে, এতে কোন সন্দেহ নেই। আর শরৎ ঋতু মানেই আকাশে শুভ্র মেঘের ভেলা ও কাঁশের বনে সাদা কাঁশফুলের অপরূপ মেলা। শরৎ ঋতুর আগমনী বার্তা নিয়ে প্রকৃতিকে আরও মায়াবী রূপে সাজাতে কাঁশফুল যেন বিন্দুমাত্র কাপর্ণ্য করে না। রোববার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায, কাঁশফুল ঘিরে মানুষের ভিড়। পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা লোলজনের ভিড় মুখরিত হয়ে ওঠে সে জায়গাটি।
ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা বলেন, সাদা মেঘের সঙ্গে এই কাঁশফুলের সাদা রং মনকেও সাদা করে দেয়। কাঁশফুলের শুভ্রতার ছোঁয়া পেতে আর বিপর্যস্ত সময়ে প্রশান্তির খুঁজে ঘুরতে যাওয়া। যেখানে কাঁশফুল প্রশান্তির পাশাপাশি ছোঁয়া দিয়েছে মনকে। করোনার এ সময়ে প্রকৃতি যে রূপ পেয়েছে, প্রকৃতিকে আমাদের কাছে নতুন করে আনন্দিত করছে। মহামারি শেষ হোক, প্রকৃতির এই প্রশান্তি রয়ে যাক পৃথিবীর পরিসমাপ্তি পর্যন্ত।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *