শিল্পি বেগমের সংগ্রাম

সারাবাংলা

ঝালকাঠি প্রতিনিধি
পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ও শিশু কন্যার চিকিৎসার জন্য শিল্পি বেগম (৩৬) ১০ বছর ধরে পরিবারের নিকট স্বজনদের বাধা নিষেধ উপেক্ষা করে স্বামীর অনুমতি নিয়ে ফেরি করে ক্যালেন্ডার বিক্রি করছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত ক্যালেন্ডার বিক্রির কাজ শেষ করে ছেলেমেয়েদের কাপড় চোপড় নিয়ে রাস্তাঘাটে ফেরি করবেন এই নারী। তার দুটি সন্তানের মধ্যে ছেলে সিয়াম প্রতাপ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেনীর মেধাবী ছাত্র। তাকে সংসারের আয় বৃদ্ধির জন্যএই কাজে নিয়োজিত করলে তার পড়াশুনার ব্যাঘাত ও নৈতিক স্থিরতা হারিয়ে ফেলতে পারেন এই আশংঙ্কায় তাকে নিরাপদ রেখে মা শিল্পি বেগম স্বামীকে সহযোগিতা করার জন্য ফেরি কাজে নেমে পরেছেন। তার একমাত্র কন্যা আফিফা (৬) শিশু শ্রেনীতে পড়াশুনা করেন। তার মাথায় মস্তিকে একটি টিউমার হয়েছে এবং ২ বার অপারেশন করার পরও টিউমার অপসারন সম্ভব হয় নি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন টিউমারটি পরিনত না হলে এর মূল সহ অপসারন সম্ভব হবে না। এই অবস্থায়ও শিল্পি বেগম হাত পেতে কারো কাছ থেকে কিছু চায় না। শ্রম দিয়ে সৎভাবে জীবনযাপন করার জন্যই তার এই অবিরাম সংগ্রাম। শিল্পি বেগম নলছিটি উপজেলার ভৈরবপাশা গ্রামের মো: আজাদের স্ত্রী। পেশায় সে একজন প্রান্তিক কৃষক। ক্ষেত খামারে আমন বোরো ফসল আবাদকালীন দিনমজুরের কাজ করেন। ক্ষেত খামারে কাজ না থাকলে ছোট একটি দোকান দিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসা চালায়। শিল্পি বেগম জানান, প্রথম দিকে ঘর থেকে ফেরি করার কাজে নামার সময় নিকট আত্মীয়-স্বজন বাধার সৃষ্টি করেছিল কিন্তু স্বামী অনুমতি দেয়ায় তিনি এই কাজে নেমে যান। তাদের স্বামীর- স্ত্রীর আয় দিয়েই ছেলেমেয়ের পড়াশুনা ও মেয়ের চিকিৎসা খরচ চলে। মেয়ে আফিফাকে বছরে ৩ মাস পর পর ঢাকায় নিয়ে ব্লাড দিতে হয়। তিনি তার আব্রু ও সম্ভ্রম রক্ষাকারী পোশাক পরিচ্ছদ পরিধান করেই বিভিন্ন গ্রাম-শহর এলাকার রাস্তাঘাটে এই পেশার কাজ করেন। তিনি আরও জানান মানুষের কাছে হাত পাতা নৈতিকতা বিরোধী।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *