শ্রীপুরে বিষমুক্ত আপেল কুলের ভালো ফলন

সারাবাংলা

সোহেল রানা, শ্রীপুর থেকে:
বরই বাগান থেকে প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা আয় করছেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কুল চাষিরা। বছরের পর বছর ফলন বৃদ্ধি পাওয়ায় অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হচ্ছেন চাষিরা। স্বাস্থ্যসম্মত এবং বিষমুক্ত নিরাপদ আপেল কুলের চাহিদাও রয়েছে দেশব্যাপী। স্বল্প পরিসরে কুল চাষ শুরু করেই লাভের মুখ দেখছেন প্রান্তিক চাষিরা । আবার কেউ কেউ মাত্র ১০টি বড়ই গাছ দিয়ে পরে তা থেকে বৃদ্ধি করে আড়াইশ’রও বেশি গাছ লাগিয়েছেন। ফুল থেকে ফলে রূপান্তরের কোনো পর্যায়ে বিষ প্রয়োগ করা হয় না বলে জানিয়েছেন চাষিরা। শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটির মুলাইদ গ্রামের কুল চাষি মাহমুদুল হাসান সবুজ জানান, প্রায় বিশ শতাংশ জমিতে কুল চাষ করেন । ফলনও বেশ ভালো হয়েছে । প্রথম বছরেই লাভের মুখ দেখেছেন তিনি । অপরদিকে শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া উত্তরপাড়া গ্রামের জামাল উদ্দিন পাঠান আপেল কুলের চাষ করছেন গত ১০ বছর যাবত। অন্যান্য কৃষিপণ্যের পাশাপাশি তার অন্যতম আয়ের ক্ষেত্র বড়ই (আপেল কুল)। আপেল কুলের চাষ করে তিনি আধাপাকা বসতবাড়ি নির্মাণ, কন্যার বিয়ে দেওয়া ও ছেলের পড়াশোনা করানোসহ অর্থনৈতিক সচ্ছলতার মধ্য দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
তিনি প্রথমে জঙ্গলি বা টক জাতের বড়ইয়ের চারা রোপণ করে। পরে একই বছর টক জাতের গাছগুলো ছাঁটাই করে দেন। নতুন শাখা গজানোর পর সেগুলো কলম পদ্ধতিতে আপেল কুলের জাত এনে সংযোগ করেন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তৃতীয় বছরে মোট ৭০ শতক জমিতে ১৬০টি বড়ই গাছ রোপণ করেন। চতুর্থ বছর থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তার বাগানের বড়ই বিক্রি হয়। পাইকারেরা এসে তার বাগান থেকে বড়ই কিনে নিয়ে যান। জামাল উদ্দিন জানান, প্রায় প্রতিদিন তিনি কমপক্ষে ৪০ থেকে ৫০ কেজি বড়ই সংগ্রহ করতে পারেন। একদিন বা দু’দিন বিরতি হলে সংগ্রহের পরিমাণ বেড়ে তা ২০০ কেজিও হয়। এ বছর জানুয়ারির শেষের দিকে বড়ই সংগ্রহ শুরু করেন। মার্চ মাসের শেষ পর্যন্ত বড়ই সংগ্রহের আশা রাখেন। পাইকারি ক্রেতা শ্রীপুরের মালিপাড়া গ্রামের জামালউদ্দিন মোল্লা বলেন, বছরের তিন মাসে তিনি কমপক্ষে ৯০ লাখ টাকার বড়ই ক্রয় করে বিক্রি করেন। শ্রীপুর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ জানান, শ্রীপুরে ছোট বড় বড়ই বাগানের সংখ্যা ১ হাজার ৮৪০টি। গত বছর কুল চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০৫ হেক্টর। বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ২৩০ এর বেশি। প্রতি হেক্টরে ফলন ছিল ৯ থেকে ১০ টন। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ টনে। প্রতি বছর বড়ইয়ের আবাদ বাড়ছে এবং একইসাথে ফলনও বাড়ছে। বর্তমানে একটি মৌসুমি ফল হিসেবে বড়ই চাষে শ্রীপুরের চাষিরা অভাবনীয় সফলতার প্রমাণ দেখিয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম মুয়ীদুল হাসান জানান, শ্রীপুরে মৌসুমি ফল চাষের মধ্যে আপেল কুল চাষিদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ধানের পর ফল চাষ এই এলাকার অন্যতম কৃষি। চাষিদের মধ্যে মিষ্টি ফল আপেল কুলের অর্থনৈতিক সফলতা সবচেয়ে বেশি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *