শেখ রাসেল কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতু প্রতিরক্ষা বাঁধে ধস

সারাবাংলা

নুরুন্নাহার সীমা, কুষ্টিয়া থেকে
শতকোটি টাকা ব্যয়ে মাত্র ৪বছর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে নির্মিত ৫০৪ মিটার দৈর্ঘের শেখ রাসেল কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতুর প্রতিরক্ষা বাধে ধ্বসের ঘটনায় চরম ঝুঁকিতে পড়েছে সেতুটিসহ নিকটস্থ স্কুল মাদ্রাসা, বসতভিটাসহ স্থানীয় জনপদ। গতকাল গত রোববার ভোরে গড়াই নদীর বামতীরে সেতুটির ভাটিতে হঠাৎ করেই এই ধ্বসের ঘটনায় প্রায় ১শ মিটার প্রতিরক্ষা বাধের ক্ষতি হয়েছে। তবে এর সমাধানে কোন দফতরের পক্ষ থেকে নেই কোন উদ্যেগ অভিযোগ স্থানীয়দের। চরম আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের। স্থানীয়দের অভিযোগ শুরু থেকেই ত্রুটিপূর্ন ডিজাইন এবং নির্মাণ ত্রুটির কারণে সেতুটির বিভিন্ন অংশে একাধিক স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তার সমাধানে প্রয়োজনীয় কোন উদ্যোগই নেয় না সরকারের কোন দফতর। অবিলম্বে তদন্ত করে প্রকৃত সমস্যার উদ্ঘাটনসহ এর প্রয়োজনীয় সমাধান করে সেতুটিসহ স্থানীয় জনপদকে ঝুঁকিমুক্ত করার দাবি এলাকাবাসীর। ঘর ভেঙে যাওয়া সেলিনা খাতুন বলেন, গত বছর একবার এই বাধ ভাইঙি যায়, সরকার ওই ভাঙা সারিই নি। ইবার আবার নতুন কইরি এমন ভাঙাই ভাইঙলি যে রাত্রি ঘুমাবো কোনে সেই চিন্তা কত্তিচি। স্থানীয় বাসিন্দা জামাল মন্ডলের অভিযোগ, এই কাম করার সুমায়ই আমরা বাধা দিছিলাম, ঠিকভাবে নিচি থিন যেম্বা কইরি করার কথা ছিলি সেই রকম না করায় এলাকার সব লোক ক্ষেপি গিছিলি। কিন্তু ঠিকাদারের দালালরা আমারে পুলিশির ভয় দেকা মুক বন্ধ কইরি দেয়। এখন দেকেন সেইতা প্রমান হয়ে গেলো। সেতু নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা এলজিইডি কুষ্টিয়ারর নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুর রহমান মন্ডল বলছেন, যথাযথ কারিগরি দক্ষতাসহ নদী শাসনের কাজ আমাদের নয়; সেকারণে সঠিক ভাবে এই কাজটি করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে উদ্যোগ নেয়ার জন্য ২০১৭সালে সেতুটি উদ্বোধনের সময়ই পত্র প্রেরণসহ অনুরোধ করা হয়। অথচ বিষয়টি এখনও অমিমাংশিত থাকায় সেতুটিই আজ চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। প্রতিরক্ষার বাধটি সরকারের যে দপ্তরই করুক না কেন টাকার উৎস তো একই ! তাহলে খামাখা নিজেরা দায় না নিয়ে দুই দপ্তরের মধ্যে এই অনাকাঙ্খিত রশি টানা টানি খুবই দুঃখজনক। যেহেতু এসব জরুরী আপদকালীন কাজ করার মতো কোন সক্ষমতা এলজিইডির নেই, সেকারনে কাজটি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে করার জন্য অনুরোধ জানিয়ে আমি আবারও পত্র প্রেরণ করেছি। অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী আফসার উদ্দিন ছাপ জানিয়ে দেন, ওই প্রকল্পটির অথরিটি এলজিইডি, ওটার কোন দায় পানি উন্নয়ন বোর্ড নেবে না।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *