সখীপুরে ভাড়ায় চলছে লিজের দোকান

সারাবাংলা

মাহমুদুল হাসান রিমন, সখীপুর থেকে
টাঙ্গাইলের সখীপুরে যাত্রী ছাউনিতে চলছে রমরমা হোটেল ব্যবসা। যে দোকানগুলোতে ফাস্টফুড জাতীয় খাবার বিক্রির নিয়ম থাকলেও সেখানে রয়েছে খাবার হোটেল, মোবাইল সার্ভিসিং দোকান, ওষুধের ফার্মেসী, কাঁচামালের দোকান ও চা-স্টল। টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার সখীপুর-ঢাকা সড়কে বাসের জন্য অপেক্ষমাণ পাঁচটি যাত্রী ছাউনির মধ্যে চারটিতেই এ চিত্র দেখা গেছে। অন্যদিকে পাঁচটি যাত্রী ছাউনির মধ্যে তিনটিতে ছাদ চুইয়ে ভেতরে জল পড়ে। দুইটিতে যাত্রীদের বসার বেঞ্চ নেই। একটি ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী। প্রতিনিয়ত প্রখর রোদ-বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়েন অপেক্ষমাণ যাত্রীরা।
সরেজমিন জানা যায়, সখীপুরে ২০১৩-১৪ সালে পাঁচটি যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হয়। দুই কক্ষবিশিষ্ট যাত্রী ছাউনির পাকা ভবনগুলো খুবই নিম্নমানের। রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও অযত্ন-অবহেলায় নির্মাণের মাত্র ৬-৭ বছরেই বেশিরভাগ যাত্রী ছাউনি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে যাত্রী ছাউনিতে যাত্রী খুঁজে পাওয়া যায় না।
বড়চওনা বাজারের যাত্রী ছাউনিটি তিন কক্ষবিশিষ্ট। ছাউনিটির মধ্যের কক্ষটি বাসের জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রীদের বসার। এক কক্ষে খাবার হোটেল ও অন্যটিতে মোবাইল সার্ভিসিং দোকান। ওই দুইটি কক্ষই জেলা পরিষদ থেকে লিজ গ্রহণকারী আল আমিনের কাছ থেকে হোটেল ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ-আল বাকী ও মোবাইল সার্ভিসিং দোকানদার নাঈম আহমেদ ভাড়া নিয়ে চালাচ্ছেন। তারা জানান, আবদুল্লাহ দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা জামানতে মাসিক তিন হাজার ও নাঈম দুই লাখ ৭৫ হাজার টাকা জামানতে চার হাজার টাকা ভাড়া দিচ্ছেন। যাত্রীদের ব্যবহারের জন্য কক্ষটির সামনে বসানো রয়েছে পানের দোকান। আল আমিন এ প্রতিনিধির কাছে কক্ষ দুইটি ভাড়া দেওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
কচুয়া বাজারের যাত্রী ছাউনির দোকানটিতে রয়েছে ওষুধের ফার্মেসী। এটি জেলা পরিষদ থেকে লিজ প্রাপ্ত হয়ে রাশেদ ইমরান আতিক জহিরুল ইসলাম তালুকদারের কাছে তিন লাখ টাকা জামানতে মাসিক চার হাজার ৫০০ টাকায় ভাড়া দিয়েছেন। লিজ গ্রহিতা আতিক এ প্রতিনিধির কাছে কক্ষটি ভাড়া দেওয়ার সত্যতা স্বীকার করেন।
কুতুবপুরের যাত্রী ছাউনিতে সামান্য বৃষ্টিতে ছাদ চুইয়ে জল পড়ে। বেলতলী বাজারের যাত্রী ছাউনি পরিত্যক্ত দোকান কক্ষে এক ব্যক্তি কাঁচামাল বিক্রি করেন। যাত্রী কক্ষে বসার কোনো বেঞ্চ নেই। এটিতেও ছাদ চুঁইয়ে ভেতরে জল পড়ে। সখীপুর পৌর শহরে থানা ঘেঁষা গুরুত্বপূর্ণ ছাউনিটি অযত্ন-অবহেলায় বেহাল দশা। পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা যাত্রী ছাউনির দোকান কক্ষে রয়েছে চা-স্টল। কক্ষটি ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্গন্ধযুক্ত হওয়ায় সড়কের পাশেই দাঁড়িয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করেন যাত্রীরা।
বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম বলেন, সংশ্লিষ্টরা দায় এড়িয়ে চলায় পরিবেশ অনুপযোগী যাত্রী ছাউনিগুলোতে যাত্রী নেই। তিনি নিয়ম বহির্ভূত দোকানগুলো দ্রুত অপসারণ দাবি করেন।
ইউএনও চিত্রা শিকারী বলেন, যাত্রী ছাউনিগুলো জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণাধীন। প্রশাসনের নির্দেশনা পেলে অবৈধ দোকানিদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তা করা হবে।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুব্রত কুমার সিকদার বলেন, বৃহস্পতিবার বিষয়টি জেলা পরিষদের মাসিক সভায় আলোচনা হয়েছে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অবৈধ দোকানগুলো সরাতে নির্ধারিত সময় বেধে দেওয়া হবে এবং দ্রুত সময়ে ছোট-খাটো কাজের সংস্কার করা হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *