শ্রীপুরে বিরল রোগে আক্রান্ত মনির

সারাবাংলা

সোহেল রানা, শ্রীপুর থেকে
গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাবর গ্রামে বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছেন মৃত লাল মিয়ার ছেলে মনির হোসেন (১৪)। অর্থাভাবে সু-চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সে। পরিবার পরিজন নিয়ে নিদারুণ কষ্টে জীবন কাটাচ্ছেন মনিরের মাতা মিলনারা বেগম। মনিরের ডান চোখের ব্রু থেকে গালের কিছু অংশ ছেপে গেছে বড় আকারের টিউমারের মত হয়ে। বাম চোখেও এ রকম হওয়ার পথে। কপাল, মুখ, গলদেশসহ শরীরে বিভিন্ন অংশে অসংখ্য টিউমার জাতীয় গুটি রয়েছে। কোনোমতে চোখে দেখতে পান তিনি। মনির স্থানীয় ধামলই উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র। ২০১৯ সালে মনির ধামলই উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৩ পয়েন্ট পেয়েছে। সংসারে বাবা না থাকায় করোনাকালে কাওরাইদ বাজারে কুলির কাজ করে মনির যে অর্থ পায়, তা এনে তার মায়ের কাছে জমা করছেন চিকিৎসা করতে। মনিরের সংসারে রয়েছে মা, বড় ভাই ও ছোট তিন বোন নিয়ে তার পরিবার। মনিরের বড় ভাই কামালের উপার্জিত আয় দিয়েই চলছে তাদের পরিবার। গতকাল শনিবার সকালে মনিরের বাড়ীতে গিয়ে মেধাবী ছাত্র মনির ও তার মা মিলনারা বেগমের সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। তারা জানান, ১৪ বছর আগে মনিরের বাবা মারা যায়। বর্তমানে সহায় সম্বল বলতে ১ কাঠা জমির মধ্যে বাড়িভিটা ছাড়া আর কোনো জমি নেই। সহায় সম্বলহীন মনির তার বিরল রোগটির কারণে এক চোখে দেখতে পায় না। তার সঙ্গে কথা বললে সে আক্ষেপ করে বলে অনেকেই তার দিকে হা করে তাকিয়ে থাকে তখন তার কাছে খুব খারাপ লাগে। মনির তার এই বিরল রোগ থেকে মুক্তি চায় সমাজের আট দশটা মানুষের মতো বাঁচতে চায়। সমাজের উচ্চবিত্ত ও মানবিক মানুষগুলোর সুনজর আশা করেন তারা। কেউ যেন অসহায় মনিরের বিরল রোগটির চিকিৎসার ব্যয় ভার বহন করে মনিরের মুখে হাসি ফোটান। মনিরের প্রতিবেশী রমিজ মিয়া সমাজের বৃত্তবানদের প্রতি অনুরোধ করে বলেন, আপনারা এই অসহায় ছেলেটার জন্য কিছু করুন। দেশের সব বৃত্তবানদের সু-দৃষ্টি প্রত্যাশা করে বলেন, আসুন মনিরের এই বিরল রোগের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমাজে এতিম অসহায় মেধাবী ছাত্র মনিরের পাশে দাঁড়াই। মনিরের বড় ভাই কামাল হোসেন জানান, ছোট ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় গিয়েছিলাম। চিকিৎসক বলেছেন, উন্নত চিকিৎসা করাতে পাললে মনির ভালো হয়ে যাবে। কিন্তু গরিব মানুষ হিসেবে এত টাকা কোথায় পাবো? কেউ কি এগিয়ে আসবে আমার ভাইয়ের চিকিৎসা খরচ বহন করতে?

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *