শ্রীপুরে নবজাতক, তালাক, নতুন বিয়ে নিয়ে বিব্রত যুবক ও তার পরিবার

সারাবাংলা

সোহেল রানা, শ্রীপুর থেকে
গাজীপুর জেলার শ্রীপুরে এক বছরের মধ্যে এক যুবক স্ত্রীকে বাবার বাড়ি থেকে ফেরত আনতে না পারা, অন্তঃসত্ত্বার তথ্য গোপন, নবজাতক ভূমিষ্ঠ, তালাক ও নতুন বিয়ের ঘটনায় বিব্রত হয়ে পড়েছেন। শুধু যুবকই নয়, পুরো পরিবার এমনকি ইউপি চেয়ারম্যানরাও সমস্যার সমাধান দিতে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়েছেন। এমন একটি ঘটনা ঘটেছে শ্রীপুর উপজেলার বরমী এলাকায়। ওই ঘটনায় যুবক কামরুজ্জামান শ্রীপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। অভিযোগে ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার টাংগাবো গ্রামের মো. জাকির হোসেন দুলাল, তার কন্যা জাহিদা আক্তার, তার স্ত্রী মোছাম্মৎ নুরুন্নাহার, ছেলে মো. রাহাত হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়। তবে অভিযোগটি তদন্ত হলেও মামলা হিসেবে রুজু হয়নি। যুবক কামরুজ্জামান শ্রীপুর উপজেলার বরমী গ্রামের মো. মফিজ উদ্দিনের ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর যুবক কামরুজ্জামানের সঙ্গে ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার টাংগাবো গ্রামের মো. জাকির হোসেন দুলালের কন্যা জাহিদা আক্তারের রেজিস্ট্রি কাবিনমুলে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে যুবকের অবাধ্য আচরণ শুরু করে। ওইসব আচরণে শাসন-বারন করতে গেলে যুবককে অভিযুক্তরা নানা ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এক পর্যায়ে বিয়ের মাসখানেক পর যুবকের স্ত্রী জাহিদা আক্তারকে তার বাবার বাড়ির লোকজন বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে আর ফিরে আসেনি। এরপর বেশ কয়েকবার স্ত্রীকে শ্বশুর বাড়ি থেকে নিয়ে আসতে চাইলে শ্বশুর বাড়ির লোকজন তার স্ত্রীকে ফেরত দেয়নি। দুই এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে নিয়ে আসার চেষ্টা করেও ওই যুবক ও তার পরিবার স্ত্রী জাহিদা আক্তারকে বাড়িতে নিয়ে আসতে ব্যর্থ হয়। এঘটনায় পর পর তিনবার আইনী নোটিশ দিয়েও যুবক ও তার পরিবার কোনো সুফল পায়নি।
এদিকে সম্ভাব্য সব উপায়ে ব্যর্থ হয়ে চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারী বিজ্ঞ নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে ওই যুবক জাহিদা আক্তারকে তালাক প্রদান করেন। পরে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে ওই যুবক আরেকটি বিয়ে করেন। এরপর গত ২৮ সেপ্টেম্বর জাহিদা আক্তার ময়মনসিংহ ৭নং আমলী আদালতে ওই যুবক ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে একটি যৌতুকের মামলা করে। ওই মামলায় যুবক আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। গত ২৮ সেপ্টেম্বর তালাকপ্রাপ্ত জাহিদা আক্তার দুই মাসের একটি শিশুপুত্র নিয়ে যুবকের বাড়িতে উঠে যুবকের ঔরষজাত সন্তান বলে দাবি করে। এরপর থেকে তালাকপ্রাপ্ত ওই জাহিদা আক্তার যুবকের বাড়িতে অবস্থান করছে। জাহিদা আক্তার যে কোন ধরনের অঘটন ঘটানোরও হুমকি দিচ্ছে। এমন অবস্থায় যুবক তার নতুন বিবাহিত স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ির বাইরে অবস্থান কবরছেন। কিন্তু সন্তান সম্ভাবার কথা ওই যুবক এবং যুবকের পরিবারের কাছে গোপন রাখা হয়। যুবকের বাড়ির অন্যান্য সদস্যরা দুই এলাকার স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, থানায় অভিযোগ দিয়েও কোন সমাধান না পেয়ে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক মো. নাহিদ হাসান জানান, যুবক কামরুজ্জামানের অভিযোগ পেয়ে তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে ঘটনা তদন্ত করেন। এতে অভিযোগের সত্যতা পান এবং দুই পক্ষকে আদালত অথবা স্থানীয়ভাবে সমাধানের পরামর্শ প্রদান করেন। এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা জজ আদালতের আইনজীবী মো. এমদাদুল হক মাসুম বলেন, পারিবারিক আদালতের স্মরণাপন্ন হলে আদালত এ ব্যাপারে সমাধান দিতে পারেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *