শ্লীলতাহানি

Uncategorized

আব্দুল বাশির, গোমস্তাপুর থেকে:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার ভাগলপুর গ্রামের আব্দুল জব্বারের স্ত্রী আমেনা বেগম (৩৫) গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তানোর উপজেলার চাঁন্দুড়িয়া উত্তরপাড়া (পিরপাল) গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে হাকিম মোহাম্মদ জার্জিস এর বাড়ি যায়। তার শাশুড়ি হামফুল বেগমের (৭০) ভাঙা পায়ের চিকিৎসা করার জন্য। কবিরাজ রোগীর সঙ্গে থাকা তার ছেলেকে চিকিৎসা কাজের জন্য বাজার থেকে আদা ও সরিষার তেল আনতে নিকটবর্তী বাজারে পাঠায়। সে সুযোগে ছেলের বউকে চিকিৎসার কথা বলে তার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শ কাতর জায়গায় হাত দেয়। মেয়েটি তার প্রতিবাদ করলে কবিরাজ বলে তোমাকে এমন জিনিস দেবো। যা পেলে ১৪ দিনে তুমি ধনী হয়ে যাবে বলে প্রলোভন দেখায়। কিন্তু মেয়েটি প্রতিবাদ করে কবিরাজের ঘর থেকে বাইরে বের হয়ে আসে। ঘটনার পর তার স্বামী বাড়ি ফেরার পথে স্ত্রীর মন খারাপ দেখে জিজ্ঞাসা করে। কী হয়েছে তোমার? কোনো উত্তর না দিয়ে অটো গাড়িতে করে বাড়ি আসার পথে ঘটনার সবকিছু তার স্বামীকে খুলে বলে। স্বামী ঘটনাটি শুনে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে চাইলে অসুস্থ রোগীর কারণে স্ত্রীর অনুরোধে বাড়ি ফিরে আসে। কিন্তু মেয়েটির স্বামীর মনের ভেতর ক্ষোভ সঞ্চার হলে কৌশল অবলম্বন করে ভণ্ড কবিরাজকে আরও একটি রোগী দেখার কথা বলে এবং ওই রোগীকে চিকিৎসা করার জন্য ২০ হাজার টাকার প্রলোভন দেয় কবিরাজকে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি কবিরাজ তার এক সঙ্গী আনারুল হককে নিয়ে ভাগলপুর আব্দুল জব্বারের বাড়িতে আসে। তারপর কবিরাজ বলে রোগী কই চলো রোগী দেখি। এক পর্যায়ে আমেনার স্বামী কবিরাজকে বলে তুই তো আসল কবিরাজ না। আসল কবিরাজ আমি। আঞ্চলিক ভাষায় পায়না (লাঠি) দিয়ে বেদম প্রহার করতে থাকে কবিরাজকে। কবিরাজের চিৎকারে গ্রামবাসী ছুটে আসে এবং বিষয়টি চেয়ারম্যানকে জানাই। তারপর স্থানীয়রা কবিরাজকে উদ্ধার করে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করে। চেয়ারম্যান ঘটনাটি গোমস্তাপুর থানায় অবহিত করলে গোমস্তাপুর থানার এসআই সাখাওয়াত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ শুনে তাদের স্বামী-স্ত্রীকে থানায় নিয়ে যায়। চাঁন্দুরিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এবং কবিরাজের ভাইয়েরাসহ থানায় গোমস্তাপুর থানার ওসি দিলীপ কুমার দাস এর সঙ্গে কথা বলে কবিরাজকে বাড়ি নিয়ে চলে যায়।
ঘটনার বিষয়ে গোমস্তাপুর থানার ওসি দিলীপ কুমার দাস জানান, মেয়ে পক্ষ ও কবিরাজ পক্ষ এ দুই পক্ষের কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় মুচলেকা লিখে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ঘটনার ভুক্তভোগী মেয়েটির স্বামী আব্দুল জব্বার জানান, গোমস্তাপুর থানার ওসি আমাদের মামলা না করার জন্য নিরুৎসাহিত করেছেন, ঘটনায় মামলার কোনো সাক্ষী না থাকায়। এদিকে ঘটনার শিকার মেয়েটি স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে এই ভণ্ড কবিরাজের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন এবং পত্র-পত্রিকায় ভণ্ড কবিরাজ এর মুখোশ উম্মোচন করার জোর দাবি জানান।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *