সখীপুরে পুলেই ২শ একর জমি অনাবাদি

সারাবাংলা

মাহমুদুল হাসান রিমন, সখীপুর থেকে
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বড়চওনা বাজারের দক্ষিণ পাশে একটি সড়কে জমি থেকে তিন ফুট উঁচুতে পুল ও পুলের মুখে বহুতল ভবন নির্মাণ করায় বিশাল এলাকাজুড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ওই অঞ্চলের ৮৪ কৃষক তাদের প্রায় ২০০ একর জমিতে কোনো ফসল ফলাতে পারছে না। এ অবস্থায় সড়কের ওই পুলটি ভেঙে প্রশস্ত সেতু নির্মাণ ও বহুতল ভবনের ভেতর দিয়ে জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সখীপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার মিয়া জানান, উপজেলার বড়চওনা-ছোটচওনা সড়কের বড়চওনা বাজারের পশ্চিম পাশে একটি পুল রয়েছে। ওই পুলের উজানের ফসলি জমি থেকে পুলটি তিন ফুট উঁচু। এছাড়া সড়কের উত্তর পাশে পুলের মুখে একটি বহুতল ভবন নির্মিত হওয়ায় ভাটির দিকে জল নিষ্কাশন হওয়ার সুযোগ নেই। এ অবস্থায় পুলের উজানে থাকা বড়চওনা, বিন্নাখাইরা, ভুয়াইতপাড়া ও চটানপাড়া গ্রামের প্রায় ২০০ একর ফসলি জমি কমপক্ষে তিন ফুট জলের তলে ডুবে আছে। কৃষি কার্যালয়ের পরিসংখ্যান মতে, জলাবদ্ধতার কারণে ওই অঞ্চলের ৮৪ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক গত চার বছর ধরে তাদের ফসলি জমিতে কোনো আবাদ করতে পারছে না। বড়চওনা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা হজরত আলী, হাবিবুর রহমান, আবদুল গফুর ও আবদুল মজিদ- এই চার সহোদরের তিন একর জমি জলাবদ্ধতা হয়েছে। তাদের দাবি- পুলটি ভেঙে প্রশস্ত সেতু তৈরি ও পুলের মুখে বহুতল ভবনের নিচ দিয়ে যাতে ভাটির দিকে জল নিষ্কাশন হয় সে ব্যবস্থা করতে হবে।
রফিকুল ইসলাম একজন দরিদ্র কৃষক। তার ৫০ শতাংশ জমিই ভরসা। চার বছর ধরে ফসল না হওয়ায় তিনি খুবই বিপদে পড়েছেন। জল নিষ্কাশনে মূল বাধা পুলের মুখে বহুতল ভবন। ওই ভবনের মালিক ওসমান আলী বলেন, জল যাতে নিষ্কাশন হয়, এজন্য আমার ভবনের নিচ দিয়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু সরকারি কালভার্ট নির্মাণে পরিকল্পনা না থাকায় বিশাল এলাকাজুড়ে জলাবদ্ধতা হয়েছে। এজন্য পুল দায়ী আমার ভবন নয়।
এলজিইডির সহকারী উপজেলা প্রকৌশলী শুভ বসাক বলেন, ভুক্তভোগীদের অভিযোগ পেয়ে ওই পুল পরিদর্শন করা হয়েছে। জল নিষ্কাশন করতে হলে পুল ভেঙে এমনভাবে সেতু নির্মাণ করতে হবে যাতে উজানের ফসলি ক্ষেতের জল পুরোপুরি নিষ্কাশন হয়। এ প্রসঙ্গে সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চিত্রা শিকারী বলেন, ২০০ একর জমি জলাবদ্ধতার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ভুক্তভোগী কৃষক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *