https://www.dhakaprotidin.com/wp-content/uploads/2021/01/Gazipur.jpg

শ্রীপুর পৌরসভায় দ্বিমুখী ভোটযুদ্ধ

রাজনীতি সারাবাংলা

সোহেল রানা, শ্রীপুর থেকে : গাজীপুর জেলার শ্রীপুর পৌরসভায় আসন্ন পৌর নিবাচন উপলক্ষ্যে চারদিকে বইছে নির্বাচনী হওয়া। শিল্প অধ্যুষিত প্রথম শ্রেণীর এই পৌরসভায় মেয়র পদে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা পৌরসভার উন্নয়ন, নাগরিক অধিকার নিশ্চিত এবং পৌরবাসীর দুঃখ-দুর্দশায় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভোটারদের দৃষ্টি আকষণে নানামুখী কর্মকান্ড নিজেদের সম্পৃক্ত করছেন। যোগ দিচ্ছেন সভা-সমাবেশ ও ধমীয় অনুষ্ঠানে। অনেকে প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। ফেসবুকে নির্বাচনী পরিকল্পনা তুলে ধরে পোস্ট দেওয়াসহ এসএমএসের মাধ্যমেও নিজেকে তুলে ধরছেন অনেকে। ৬৭ হাজার ৯৩৫ ভোটারের পৌরসভাটি নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে শ্রীপুর পৌরসভার ভোট গ্রহণ। এখানকার ভোটাররা প্রথমবারের মতো ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পদ্ধতিতে ভোট দেওয়ার স্বাদ গ্রহণ করবেন। তারাও অপেক্ষায় আছেন। বেশ আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে সব বয়সী ভোটারদের মধ্যে। তবে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট প্রদান কতটুকু নিরপেক্ষ হবে, তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে তাদের মধ্যে। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন মেয়র, কাউন্সিলর প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। সব মিলিয়ে সরগরম শ্রীপুরের তৃণমূলের রাজনীতি।

শ্রীপুর পৌরসভা নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এ এম শামসুজ্জামান জানান, পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে ৪ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪৯ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ভোটর সংখ্যা ৬৭ হাজার ৯৩৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৩ হাজার ৮৩২ জন এবং নারী ভোটার ৩৪ হাজার ১০৩ জন।

সরেজমিনে শ্রীপুর পৌর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পৌর এলাকায় এখন নির্বাচনী হওয়া বইছে। প্রার্থীরা লিফলেট বিতরণ, পোস্টার সাঁটিয়ে, ব্যানার টাঙিয়ে ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচনী মাঠে নিজেদের প্রার্থী হওয়ার খবর জানাচ্ছে পৌরবাসীদের। শক্তভাবে মাঠে নেমে ভোট প্রার্থনায় ব্যস্ত সময় অতিক্রম করছে প্রার্থীরা। প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও চলাচ্ছে জোর প্রচার-প্রচারণা। পাড়া-মহল্লায় জনসাধারণের মধ্যেও উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। চায়ের দোকানেও চলছে জোর আলোচনা-সমালোচনা।

পৌরসভায় নির্বাচনে ভোটযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মেয়র পদে চারজন হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত দলের জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান পৌর মেয়র আনিছুর রহমান (নৌকা), বিএনপি মনোনীত শ্রীপুর পৌর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট কাজী খান (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দেলনের প্রার্থী শামীম আহমেদ মোমতাজী (হাত পাখা) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলম (জগ) প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলমের ছোট ভাই শ্রীপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ শহীদ দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। পরে তফসীল ঘোষনার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলে তার বড় ভাই বিএনপি থেকে মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।
শ্রীপুরের স্থানীয় রাজনীতিতে মতবিরোধ থাকলেও পৌরসভার নির্বাচন কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের সেই মতবিরোধ এখন আর চোখে পড়ছে না। দলের হাই কমান্ড এবং কেন্দ্রের নির্দেশনা মোতাবেক দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করার জন্য সবাই একসঙ্গে কাজ করছেন বলে দাবি নেতাকর্মীদের। ফলে অনেকটাই ফুরফুরে মেজাজে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন নৌকা মার্কার প্রার্থী বর্তমান মেয়র আনিছুর রহমান ও তার সমর্থকরা। করছেন সভা সমাবেশ, দিচ্ছেন আধুনিক পৌরসভা গড়ার প্রতিশ্রুতি। দিন রাত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইছেন। নির্বাচনী ভাবনা নিয়ে কথা হয় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আনিছুর রহমানের সঙ্গে, টানা তিনবার জনগণের ভালবাসা ও ভোটে আমি শ্রীপুর পৌরসভার মেয়রের দায়িত্ব পালন করছি। এই দায়িত্বে থাকাকালীন সময় আমি সাধারণ মানুষের আশার প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম হয়েছি। গরীব এবং মেহনতি মানুষের পাশে সবসময় থাকার চেষ্টা করেছি। তাই এখানকার ভোটাররা নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে।

এদিকে বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে মতবিরোধ থাকলেও এবারের পৌর নির্বাচনে সব মতবিরোধ ভুলে দলের কর্মী-সমর্থকরা কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। তারা তাদের প্রার্থীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পৌরসভার প্রতিটি ঘরে দলীয় প্রতীক ধানের শীষের ছালাম পৌঁছে দিচ্ছেন। দলের কেন্দ্রীয় নেতারা ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। তারা দেশে ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের আহ্বান জানান।

বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী শ্রীপুর পৌর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট কাজী খান বলেন, ২০ বছরের ঐতিহ্যবাহী প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা শ্রীপুর। বর্তমান মেয়র ৩ বার নির্বাচিত হওয়ার পরও শ্রীপুর পৌরসভায় উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন করতে পারেননি। তিনি শুধু সাধারণ মানুষকে আশার কথা শুনিয়েছেন। মানুষের উন্নয়নে কাজ করাই হবে প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে শ্রীপুর পৌরসভা হবে দেশে অন্যতম একটি মডেল পৌরসভা। যদি অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট হয়, তাহলে ধানের শীষের জয় নিশ্চিত। জগ প্রতীকের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী শাহ আলম বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ এখনও ভালো আছে। তবে শ্রীপুর পৌর শহরে আমার কর্মী-সমর্থকরা পোস্টার লাগিয়ে আসলে পরদিন সকালে আর দেখা যায় না। কে বা কাহারা রাতের কোনো এক সময় আমার জগ মার্কার পোস্টার ছিড়ে ফেলছে। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনা করছি। যদি সুষ্ঠু ও নিরোপেক্ষ ভোট হয়, তবে বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

শ্রীপুর পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকতা মোহাম্মদ ইস্তাফিজুল হক আকন্দ বলেন, আগামী ১৬ তারিখের নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু এবং প্রভাবমুক্ত করার জন্য সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এরই মধ্যে ইভিএম-এ যেন সাধারণ মানুষ ভোট দিতে পারে সেই লক্ষ্যে এলাকায় লিফলেট বিতরণ, গত শুক্রবার পৌরসভা এলাকার সব মসজিদে, প্রতিদিন বিকেল থেকে উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকে ইভিএম প্রদর্শনী হচ্ছে। আগামী ১৪ জানুয়ারী ২৬টি ভোট কেন্দ্রে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পদ্ধতিতে ওয়ার্ডে ড্যামি ভোটিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১২ এবং ১৩ জানুয়ারী মাইকিং করে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।

জেলা নির্বাচন অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, শ্রীপুর পৌরসভার নির্বাচনে ৯টি ওয়ার্ডে মোট ভোট কেন্দ্র ২৬টি। এর মধ্যে পুরুষ ভোট কেন্দ্র ১০টি, নারী ভোট কেন্দ্র ১০ এবং উভয় ভোট কেন্দ্র ৬টি। ভোট কক্ষ ১৯০টি এবং অস্থায়ী ভোট কক্ষ ২৬টি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *