সংস্কারহীন কেন্দুয়া সেতু

সারাবাংলা

সোহেল রানা, শ্রীপুর থেকে:
একসময়ে ব্যবসা বাণিজ্যের অন্যতম প্রাণ কেন্দ্র ছিল গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার বরমী বাজার। এ বাজারে দিন ছাড়াও রাতের বেলায় ব্যবসায়ীক কাজে জমায়েত হয় হাজারো মানুষ। হাজারো মানুষের চলাচলের জন্য অর্ধ শতাব্দী আগে নির্মিত হয়েছিল এ ব্রীজ। এটি বরমী বাজারের নলজোড়া খালের উপর নির্মিত কেন্দুয়া ব্রিজ। বর্তমানে এর বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ায় ঝুঁকিতে পড়েছে ব্রীজ দিয়ে চলাচলকারী হাজারো জনতা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ব্রিজটির উপর দিয়ে প্রতিদিন কয়েকশ ভারী যানবাহন এবং হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। যে কোন মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনা। বড় কোন দূর্ঘটনা ঘটার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন সাধারণ মানুষ।বিগত দিনে বরমী ইউনিয়ন তথা বাজারের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হলেও ঝুকিপূর্ণ এ ব্রীজটির কোন সংস্কার বা উন্নয়ন কোনটাই এখনো চোখে পড়েনি। যার কারণে এ ব্রীজটির সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বরমীবাসী ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার সাধারণ মানুষ।এমনিতেই ব্রীজটির অবস্থা ভঙ্গুর প্রকৃতির, তার উপর এর ব্রীজটি দিয়ে প্রতিনিয়ত বালুবোঝাই ওভারলোডেড ভারী যানবাহন চলাচল করায় তা ঝুঁকির সর্বোচ্চ মাত্রা অতিক্রম করছে।আবার ব্রীজটির প্রশস্ততা এতোই সরু যে ব্রীজের ওপর একটি গাড়ি ওঠে গেলে সেখান দিয়ে একজন মানুষের হাঁটারও জায়গা থাকে না। ফলে এ ব্রীজটি এখন গণমানুষের মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ব্রীজটি সংস্কার করা কিংবা তা ভেঙ্গে পুনঃনির্মাণ করা একান্ত অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এছাড়াও বরমী বাজারের ব্যবসা-বাণিজ্যের গতিশীলতা আনয়নে ব্রীজটি সংস্কার কিংবা পুনঃনির্মান করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় চাহিদায় পরিণত হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা ।
এই বরমী বাজারে রয়েছে কয়েক হাজার ছোট, মাঝারী, বড় ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু ঝুকিপূর্ণ এই ব্রীজের কারণে এবং দ্বিতীয় বিকল্প কোন রাস্তা না থাকায় বাজারের জৌলুস অনেকটা কমে যাচ্ছে। প্রায় ১০ বছর হয়ছে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা মেরামতের কোন উদ্যোগ গ্রহণ না করায় পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে জানান পথচারীরা ।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ১৯৮০ সালের দিকে এই ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল। বরমী বাজারের নলজোড়া খালের উপর ব্রিজটির বেহাল দশা। বরমী বাজারের এই ব্রিজটি ছাড়া বিকল্প কোনো যাতায়াত পথ না থাকায় মরণফাঁদ জেনেও চলাচল করছেন প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজটির রেলিং ভেঙ্গে যাওয়াসহ উপরের সিমেন্টের তৈরি পাটাতন ধ্বসে যাওয়ায় এ ব্রিজটি এখনো মরণ ফাঁদ। ঝুঁকি নিয়েই পার হতে হয় হাজারো মানুষের। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ব্রিজটি মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরের কোনো মাথা ব্যথাই নেই। মাঝে মধ্যে শুনি টেন্ডার হয়েছে, তবে মেরামত কবে হবে জানা নেই। বরমী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদ-প্রার্থী নিজাম মোড়ল জানান, দীর্ঘ সাত বছর যাবৎ এ ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে । আশা করা যাচ্ছে খুব দ্রুত কতৃপক্ষ মেরামতের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে ।
বরমী বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম সরকার বলেন, এই ব্রিজটির টেন্ডার হয়েছে আশা করি খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হবে। বরমী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার হারুন খন্দকার জানান, ব্রীজটির জন্য টেন্ডার হয়েছে খুব শীঘ্রই ব্রীজটি আরও প্রশস্ত করে কাজ শুরু হবে। বরমী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তোফাজ্জল বলেন, একাধিকবার এ ব্রিজ নিয়ে সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ,লীগের সভাপতির সঙ্গে কথা বলেও কোনো কাজ হয়নি। শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শামসুল আলম প্রধান বলেন, বরমী বাজারের এই ব্রিজটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।এবং অতি দ্রুত ব্রিজটি সংস্কার করা হবে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *