সন্ধ্যা হলেই জমে চোরাই বাজার

সারাবাংলা

রানা আহমেদ, কেরানীগঞ্জ থেকে : ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলী গোলচত্বর থেকে সড়ক দিয়ে কিছুদূর এগোলেই বাবুবাজার সেতু। আর সন্ধ্যা হলেই সেতুর প্রবেশমুখ কদমতলী সড়ক-ফুটপাত দখল করে পসরা সাজিয়ে বসে সারি সারি মোবাইল দোকান। দূর থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই ফুটপাতে কীসের ভিড়। দোকানিদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানায়, কম দামে মুঠোফোন বিক্রি হয় এখানে। বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে জানা যায় চোরাই মুঠোফোনের বেচাকেনা হয় এই মার্কেটে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে চুরি বা ছিনতাই হওয়া মুঠোফোনগুলোর একটা অংশ বিক্রি হয় এখানে। আর এসব দোকানে বেশি দামের মুঠোফোন অল্প দামে কিনতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। হতে হচ্ছে প্রতারণার শিকার। অনেকে আবার পুলিশি ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে চোরাই মুঠোফোন কিনে।

জানা যায়, চুরি বা ছিনতাই করা করা মুঠোফোন আইএমইআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি) নম্বর বদলে দামি ব্র্যান্ডের মুঠোফোন অর্ধেক দামে বিক্রি হয় এই মার্কেটে। আইএমইআই নম্বর পরিবর্তনে তাদের রয়েছে নিজস্ব ইঞ্জিনিয়ার ও সফটওয়্যার। আইএমইআই বদলে ফেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও মুঠোফোন চোরকে শনাক্ত করতে পারছে না। সরেজমিনে দেখা যায়, কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ থানার আওতাধীন, কেরানীগঞ্জ মডেল থানা ও ঢাকা জেলা দক্ষিণ ডিবি কার্যালয়ের খুব কাছে কদমতলী গোলচত্বর এলাকায় বসছে চোরাই মুঠোফোনের মার্কেট। সড়ক ও ফুটপাথ দখল করে বসা এই মার্কেটের কারণে এলাকাবাসীর ভোগান্তিতে পড়তে হয় প্রতিনিয়ত।

মুঠোফোন মার্কেটের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া এক পথচারী আবুল বরকত বলেন, এ মুঠোফোন মার্কেটের কারণে স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলাচল করতে পারে না। পথচারীদের হাঁটা-চলায় বিঘ্ন ঘটে। প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা হয়। নারী গার্মেন্টস কর্মীর ছুটির পর এই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় দোকানিরা বাজে কথা বলে উত্ত্যক্ত করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, দেশে করোনা সংক্রমণের মধ্যেও স্থানীয় প্রভাবশালী নেতার লোকজন এ বাজার বসিয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চাইলে যেকোনো সময় এই মুঠোফোন মার্কেট উচ্ছেদ করতে পারে, কিন্তু করছে না। কারণ তারা এখান থেকে টাকা পায়।

চোরাই মুঠোফোন বিক্রি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নাছির নামের এক দোকানদার বলেন, আমি এখানে বেশি দিন ধইরা দোকানদারী করি না। এখানে অনেক পরনো দোকানদার আছে। করোনাভাইরাসের আগে এখানে অনেক দোকান বসত, এখন একটু কম বসে। এখন তেমন বেচাকেনা তেমন হয় না। কেনার থাইকা দেখতেই আসে বেশি মানুষ। এখানের সব মুঠোফোন চোরাই না। কিছু আছে পুরনো, ভালো ব্র্যান্ডের মুঠোফোন। ভালো-খারাপ মিলিয়ে বিক্রি হয়। আরেক দোকানি আলিম বলেন, এই মার্কেট প্রতিদিন বিকেল ৫টা থাইকা রাত ১০টা পর্যন্ত বসে। এখানে অনেক আগের থাইকাই চোরাই মুঠোফোন বেচাকেনা হয়। প্রায়ই পুলিশ গাড়ি এসে এখানে বসে থাকে কিছুক্ষণ পরে চলে যায়। আমাদের কিছু বলে না। নেতার লোক আসে টাকা নিয়ে যায়। এইভাবেই চলতাছে আমাদের ব্যবসা। এদিকে সড়ক দখল করে বসা অবৈধ এ বাজার সম্পর্কে আগানগার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর শাহ্ বলেন, এটা আমার দায়িত্ব না, থানার দায়িত্ব। আমার কিছু করার নেই, আপনি থানায় বলেন বলে লাইনটি কেটে দেন। সড়কের উপর এসব অবৈধ দখলদার প্রসঙ্গে ঢাকা জেলা (দক্ষিণ) ট্রাফিকের ওসি পিযুষ বাবু বলেন, আমরা সড়কের যানজটের বিষয়টি দেখি। অবৈধ স্থাপনার বিষয়টি দেখে থানা পুলিশ। এজন্য তিনি থানা পুলিশের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। এ বিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। অতি দ্রুত এগুলো উচ্ছেদের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *