শুকনো কাঠে ফুল ॥ বদলেছে জীবন

সারাবাংলা

শামীম হোসেন সামন, নবাবগঞ্জ থেকে:
মনের মাধুরী মিশিয়ে শুকনো কাঠের উপরে খোদাই করে ফুল করছেন নকশা শিল্পীরা। আর এই ফুল ফোটানোর মধ্য দিয়ে চলে তাদের জীবন সংসার। খুব ছোটবেলা থেকেই একজন নকশা শিল্পী এমন শৈল্পিক কাজের সঙ্গে জড়িত থেকে নকশা করার কলাকৌশল শেখেন। কাঠকে পুঁজি করে বিভিন্ন রকমের নকশা তৈরি করতে হয় তাদের। প্রত্যাহিক জীবনে ব্যবহৃত খাট-পালঙ্ক, শোভা আলমারি, ড্রেসিং টেবিল, কাঠের সিঁড়ি, শো-কেচসহ গৃহের আসবাবপত্র এবং কাঠের খুটির মধ্যে খোদাই করে নকশার ব্যবহার দেখা যায়। গ্রামবাংলার এসব নকশা শিল্পীরা দেশের সঙ্গে বিদেশী নকশার সম্মিলন ঘটিয়েছে। এতে নতুন আসবাবপত্রে নকশার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের কারনে কাজ কমে গেছে। নকশা শিল্পীদের জীবনেও নেমে এসেছে হতাশা। একসময় শুকনো কাঠের উপর নকশা করে সংসার চললেও করোনায় থমকে গেছে জীবন। ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় বাজারে বাজারে ফার্নিচারের দোকান গড়ে উঠেছে। আর এতেই অনেকের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। কাঠের উপর নকশা করে চলছে সংসার । কেউ কাঠ দিয়ে বিভিন্ন আসবাবপত্র তৈরি করছেন। প্লাসিকের পন্য বাজার দখলে থাকলেও কাঠের ফার্নিচারের চাহিদা কমেনি। তাই অনেকেই নকশা তৈরি করে জীবিকাও নির্বাহ করছে। কাঠের তৈরি জিনিসপত্রের সৌন্দর্যের কারনে আজও নতুন নতুন কাঠের ফার্নিচারের চাহিদা বাড়ছে। সেভাবে চাহিদা বাড়েনি নকশা শিল্পীদের ।
উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের পানিকাউর গ্রামের নকশা কারিগর ধীরেন সরকার। অভাবের সংসারে খুব ছোটবেলা থেকে নকশার কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ৩৫ বছর ধরে নকশার কাজ করে পরিবারের ৫ সদস্য নিয়ে চলে সংসার। জীবিকার তাগিদে নকশা করাকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন ধীরেন সরকার। প্রতিদিন ৬০০ টাকা মজুরিতে নকশা করে দেন। তার মতো অনেকেই কাঠের উপর ফুল করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
উপজেলার বান্দুরা, বারুয়াখালী, শিকারীপাড়া, জয়কৃষ্ণপুর সহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নতুন নতুন ফার্নিচারের দোকান গড়ে উঠেছে। এতে নকশা শিল্পীদের চাহিদা তেমন বাড়েনি। আধুনিকতার ছোঁয়ায় নকশায় এসেছে পরিবর্তন। বিভিন্ন রকমের নকশা তৈরি হচ্ছে অত্যাধুনিক মেশিনের সাহায্যে।
জানা গেছে, নকশার কাজ ভালো ভাবে আয়ত্ত করতে একজন নকশার মিস্ত্রির ৫-৬ বছর লাগে। একজন নকশা মিস্ত্রি পরিপূর্ণ হওয়ার পর বেতন পান ১৮-১৯ হাজার টাকা। আর অর্ধেক মিস্ত্রিরা বেতন পায় ৮-৯ হাজার টাকায়। তবে নকশার কাজেও আধুনিকতার ছোঁয়ায় বদলে গেছে নকশা। আর সেই সঙ্গে নকশারও পরিবর্তন ঘটেছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *