সচিবের মায়ের চিকিৎসা ইস্যুতে মন্ত্রণালয় কোন চিঠি ইস্যু করেনি: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

রাজনীতি

ডেস্ক রিপোর্ট : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদের মায়ের চিকিৎসায় সংক্রান্ত ইস্যুতে মন্ত্রণালয় থেকে কোনো চিঠি ইস্যু করা হয়নি বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম।

মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদের মা করোনা আক্রান্ত হয়ে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের করোনা ইউনিটে ভর্তি আছেন। সচিবের মায়ের চিকিৎসা সংক্রান্ত ইস্যুতে হাসপাতালে ২৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে লিখিতভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ পেয়েছে।

খবরে জানানো হয়, সচিবের একান্ত সচিব (পিএস) আজিজুল ইসলাম এই ২৪ কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়িত্ব সমন্বয় করছেন। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সচিবের পিএস।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) আজিজুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘তালিকার (২৪ জনের দায়িত্ব পালন সংক্রান্ত) বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। সচিব স্যার ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন, এরপর আমার আর বলার কিছু থাকে না।’

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব একনেক সভায় থাকায় মন্ত্রণালয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রণালয়ের আরেকজন কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘ওটা কোনো অফিস আদেশ ছিল না, একটি তালিকা মাত্র। এটি কে তৈরি করেছে, সে বিষয়ে আমরাও জানি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘মন্ত্রী-সচিবদের আপনজন অসুস্থ হলে অনেকেই দেখতে যান। সচিব স্যারের মা অসুস্থ হওয়াও অনেকেই দেখতে যাচ্ছিলেন। সে ইস্যুতে হয়তো ধাপে-ধাপে যাওয়ার জন্য বলেছিলেন। তালিকায় মন্ত্রণালয়ের মাত্র তিনজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম আছে। বাকিরা অন্যান্য জায়গায় কর্মরত। তালিকাটি কে করেছে বা কে ফাঁস করেছে, তা নিয়ে মন্ত্রণালয় জুড়েই আলোচনা চলছে।’

বিষয়টি নিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

এর আগে সোমবার দেশের বেসরকারি একটি স্যাটেলাইট টেলিভিশনে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রওনক মাহমুদের মায়ের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন এক উপ-সচিবসহ ২৪ কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাদের লিখিত নির্দেশনা দিয়ে তিন দিনের জন্য চার শিফটে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়িত্ব সমন্বয় করছেন সচিবের পিএস।

নির্দেশনায় বলা হয়, সচিবের মায়ের সার্বিক অবস্থা সার্বক্ষণিক জানাতে হবে পিএসকে, চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ, টেস্ট করানোর ও তা দ্রুত সংগ্রহ করা এবং হোয়াটসঅ্যাপে সচিবের পিএসকে রিপোর্টের কপি পাঠাতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে থাকতে হবে রোগীর কাছাকাছি, রোগীর এটেন্ডেন্টের কাছে জানান দিতে হবে কর্মকর্তাদের উপস্থিতি।

নির্দেশনার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সোমবার (২৩ আগস্ট) সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের সিস্টেম এনালিস্ট মো. ইলিয়াস হোসেন ও অফিস সহায়ক মো. জাহিদুল ইসলাম, দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আসলামুল আলাম, ট্রেইনি সহকারী মো. সানোয়ার হোসেন, সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের (ডিএলএস) অ্যানিমেল প্রোডাকশন অফিসার আলী রেজা আহমেদ ও ল্যাব টেকনেশিয়ান বিভূ চন্দ, রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত মৎস্য অধিদফতরের (ডিওএফ) বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান ও ট্রেইনি সহকারী সানোয়ার হোসেন দায়িত্ব পালন করবেন।

মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ডিওএফের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন কর্মকর্তা মো. রাশেদ পারভেজ এবং অফিস সহায়ক মো. নাজির হোসেন পারভেজ, দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিএলআরআইয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আসলামুল আলাম, ট্রেইনি সহকারী মো. সানোয়ার হোসেন, সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত প্রোগ্রামার নূর মোহাম্মদ ও অফিস সহায়ক মো. আব্দুল কাদের, রাত ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ডিএলএসের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. ফারুক মিয়া ও ল্যাব টেকনেশিয়ান মো. শহিদ উল্যাহ দায়িত্ব পালন করবেন।

বুধবার (২৫ আগস্ট) সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন উপ-সচিব পুলকেশ মন্ডল ও ট্রেইনি সহকারী জগদীশ চন্দ্র দাস, দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিএলআরআইয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আসলামুল আলাম ও ট্রেইনি সহকারী মো. সানোয়ার হোসেন, সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ডিওএফের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন কর্মকর্তা মো. সামছুল আলম পাটওয়ারী ও অফিস সহায়ক মো. মফিজ হোসেন, রাত ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ডিএলএসের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এসএম নিয়াজ মোর্শেদ ও ল্যাব টেকনেশিয়ান জিএম শাহিনুর ইসলাম।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *