সংকট কাটিয়ে পূর্বের অবস্থায় ফিরছে বাংলাদেশ

জাতীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর একটি জরিপের তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেছেন, অদৃশ্য করোনাভাইরাস নিতান্তই দুর্ভাগ্যজনক কোনো পরিস্থিতিতে না নিয়ে গেলে বাংলাদেশ অতিদ্রুত পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসবে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জরিপের তথ্য তুলে ধরে এ কথা বলেন মুখ্য সচিব।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, আমরা নিজেদের গর্বিত জাতি হিসেবে বিবেচনা করতে পারি। কারণ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে হিসাব করে দেখেছি আমরা দ্রুত আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার পরিস্থিতিতে আছি। শতভাগ এখনো হয়নি, তবে পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার পরিস্থিতি বাংলাদেশে সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে যে কাজগুলো চলমান রয়েছে তার ফলে আমরা যে পর্যায়ে আছি আল্লাহর রহমতে অদৃশ্য সেই ভাইরাস যদি নিতান্ত দুর্ভাগ্যজনক কোনো পরিস্থিতিতে না নিয়ে যায়, এভাবে থাকলে ইনশাআল্লাহ আমরা অতিদ্রুত আবার আমাদের উন্নয়নের যে স্রোতধারা যে গতিবেগ সৃষ্টি হয়েছে তার ভেতরে চলে আসতে পারব।

করোনাকালীন বাংলাদেশের পরিস্থিতি জানতে ‘জীবিকার ওপর ধারণা জরিপ-২০২০’ পরিচালনা করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপের তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপ জানায়, মার্চ মাসে দেশে বেকার ছিল ২ দশমিক ৩ শতাংশ। জুলাই মাসে বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছিল ১০ গুণ। সেপ্টেম্বর মাসে বেকারের সংখ্যা কমে ৪ শতাংশে নেমে আসে। যা পূর্বের সংখ্যার কাছাকাছি।

মার্চ মাসে ব্যবসায়ী ছিল ১৭ শতাংশ। জুলাই মাসে ব্যবসা-বাণিজ্যের মন্দায় ব্যবসায়ী কমে ১০ শতাংশে নেমে আসে। সেপ্টেম্বর মাসে ব্যবসায়ীদের সংখ্যা পূর্বের সংখ্যা ১৭ শতাংশে পৌঁছেছে।

গত মার্চ মাসে দিনমজুর হিসেবে কাজ করেছেন ৮ শতাংশ শ্রমিক, জুলাই মাসে কাজ কমে যাওয়ায় দিনমজুর হিসেবে কাজ করেছেন ৪ শতাংশ শ্রমিক। সেপ্টেম্বর মাসে দিনমজুর হিসেবে কাজ করেছেন ৭ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ। যা করোনা পূর্বের সংখ্যার কাছাকাছি।

সরকারের নানামুখী পদক্ষেপে কৃষিকাজে করোনা মহামারি খুব একটা প্রভাব ফেলেনি। মার্চ মাসে ১০ শতাংশ পরিবার কৃষিকাজে সংশ্লিষ্ট ছিল। জুলাই মাসেও কৃষিকাজে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সংখ্যা অপরিবর্তিত রয়েছে।

করোনাকালীন মানুষের আয় কমলেও একইসঙ্গে ব্যয়ও কমেছে বলে জরিপের উঠে আসে। মার্চ মাসে গড়ে পরিবারভিত্তিক মাসিক আয় ছিল ১৯ হাজার ৪২৫ টাকা। আগস্টে তা কমে ১৫ হাজার ৪৯২ টাকায় নেমে আসে। তবে একই সময়ে মানুষের ব্যয়ও কমেছে। মার্চ মাসে গড়ে পরিবারভিত্তিক গড় ব্যয় ছিল ১৫ হাজার ৪০৩ টাকা। আগস্টে ব্যয় আরও কমে ১৪ হাজার ১১৯ টাকা হয়।

জরিপের তথ্য তুলে ধরে মুখ্য সচিব বলেন, আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে সরকার যে টার্গেট করেছিল নিম্নআয়ের মানুষ যেন পায়। সেটা সাকসেসফুল হয়েছে। ৯৫ শতাংশ মানুষ বলেছে তাদের আয় ২০ হাজারের নিচে। অর্থাৎ কম আয়ের মানুষ সহায়তাটা পেয়েছে।

দৈবচয়নের মাধ্যমে মোট ২০৪০টি মোবাইলফোন নম্বর নির্বাচন করে এই জরিপ চালায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। বিবিএসের ইতিহাসে এটিই প্রথম টেলিফোন ধারণা জরিপ।

করোনার মধ্যেও বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন ত্রাণসহায়তা, প্রধানমন্ত্রীর ৩১টি নির্দেশনা এবং প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ২১টি প্রণোদনার গুরুত্ব তুলে ধরেন মুখ্য সচিব।

২১টি প্যাকেজে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা বাস্তবায়নের সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরে ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, ২১ ধরনের প্রণোদনা পৃথিবীর কোথাও দেয়নি।

মুখ্য সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নীতি ছিল জীবন এবং জীবিকা- দুটো একসঙ্গে গুরুত্ব দিয়ে সরকারের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা।

ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, করোনা মহামারির কারণে সারাবিশ্বের মতো আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে, আমাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেশকিছু দিন স্থবির হয়েছিল।

করোনার মধ্যেও বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিসংখ্যান ব্যুরো একটা জরিপ চালিয়েছে। জরিপ চালানোর ফলে আমরা কিছু ইন্টারেস্টিং কিছু কাজ দেখেছি। সেটা আমাদের জাতি হিসেবে গর্বিত হওয়ার মতো। বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশের তুলনায় বাংলাদেশ যথেষ্ট ভালো আছে। এটা কিন্তু গর্ব করার বিষয়।

করোনা সেকেন্ড ওয়েব মোকাবিলায় সরকারের পূর্বপ্রস্তুতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বলেন, সেকেন্ড ওয়েব বা থার্ড ওয়েব বলে এখন পর্যন্ত আমরা কেউই জানি না। এটা আসবে কি? আসবে না। যদি আসে তার প্রস্তুতির জন্য প্রধানমন্ত্রী বহু আগে আমাদের বলেছেন। বিশেষ করে শীতের সময় আসার সম্ভাবনা আছে বলে সেই নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রস্তুতিও নেয়া হয়েছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, যখনই অনিয়মের খবর পাওয়া গেছে তখনই সরকারের তরফ থেকে অ্যাকশন নিতে কোনো দ্বিধা করা হয়নি। কোনো গাফলতি করা হয়নি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *