শালুক কুড়িয়ে জীবিকা

সারাবাংলা

ইসমাইল খন্দকার, সিরাজদিখান থেকে
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় বর্ষা মৌসুমে তেমন কোন কাজ না থাকায় নিম্নআয়ের নারী-পুরুষ অলস সময় পার করে। এসময় অর্থ উপার্জনের কোন কাজ না থাকায় শালুক কুড়িয়েই জীবিকা নির্বাহ করে উপজেলার অনেকে। বর্ষা মৌসুমে নিম্নআয়ের পরিবার গুলোতে লেগে থাকে অভাব-অনটন। তাই অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে নদ-নদী, খাল-বিল ও বিস্তীর্ণ জমির জলতে জন্মানো শাপলা ও শালুক কুড়িয়ে বাজারে বিক্রি করে তাদের সংসার। সরেজমিনে দেখা যায়, নিম্নবিত্ত নারী ও পুরুষরা সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত খাল-বিল ও বিস্তীর্ণ জমিতে জন্মানো শালুক কুড়িয়ে নৌকায় করে নিয়ে আসেন বিভিন্ন হাট-বাজারগুলোতে। সেই শালুক খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা দরে।
জানা যায়, বর্ষার শেষের দিকে ভাদ্র মাস থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত শালুক বেশি পাওয়া যায়। জলের নিচে মাটিতে শালুক জন্মায়। জলের উপরে শালুকের পাতা দেখে শালুক নির্ণয় করেন। শালুক খেতে খুবই সুস্বাদু। জল ও পরিমাণ মতো লবণ দিয়ে সেদ্ধ করে ও মাটির চোলায় পুড়ে খেতে খুবই সুস্বাদু লাগে।
মনির, সাদ্দাম, হোসেন আলী বলেন, সারাদিনে ১০ থেকে ১৫ কেজি শালুক কুড়িয়ে আনতে পারি। সেগুলো বাজারে নিয়ে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি করি। শালুক ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবীর বলেন, ৫০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে শালুক। আমাদের সিরাজদিখানে খুব কমই পাওয়া যায়। কিন্তু দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঢাকাতে নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা। আমি ঢাকা থেকেও কিনে আনি আবার এলাকা থেকেও কিনি। সিরাজদিখান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাফীয়ার রহমান বলেন, আমরা দেখছি যে শালুক উপজেলার আনাচে-কানাচে বিক্রি হচ্ছে। শাপলা ও শালুক নিরাপদ সবজি। কীটনাশক ও রাসায়নিক সার মুক্ত। এই বিষয়টি একটা গুরুত্ব আছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *