সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই, গরু-ছাগলের খাদ্য টমেটো

সারাবাংলা

ডেস্ক রিপোর্ট: চলতি মৌসুমে বগুড়ার ধুনট উপজেলায় টমেটোর চাষ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। উৎপাদনও ভালো হয়েছে। এতে কৃষকের খুশি হওয়ার কথা থাকলেও তাদের মুখ মলিন। একসঙ্গে কৃষকরা টমেটো বাজারে তোলায় দাম কমে গেছে। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচই উঠছে না। ফলে তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। কারণ টমেটো সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় পচনশীল এ পণ্য কম দামে বাজারে বিক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকে আবার মনের দুঃখে ক্ষেতের টমেটো খাওয়াচ্ছেন গরু-ছাগল দিয়ে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার বিঘা জমিতে টমেটো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্ত চাষ হয়েছে প্রায় ৫ হাজার বিঘা জমিতে। প্রতি বিঘায় টমেটো উৎপাদন ১২০-১৩০ মণ। বর্তমানে প্রতিমণ টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৫০-২০০ টাকা দরে। আরো দেড় মাস পর্যন্ত ক্ষেতে টমেটোর গাছ থাকার কথা। কিন্ত বাজারে দাম না পেয়ে ক্ষেতের টমেটো গাছ কেটে ফেলছে ক্ষুব্ধ কৃষকরা। এসময় ঝরে পড়া টমেটো গরু-ছাগলের খাবারে পরিণত হচ্ছে। কৃষকেরা ক্ষেতের টমেটো গাছ কেটে ফেলে সেই জমিতে অন্য ফসল চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে শুরুর দিকে জমিতে গাছ মারা যাওয়ায় প্রথমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দ্বিতীয়বার যখন টমেটোর ভালো ফলন পেলেন, তখনি বাজারে কমতে থাকে টমেটোর দাম। কিন্ত টমেটো সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই। ফলে কৃষকের উৎপাদিত টমেটো যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি উৎপাদিত টমেটো মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে অল্প দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা।

উপজেলার মধুপুর গ্রামের কৃষক গোলাম মোস্তফা বলেন, ১৫ শতাংশ জমিতে টমেটো আবাদ করতে প্রায় ১৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এতে ফলন ভালো হলেও বাজারে টমেটোর দাম না থাকায় লোকসান গুনতে হচ্ছে। এখন পর্যন্ত মাত্র ৬ হাজার টাকা বিক্রি করেছি।

উপজেলার গোয়ালভাগ গ্রমের কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে আবাদ করেছিলাম। প্রথমদিকে জমির টমেটো গাছ ব্যপকভাবে মরে গেছে। এরপর চেষ্টা করেছি ভালো ফলন পাওয়ার। এখন ভালো ফলন পেলেও দাম পড়ে যাওয়ায় ক্ষেতের টমেটো গাছ কেটে ফেলে ধান চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আর টমেটো গরু ছাগলের খাবার হিসেবে ব্যবহার করছি।

একই এলাকার কৃষক জয়নাল আবেদীন বলেন, ২৮ শতক জমিতে টমেটো ফলাতে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা খরচ করেছি। কিন্তু বিক্রি করেছি মাত্র ৫ হাজার টাকা। এতে আমি খুব বিপদে আছি। ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে টমেটো চাষের পিছনে খরচ করেছি। লোকসানের মুখে কীভাবে বোরো ধান চাষ করব ভেবে পাচ্ছি না।

ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশিদুল হক বলেন, চলতি মৌসুমে টমেটোর আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। বেশিরভাগ কৃষক মৌসুম শুরুর আগেই মাঠে নেমেছিলেন। টমেটোর বাম্পার ফলনও হয়েছে। বাজারে  চাহিদার চেয়ে সরবরাহ বেশি হওয়ায় টমেটোর ন্যায্যমূল্য মিলছে না। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারাও সার্বক্ষণিক মাঠ তদারকি করছেন। কৃষকদের প্রয়োজনীয় কৃষি সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *