শহীদ মিনারের সামনে তৈরি হচ্ছে বাগান

সারাবাংলা

ওবায়দুর রহমান, গৌরীপুর থেকে:
শহীদ মিনার একটি আবেগ, একটি স্বাধীনতার, ’৫২ এর ভাষা আন্দোলনের তাজা প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত মাতৃভাষা সেই ত্যাগ ও ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করে রাখতেই সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্মিত হয় শহীদ মিনার। বাঙালি জাতির জন্য ভাষা আন্দোলন একটি গৌরবময় ইতিহাস। প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের পুম্বাইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে ভাষা শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে নির্মিত হয় শহীদ মিনার। যেখানে বিদ্যালয় তথা এলাকার সর্ব-সাধারণ ভাষা শহীদদের প্রতি প্রদ্ধা নিবেদন করে থাকে, কিন্তু বর্তমানে একটি ব্যতিক্রম ধর্মী ঘটনার জন্ম দিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার পেছনে ফেলে শ্রদ্ধা নিবেদনের জায়গা না রেখেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ২০২০-২১ অর্থবছরের বরাদ্দকৃত ক্ষুদ্র সংস্কারের অর্থ দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে ইটের দেয়াল দিয়ে ফুলের বাগান। যা বিভিন্ন জাতীয় দিবসে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়াবে দেয়াল বেষ্টিত ফুলের বাগান। স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পার্শ্বে টাইলস দিয়ে বাগান নির্মাণ করলেও নেই কোনো ফুল গাছের অস্তিত্ব। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের নিকটবর্তী এলাকার বাসিন্দা সাদিল মিয়া বলেন, শহীদ মিনারটির সামনে ফুল বাগান নির্মাণ সম্পূর্ণ একটি বেআইনি কাজ। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতি বছর ফুল দিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসসহ যাবতীয় জাতীয় দিবসগুলোতে ফুল দিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানায়। বর্তমান সময়ে বিদ্যালয়ে এসএমসি কমিটি না থাকায় এডহক কমিটির সভাপতি ও স্কুল কর্তৃপক্ষ সরকারী অর্থ ব্যবহার করে শহীদ মিনারটিকে পিছনে ফেলে অপরিকল্পিতভাবে ফুল বাগান তৈরী করছে। স্থানীয় মঞ্জুরুল হক বলেন, আমার জানামতে এমন ঘটনা কোথাও আছে বলে মনে হয় না। আগে নির্মিত বাগানটিতেই লাগানো হয়নি কোনো ধরণের ফুল গাছ, বর্তমানে গোরস্থানের মত হয়ে আছে আপনারাই দেখেন, বিদ্যালয়ে অনেক জায়গা আছে শহীদ মিনারকে পিছনে ফেলে বাগান নির্মান জরুরী ছিল না, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা-সম্মান রেখে জন্য জায়গায় বাগান নির্মান করার দরকার ছিল। স্থানীয় এসএসসি পরীক্ষার্থী যুবক সাকিব আলম বলেন, এমন ঘটনা আমাদের জন্য খুবই লজ্জাজনক, রীতিমতো এটি শহীদদের প্রতি অসম্মান করা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একজন জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টিতে পরিচালনা কমিটি না থাকায় এডহক কমিটির লোকজন ৪/৫ বছর যাবত উন্নয়নমূলক কোনো কাজ করেনি। প্রতি বছর সরকার কর্তৃক মেরামতের যে টাকা আসে তা কার পকেটে? এ নিয়ে এলকাবাসীর মনে ক্ষোভ রয়েছে।
তৎকালীন শহীদ মিনার নির্মাণ প্রকল্পের সভাপতি স্থানীয় ইউপি সদস্য ও বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সদস্য খসরু পারভেজ রাজীব জানান, বিষয়টি আমাদের সঙ্গে কোনো রকম আলোচনা না করেই তাদের ইচ্ছামতো বাগান নির্মাণ করেছেন। অথচ শহীদ মিনারের জায়গা না রেখেই এমন নির্মাণ কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও এডহক কমিটির সদস্য-সচিব আর্শেদা বেগম বলেন, ২ ফুট দূরত্ব রেখে বাগানটি তৈরী করা হচ্ছে। পূর্বের বাগানের বিষয়ে তিনি বলেন, বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় গাছও নাই।
উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও এডহক কমিটির সভাপতি মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষিকা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সিদ্ধান্তেই শহীদ মিনারের সামনে বাগান নির্মাণ করা হচ্ছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এটি সংশি¬ষ্ট উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভালো বলতে পারবেন। এ ধরণের কাজ হয়ে থাকলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মারুফ বলেন, ২ ফুট জায়গা দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা কিভাবে ফুল দেবে? শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নূন্যতম জায়গা রেখে নির্মাণ করতে উচিত। যদি তা না করা হয়ে থাকে, তাহলে তদন্ত করে শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *