মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ০৬:৩১ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
ছেলে-মেয়েরা ফেল করবে কেন মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে ক্ষমতায়ন ছাড়া সমাজে নারীর অবস্থান উন্নত হবে না : প্রধানমন্ত্রী প্লিজ যুদ্ধ থামান, সংঘাত থামাতে সংলাপ করুন : শেখ হাসিনা বিশ্ব শান্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে বাংলাদেশের নারীরা : প্রধানমন্ত্রী খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচিবদের প্রতি নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর ৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সবাই ফেল পাসের হার ও জিপিএ ৫ এ এগিয়ে মেয়েরা এসএসসি ও সমমানে পাসের হার প্রায় ৮৭ শতাংশ এসএসসির ফল প্রকাশ বিবি বিদেশী সংস্থাগুলোকে এবং ইজেডের জেভিগুলোকে টাকায় ঋণ নেয়ার অনুমতি দিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপে কাউকে ব্লক না করে বিরক্তিকর পরিস্থিতি সামলানোর উপায় কৃষি কাজে পুরুষের সমান মূল্যায়ন চান নারীরা পিত্তথলির পাথরের চিকিৎসা : যা জানা জরুরি পুলিশের প্রতি ডিএমপি কমিশনার “বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট : বাংলাদেশের মুক্তির উপায়” শীর্ষক বার্ষিক সম্মেলন ভারতের ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতিতে বাংলাদেশ বিশেষ স্থান দখল করে আছে : মুর্মু বিএনপি আমাদের দেশের অতিথি পাখি : তথ্যমন্ত্রী  গুলিস্তান রেড জোনে উচ্ছেদ অভিযান, ৫ দোকানিকে কারাদণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে বয়সের বাধা রাখতে চাই না : শিক্ষামন্ত্রী কোরিয়দের হৃদয় ভেঙে টিকে রইল ঘানা লকডাউনবিরোধী বিক্ষোভের পর সাংহাইয়ে কড়া নিরাপত্তা অনন্যা ডাকলেও ‍মুখ ফিরিয়ে নিলেন শাহরুখ পুত্র জয়পুরহাটে ৫০ হেক্টর জমিতে এবার তিলের চাষ হয়েছে দুর্ভিক্ষ যাতে কখনই বাংলাদেশের ক্ষতি করতে না পারে সেজন্য আগে থেকে কাজ করুন : সচিবদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী দেশপ্রেমিক নেতা হিসেবে মোহাম্মদ হানিফ মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন আজীবন : প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ হানিফ তার কর্মের মাধ্যমে জনগণের হৃদয়ে চিরদিন বেঁচে থাকবেন : রাষ্ট্রপতি টুঙ্গিপাড়ায় ২০ জেলার ইজতেমা : জাতির পিতার সমাধিতে মুসল্লিরা শেখ হাসিনা সফটওয়্যার পার্ক আইটি খাতে বিনিয়োগ বাড়াবে অনলাইনে ৬৪ শতাংশ নারী হয়রানির শিকার রণবীর সিং চড়েন অ্যাস্টন মার্টিনে

‘সঠিক পুষ্টিতে সুস্থ জীবন’

অনলাইন ডেস্ক :
বুধবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২২, ৬:৫৪ পূর্বাহ্ন

কৃষিবিদ সামছুলআলম

প্রবাদে আছে স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। এসুখ ও স্বাস্থ্য অনেকটা নির্ভও কওে সুষম খাবার তথা পুষ্টির উপর। পুষ্টিকর খাবারের অভাব হলেই মানুষ স্বল্প মেয়াদী ও দীর্ঘ মেয়াদী নানা জটিলতার সম্মুক্ষীণ হন। বাংলাদেশের জনগোষ্ঠী বর্তমানে ২ রকমের অপুষ্টির শিকার। খাদ্যের অভাব জনিত পুষ্টিহীনতা এবং খাদ্য সংক্রান্ত দীর্ঘ মেয়াদি অসংক্রামক রোগের বিস্তার। খাদ্যের অভাব জনিত তথা পুষ্টিকর খাদ্যের অভাবে মানুষ খর্বকায়, নিম্ন ওজন এবং কৃশকায় হচ্ছে। অপরদিকে খাদ্য সংক্রান্ত দীর্ঘমেয়াদি অসংক্রামক রোগগুলো হলো স্থূলতা, উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার ও বেশিবয়সে হাড় নরম হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। এছাড়া শিশু মৃত্যুও অন্যতম প্রধান কারণ এই অপুষ্টি। পুষ্টিহীনতা শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশকে ব্যাহত করে। পুষ্টিহীন শিশু বহুবিধ সীমাবদ্ধতা নিয়ে বেড়ে ওঠে, ফলে পরিণত বয়সে তার পক্ষে সমাজ ও জাতির কল্যাণে যথাযথ অবদান রাখা সম্ভব হয়না। পুষ্টির অভাব জনিত নানা জটিলতা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে ১৯৯৮ সাল থেকে প্রতিবছর জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ পালন করে আসছে বাংলাদেশ। অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারো ‘সঠিকপুষ্টিতে সুস্থ জীবন’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে নিয়ে ২৩ এপ্রিল থেকে ২৯ এপ্রিল জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ পালিত হচ্ছে।
পুষ্টি হলো পরিবেশ থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্যবস্তু আহরণ করে খাদ্য বস্তুকে পরিপাক ও শোষণ করা এবং আত্তীকরণ দ্বারা দেহের শক্তির চাহিদা পূরণ, রোগপ্রতিরোধ, বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ করা। অর্থ্যাৎ দেহ সুস্থ ও সবল রাখার প্রক্রিয়াকে পুষ্টি বলে। একটি রাষ্ট্র গঠনের চারটি উপাদানের মধ্যে অন্যতম প্রধান উপাদান হলো মানুষ। আর এ মানুষকে সুস্থ-সবল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলতে পুষ্টির গুরুত্ব অপরিসীম। এ জন্য বাংলাদেশের সংবিধান পুষ্টিকে মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। সংবিধানের ১৮ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘জনগণের পুষ্টির স্তর উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতি সাধনকে রাষ্ট্র অন্যতম কর্তব্য বলিয়া গণ্য করিবে…’।
স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের নানা পুষ্টি সমস্যাছিল। মানুষের ওজন কম ছিল, স্বাস্থ্য কম ছিল, খর্বাকৃতির ছিলো। এখন তা কমে এসেছে। তবে নগরায়ণের ফলে পুষ্টি চ্যালেঞ্জ বেড়ে যাচ্ছে।
এানুষ বিভিন্ন উপাদান থেকে পুষ্টি পেয়ে থাকে৷মূলত ৬ টি উপাদানযথা:- আমিষ, শর্করা, স্নেহ পদার্থ, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি থেকে পুষ্টি লাভকরে থাকে। আর এসব উপাদানের অভাবে মানুষ গলগন্ড, রাতকানা, রিকেটস, রক্তশূন্যতাসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়। তাছাড়া বাংলাদেশের জনসংখ্যার মধ্যে এক তৃতীয়াংশের বেশি শিশু প্রোটিন ও ক্যালরিজনিতপুষ্টিহীনতায় ভোগে, যার মধ্যে খর্বাকৃতি ২৮ শতাংশ, কৃষকায় ৯.৮ শতাংশ এবং নিম্নওজনের রয়েছে ২৬.৬ শতাংশ (এমআইসিএস-২০১৯)। গড়ে এক চতুর্থাংশ মহিলা দীর্ঘস্থায়ী ক্যালরি জনিত অপুষ্টিতে ভোগে, যাদের অধিকাংশেরই দেহে একই সাথে জিংক, আয়রন ও আয়োডিনের স্বল্পতা রয়েছে।
মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে প্রাণিজ আমিষ একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আমাদের অনেক অর্জন সত্ত্বেও পুষ্টিতে বেশ পিছিয়ে আছি আমরা। খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) গাইড লাইন অনুযায়ী আমাদের শক্তির ৬০ শতাংশ আসার কথা শস্য জাতীয় পণ্য থেকে। ১০-১৫ শতাংশ আসার কথা আমিষ থেকে। এই আমিষের ২০ শতাংশ হবে প্রাণিজ আমিষ। এফএও এর সুপারিশ অনুযায়ী একজন সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষের দৈনিক ন্যূনতম ২৫০ মিলি দুধ ও ১২০ গ্রাম মাংস এবং বছরে ১০৪টি করে ডিম খাওয়া প্রয়োজন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, গবেষণাসংস্থা, বিজ্ঞানী,চাষী ও খামারীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে দেশে প্রাণিজ আমিষের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বর্তমানে দেশে মাথাপিছু মাছ, দুধ,মাংস ও ডিম গ্রহণের পরিমাণ যথাক্রমে দৈনিক ৬২.৫৮ গ্রাম, ১৯৩.৩৮ মিলি, ১৩৬.১৮ গ্রাম ও ১২১.১৮ টি। বিগত ১২ বছরে দুধ, মাংস ও ডিমের উৎপাদন যথাক্রমে ৫ গুণ, ৭ গুণ এবং ৪ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রাণিজ আমিষের অন্যতম উৎস্য মাছ থেকে পাওয়া যায় ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড যা হৃদরোগ প্রতিরোধসহ মেধা বিকাশ ও দৃষ্টি শক্তি বাড়ায়। এছাড়াও মাছে রয়েছে অধিক পরিমানে বিভিন্ন ধরনের খনিজ পদার্থ, ভিটামিন,অপরিহার্য অ্যামাইনোএসিড ও ট্রাইগ্লিসারাইড যা হাড় ও দাঁত গঠন,রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমানোসহ হার্ট অ্যাটাক ও ক্যান্সারের মত মরণব্যাধী প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। তাছাড়া গর্ভে থাকা শিশুর চোখ ও মস্তি¯ক গঠনেও মাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকরে। অন্যদিকে দুধ, ডিম ও মাংস শিশুর দৈহিকবৃদ্ধি ও মেধার বিকাশ করতে ও মানব দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এতে কওে বয়স্কদের অস্থি ক্ষয়রোধ, মানব দেহের প্রাণঘাতী ব্যাধী স্ট্রোক, হৃদরোগ, আথ্রাইটিস ও ক্যান্সারের ঝুকি কমায়। পাশাপাশি মানুষের দৃষ্টিশক্তি ও স্মরণশক্তি বৃদ্ধি করে। সর্বোপরি সুস্থ সবল মেধাবী জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে দুধ, ডিম ও মাংস।
বর্তমানে দেশে মানুষের গড় আয়ু বেড়ে দাড়িয়েছে প্রায় ৭৩ বছর। এ ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে পুষ্টি জাতীয় খাবার। পুষ্টিহীনতার পিছনে কাজ করে দেশের দারিদ্রতা। দেশে দারিদ্র্যতা কমলে পুষ্টিহীনতা কমবে। নারীর ক্ষমতায়ন করলে শিশুরা পুষ্টিহীনতায় ভুগবেনা। বর্তমানে দেশে দারিদ্র্যেও হার ২০ দশমিক ৫ শতাংশ। অতি দারিদ্র্যের হার ১০ দশমিক ৫ শতাংশ। সর্বোপুরি বলাযায়, বাংলাদেশকে ২০৩০ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে রূপান্তরিত করতে হলে পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
লেখক : মো. সামছুল আলম, গণযোগাযোগ কর্মকর্তা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর,
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়

 

 


এই বিভাগের আরো খবর