সদরপুরে গরু-ছাগল নিয়ে বিপাকে খামারী

সারাবাংলা

আলমগীর হোসেন, সদরপুর থেকে:
ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলায় কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে প্রতিবছর গরু-ছাগল বিক্রি করে বেশ লাভবান হচ্ছিলেন খামারীরা। ফলে এ উপজেলায় দিন দিন বেড়েই চলছিল খামারীদের সংখ্যা। এ উপজেলায় ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ৭ শতাধিক গরু-ছাগলের খামার রয়েছে। গত বছরের কোরবানীর ঈদে সদরপুরের খামারীরা খুব একটা লাভ করতে না পারলেও সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নতুন করে এ বছর তারা গরু-ছাগল পালনে বিপুল পরিমান অর্থ বিনিয়োগ করেন। কিন্তু করোনার ভয়াবহতা বেড়ে যাওয়ায় এবং দুই দফা লকডাউনের কারণে গরু-ছাগল বিক্রি না হওয়ায় আশংকা দেখা দিয়েছে। ফলে সদরপুরের কয়েকশ খামারীদের মাথায় হাত পড়েছে। বিগত বছওে ঈদের এক মাস আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা গরু কিনে নিয়ে যেতেন। এ বছর এখন পর্যন্ত কোনো গরু-ছাগল বিক্রি করতে পারেনি কোনো খামারী। ফলে চরম দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন খামারীরা।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের চরব্রাক্ষন্দ্রী গ্রামের গরুর খামার মালিক ফারুক হাওলাদার জানান, সারা বছর পরিশ্রম করে এবং বিপুল পরিমান অর্থ বিনিয়োগ করার পর গরু বিক্রি করে লাভবান হবার আশায় এ বছর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল অর্থ ঋণ নিয়ে গরু লালন-পালন করেছি। আমার খামারে শতাধিক গরু রয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত একটি গরুও বিক্রি করতে পারিনি। গো-খাদ্যের অতিরিক্ত দাম থাকায় গরু লালন-পালনে খরচও হয়েছে বেশী। সদরপুরের বেশ কয়েকজন খামারী তাদের খামারে থাকা গরু-ছাগল নিয়ে চরম দুঃশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন।
সদরপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সুদেব কুমার দাশ বলেন, কোরবানিকে সামনে রেখে সদরপুওে এ বছর আমরা গরু মোটা-তাজা করণের জন্য ৬শ ৫২টি খামার মালিকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেছি। প্রায় ২ হাজার গরুকে স্বাস্থ্য সম্মত খাবার পরামর্শ দিয়ে মোটা-তাজা করন করা হয়েছে। করোনার কারণে খামারের মালিকেরা গরু-ছাগল নিয়ে নানা সমস্যার মধ্যে রয়েছেন বলে তারা জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *