রবিবার ১৬ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ২রা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সংকটেও স্বপ্ন দেখছেন চাষি

ডিসেম্বর ৩১, ২০২১

আতিকুর রহমান আতিক, গাইবান্ধা থেকে
তিস্তা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রসহ নদীবিধৌত গাইবান্ধার জেলার কৃষকেরা এখন আগাম জাতের ভুট্টা চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভাঙন জনপদের এই জেলায় প্রতিবছর হাজার হাজার আবাদি জমির ফসল বন্যায় জলে তলিয়ে যায়। কৃষক হয়ে পড়ে দিশেহারা। সর্বস্ব খুইয়ে এক সময়ের জোতদার হয়ে পড়ে দিনমজুর। মহাজনের পাওনা পরিশোধে বিক্রি করতে হয় হালের বলদ। এ অবস্থায় উত্তরণে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সহযোগিতায় নিয়মিতভাবে কাজের ফলে। পাল্টে যাচ্ছে কৃষকের জীবন-জীবিকা ও চাষাবাদের ধরন। নদীকে শাসন করে তারা উর্বর পলিমাটিতে চলছে সনাতনী পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক পদ্ধতির চাষাবাদ। উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিশাল চরাঞ্চালে ভুট্টা ফসলকে লক্ষ্য করে চাষাবাদে ব্যাপক সফলতা অর্জন করছেন কৃষকরা। কৃষি বিভাগ জানান, কৃষকেরা এবার এনকে ৪০, সুপার, সুপারগোল্ড, হাইব্রিড ৫২, কনক-৫১ এবং সিনজেনটার ৭৭২০ জাতের ভুট্টার বীজ রোপণ করেছেন। গাইবান্ধা জেলায় ১৬ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে ভুট্টাচাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তার ফলে এবার আগাম জাতের ৮ হাজার ৬শ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষে শুরু হয়েছে। প্রতি হেক্টরে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে চারশ থেকে সাড়ে চারশ মণ। দুর্গম চরাঞ্চলে ভুট্টা চাষি কৃষকদের উৎপাদিত ভুট্টা সঠিক মূল্যে বিক্রয়ের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে কৃষক কন্ট্রাক্টর তৈরি, নতুন জাতের ভুট্টার প্রদর্শনী প্লাট স্থাপন, দলভুক্ত কৃষক ও কন্ট্রাক্টরদের আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ও সুষম সারের ব্যবহার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান, বালাই দমনে কোয়ালিটি সমৃদ্ধ বালাইনাশক এবং হাইব্রিড জাতের বীজের সরবরাহ নিশ্চিতকরণের মতো কাজ করে যাচ্ছেন কৃষিবিভাগ। যার ফলে গাইবান্ধার তিস্তা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্রর নদীর ৬৫ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিরান বালুচরে এখন সবুজের সমরোহ। চোখ জুড়ানো ভুট্টার ক্ষেত্র। গত বছরের লোকসান পুষিয়ে নিতে চাষিরা নানা সমস্যা সংকটেও স্বপ্ন দেখছেন। ঋণের দায় থেকে এখনো মুক্ত হতে পারেনি। তারপর আবারও অনেকেই দাদন ব্যবসায়ীদের কাছে সুদের উপর টাকা নিয়েছেন তবে সরকারি সাহায্য সহযোগিতা পেলে ভুট্টা চাষিদের আর পেছন ফিরে তাকাতে হতো না। পরপর তিন দফা বন্যায় ধান ভুট্টা সহ ও অন্য ফসলে লোকসানের পর এবার গাইবান্ধার চরাঞ্চলের কৃষকরা আগাম ভুট্টার ফলন নিয়ে আশায় বুক বেঁধেছেন। বৈরি আবহাওয়াকে হার মানিয়েছেন তারা। কিন্তু তেল, সার, কীটনাশক, সেচের খরচ দিতে হচ্ছে বেশি। তাই কুলিয়ে উঠতে পারছে না। দুঃশ্চিন্তায় তারা বাধ্য হচ্ছেন দাদন ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি হতে। কৃষকদের বেহাল অবস্থা দেখে দাদন ব্যবসায়ীরাও সুযোগ নিচ্ছে। তারপরও এবার ৮ হাজার ৬শ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের ভুট্টার আবাদ হয়েছে। বর্তমান বাজার মূল্য ভুট্টার প্রতিমণ ৮শ থেকে ৯শ টাকা দরে বিক্রি করছেন কৃষকরা। গাইবান্ধা সদর উপজেলার খারজানি চরের ভুট্টা চাষি রফিক মিয়া জানান, ফলন ভালো পাই। পাশাপাশি ভুট্টার কোনো কিছুই ফেলে দিই না। এর পাতা গরুকে খাওয়াই, ডাটা/কান্ড ও মোচা লাকড়ি হিসেবে বাজারে বিক্রি করি। তিনি আরোও জানান, আগাম ভুট্টার চাষ করছি। ভালো দামের আশায়। অন্যান্য ফসলের তুলনায় কম খরচে অধিক ফলন হয়। তাই এই চরাঞ্চালে চিরাচরিত ধু-ধু বালিতে ভুট্টার আবাদ করছি। ধানসহ অন্য সফলের উৎপাদন খরচের চেয়ে ভুট্টা চাষে খরচ কম। তুলনায় মুলক লাভ ফলন বেশি দাম কম। তাই আগে ভাগে বিকল্প হিসাবে আগাম জাতের ভুট্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছি আমরা। সদর উপজেলার ভুট্টাচাষি মাসুদ মিয়া জানান, বেলে চরে ২৮ বিঘা জমিতে ভুট্টা এনকে ৪০, সুপার, সুপারগোল্ড জাতের ভুট্টা কৃষকরা জমিতে আবাদ করেছে। প্রতি বিঘা জমিতে ভুট্টা জমি চাষ, বীজ রোপন, সার, পানি, নিড়ানী, তোলা মাড়াইসহ ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা খরচ করলে ৫০ মণ ভুট্টা পাওয়া যায়। তবে দামটা একটু ভালো পেলে পোষাতো। গাইবান্ধার সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়ের ব্যবসায়ী টিপু মিয়া জানান, উপায়হীন কৃষক দাদন ব্যাবসায়ীদের দ্বারস্থ হলে এক হাজার টাকার বিপরীতে প্রতিমাসে ১শ টাকা অথবা ফসল ওঠার পর ১ মণ ভুট্টা দাবী করছে তারা। গতবার ভুট্টার ন্যায্য দাম না পেয়ে কৃষি ব্যাংকের ঋণ শোধ করতে না পারায় তারা নতুন করে বিপদে পড়েছেন। তাদের নতুন করে কৃষি ঋণের পরিবর্তে ঋণ পরিশোধের চাপ দেওয়া হচ্ছে। বাজার মূল্য য়ে ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাতে করে এবার ভুট্টা চাষ করে তারা লাভের মুখ দেখতে পারেন। গাইবান্ধা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক বেলান উদ্দিন জানান, ভৌগলিক অবস্থায় গাইবান্ধা অঞ্চলের জমিগুলো ভুট্টা চাষের জন্য খুবই উপযোগি। তবে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ভুট্টা চাষিদের সময়মতো সঠিক পরামর্শ এরং চাষিদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এই এলাকায় ভুট্টার ভালো ফলন হচ্ছে প্রতিবছরে। চলতি মৌসুমে ভুট্টা চাষে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ হাজার ৬শ ৬০ হেক্টর। তার ফলে আগাম জাতের এখন পয়ন্ত রোপন করা হয়েছে ৮ হাজার ৬শ হেক্টর।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
সর্বশেষ

১২ বছরের নিচের শিক্ষার্থীদের এখনই ভ্যাকসিন নয় : শিক্ষামন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট : ১২ বছরের নিচের শিক্ষার্থীদের এখনই ভ্যাকসিন নয়। এজন্য কঠোর মনিটরিং করা হচ্ছে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া

জঙ্গি দমনে বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে মার্কিন সরকার : কৃষিমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট : শাস্তি নয়, পরিস্থিতির উন্নতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন

ফের করোনায় আক্রান্ত জি এম কাদের

ডেস্ক রিপোর্ট : জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের ফের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31